প্যাপাইরাস পত্রিকার কর্মপন্থা

১.০ সংজ্ঞা:
‘পত্রিকা’ বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান, প্রাণপরিসংখ্যান ও তথ্যপরিসংখ্যান বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা ‘প্যাপাইরাস’-কে বোঝাবে যা সর্বশেষ ২০০৪ সালে ‘প্যাপিরাস’ নামে পরিসংখ্যান বিভাগের ষান্মাসিক মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলো।
‘বিভাগ’ বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান, প্রাণপরিসংখ্যান ও তথ্যপরিসংখ্যান বিভাগকে বোঝাবে।
‘একাডেমিক কমিটি’ বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান, প্রাণপরিসংখ্যান ও তথ্যপরিসংখ্যান বিভাগের একাডেমিক কমিটিকে বোঝাবে।
‘ছাত্র উপদেষ্টা’ বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান, প্রাণপরিসংখ্যান ও তথ্যপরিসংখ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বা একাধিক ছাত্র উপদেষ্টাকে বোঝাবে।
‘চেয়ারম্যান’ বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান, প্রাণপরিসংখ্যান ও তথ্যপরিসংখ্যান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধানকে বোঝাবে।
‘সভাপতি’ বলতে প্যাপাইরাস পত্রিকার সম্পাদনা পর্ষদের প্রধানকে বোঝাবে।
‘সাধারণ নীতিমালা’ বলতে প্যাপাইরাস পত্রিকা পরিচালনা সংক্রান্ত একাডেমিক কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত নীতিমালাকে বোঝাবে।

২.০ উদ্দেশ্য:
পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত পাঠ্যসূচির পাশাপাশি আত্মিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি প্যাপাইরাসের উদ্দেশ্য। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী ভাবনা দ্বারা সৃষ্টিশীল রচনা তৈরীর মাধ্যমে মত প্রকাশের দক্ষতা তৈরীতে প্যাপাইরাস বিভিন্ন প্রয়াস গ্রহণে সচেষ্ট থাকবে। এছাড়া প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের চিন্তার সেতুবন্ধন তৈরীও প্যাপাইরাস-এর উদ্দেশ্য।

৩.০ পত্রিকার মূল নীতি:
প্যাপাইরাস পত্রিকাটি একটি সাধারণ সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হবে যেখানে সাধারণ ভাবে শুধুমাত্র পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীগণ তাদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ পাবেন। পত্রিকাটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোন বিষয়ে মত প্রকাশের পাশাপাশি নিরেট সাহিত্য চর্চার সুযোগ প্রদান করবে। এ সকল ক্ষেত্রে সাহিত্যিক মূল্যবোধকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব প্রদান করা হবে। যে কোন রচনা প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা, শিল্পগুন, চিন্তাশীলতা ও বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে বিভিন্ন রচনা মনোনয়নের ক্ষেত্রে আক্রমণাত্মক, ব্যাঙ্গাত্মক, জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর, কোন গোষ্ঠীর আবেগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন এবং অশ্লীলতা রচনা পরিহার করা হবে।

৪.০ কমিটি:
প্যাপাইরাস পত্রিকা পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে দুইটি পর্ষদ দায়িত্ব পালন করবে – উপদেষ্টা পর্ষদ ও সম্পাদনা পর্ষদ।

৪.১ উপদেষ্টা পর্ষদ:
পরিসংখ্যান বিভাগ-এর ‘অধ্যাপক’ পদবীধারী সকল শিক্ষক ও ছাত্র উপদেষ্টা পদবীধারী শিক্ষক উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। এক্ষেত্রে বিভাগের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য হবেন এবং সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি উপদেষ্টা পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। প্যাপাইরাস পত্রিকার কোন সংখ্যা প্রকাশের ৩০ দিন পূর্বে উপদেষ্টা পর্ষদের চূড়ান্ত তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রকাশিতব্য পত্রিকার চূড়ান্ত খসড়া’র বিষয়ে উপদেষ্টা পর্ষদের মতামত গ্রহণ করা হবে। এছাড়া নিয়মিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও উপদেষ্টা পর্ষদকে অবহিত করা হবে। উপদেষ্টা পর্ষদ-এর সদস্যগণ ‘স্বেচ্ছাসেবী’ কার্যক্রম হিসেবে উপদেষ্টা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থাৎ উপদেষ্টা পর্ষদে দায়িত্ব পালনের জন্য কোন সদস্য কোন ধরনের ভাতা বা সম্মানী প্রাপ্ত হবেন না।

৪.২ সম্পাদনা পর্ষদ:
প্যাপাইরাস পত্রিকার সম্পাদনা পর্ষদ সাধারণভাবে ৫(পাঁচ) সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে কোন সুযোগ্য ব্যক্তিকে বিভাগের একাডেমিক কমিটি মনোনয়ন করবে। সম্পাদনা পর্ষদের অবশিষ্ট সদস্যগণ পর্ষদের সভাপতি কর্তৃক মনোনয়ন করা হবে। এক্ষেত্রে অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে ১(এক) জন আবশ্যিকভাবে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী থেকে মনোনয়ন প্রদান করা হবে। কার্যোপদ্দেশ্যে সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি পর্ষদের আকার বৃদ্ধি করতে পারবেন তবে তা অনুর্ধ্ব ৭(সাত) সদস্যের হবে। সম্পাদনা পর্ষদ নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পত্রিকার সামগ্রিক কর্মপন্থা নির্ণয় করবেন ও সে মোতাবেক কর্ম পরিচালনা করবেন। সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি পর্ষদের সদস্যদের মাঝে প্রয়োজন মোতাবেক বিভিন্ন দায়িত্ব বণ্টন করবেন। সম্পাদনা পর্ষদের সদস্যগণ দায়িত্ব পালনের জন্য কোন ধরনের ভাতা, সম্মানী কিংবা অন্য কোন ধরনের আর্থিক বা সমমানের সুবিধা গ্রহণ করবেন না।

৪.৩ কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি:
সম্পাদনা পর্ষদ নিয়মিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারণভাবে বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমন্বয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট পরিচালনা কমিটি সময়ে সময়ে গঠন করতে পারবে। প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশনার পূর্বে সম্পাদনা পর্ষদ নতুনভাবে এ সকল কমিটি গঠন করবে। এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত অধ্যয়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি সম্পাদনা পর্ষদ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে। কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় (যেমন, যাতায়াত ভাতা, আনুষঙ্গিক প্রভৃতি) সম্পাদনা পর্ষদ-এর সিদ্ধান্তক্রমে প্রদান করা যেতে পারে।

৫.০ পত্রিকার ব্যয় সম্পাদনে তহবিল সংগ্রহ:
সম্পাদনা পর্ষদ পত্রিকার সামগ্রিক ব্যয় সম্পাদনে তহবিল সংগ্রহের উপায় সম্পাদনা পর্ষদ নির্ণয় করবে। এক্ষেত্রে তহবিল সংগ্রহের জন্য পত্রিকার বিক্রয় মূল্য, বিজ্ঞাপন সংগ্রহ, দান, অনুদান প্রভৃতি মাধ্যম ব্যবহার করা হবে।

৫.১ পত্রিকার বিক্রয় মূল্য:
সম্পাদনা পর্ষদ পত্রিকার প্রতি সংখ্যা প্রকাশের পূর্বে এর বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করবে এবং পত্রিকার গায়ে বিক্রয় মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৫.২ বিজ্ঞাপন:
পত্রিকার সম্পাদনা পর্ষদ প্রতি সংখ্যা প্রকাশের পূর্বে এর বিভিন্ন স্তরে প্রদানকৃত বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণ করবে। উক্ত মূল্য উলে−খ করে একটি মূল্য হার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে যেখানে কত তারিখ থেকে উক্ত মূল্য হার কার্যকর হবে তা সুস্পষ্টভাবে উলে−খ করা থাকবে। বিজ্ঞাপন আহ্বান করে সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতির স্বাক্ষরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নিকট পত্র প্রদান করা যাবে। বিজ্ঞাপনের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ নগদ বা ব্যাংক-এর মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দাতার জন্য সুবিধাজনক মাধ্যমকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। যে কোন মাধ্যমেই বিজ্ঞাপনের অর্থ গ্রহণ করা হোক না কেন বিজ্ঞাপন দাতাকে সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি কিংবা সম্পাদনা পর্ষদের অন্য যে কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যের স্বাক্ষরে অর্থ গ্রহণ সংক্রান্ত রশিদ প্রদান করা হবে।

৫.৩ দান/অনুদান:
পত্রিকার ব্যয় সম্পাদনের জন্য সম্পাদনা পর্ষদ উপযুক্ত রশিদ প্রদান সাপেক্ষে যে কোন ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক দান বা অনুদান গ্রহণ করতে পারবে। বিজ্ঞাপন ও দান/অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে পত্রিকার নীতিমালা পরিপন্থী হয় এ ধরনের তহবিল গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পাদনা পর্ষদ সতর্ক থাকবে।

৬.০ হিসাব পরিচালনা:
পত্রিকার আয়-ব্যয় ও অন্যান্য হিসাব পরিচালনার জন্য সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি পর্ষদের কোন একজন সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করবেন। উক্ত সদস্য এক্ষেত্রে হিসাব পরিচালনায় সহায়তার জন্য প্রয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনার কোন সদস্যকে সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতির অনুমতি সাপেক্ষে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি হিসাব সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়মিতভাবে তত্ত্বাবধান করবেন এবং প্রতি প্রকাশনার অব্যবহিত পরে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশনার হিসাব সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবেন। প্রতিটি প্রকাশনার ক্ষেত্রে সম্পাদিত ব্যয় অতিরিক্ত যে তহবিল থাকবে তা পরবর্তী প্রকাশনা সংক্রান্ত ব্যয় কিংবা পত্রিকা সংক্রান্ত কোন ব্যয়েই শুধুমাত্র ব্যবহার করা যাবে। পত্রিকা পরিচালনার ব্যয় সংক্রান্ত একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি ও অপর দুই জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হবে। এক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে সম্পাদনা পর্ষদের সভাপতি ও অপর দুই জন সিগ্নেটরীর যে কোন একজন সিগ্নেটরীর স্বাক্ষরে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।

৭.০ সাধারণ নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও অনুমোদন:
পত্রিকা পরিচালনা সংক্রান্ত সাধারণ নীতিমালার কোন ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন-এর প্রয়োজন হলে সম্পাদনা পর্ষদ তা স্ব-প্রণোদিত হয়ে সম্পাদন করে সংশোধিত নীতিমালা প্রয়োজন মোতাবেক বিভাগের একাডেমিক কমিটি কর্তৃক অনুমোদন গ্রহণ করবে। অনুমোদন লাভের তারিখ থেকে তা কার্যকর হবে।

৮.০ বিবিধ:
পরিসংখ্যান বিভাগ-এর প্রাক্তন/বর্তমান শিক্ষার্থীর পত্রিকা সংক্রান্ত যে কোন তথ্য জানার অধিকার থাকবে।


0