স্যারের সাথে শেষ দেখা

শ্রদ্ধেয় আতাহার স্যারের কাছে গবেষণার হাতে খড়ি নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি এখনো ভাবি স্ট্যাটিসটিকস ডিপার্টমেন্টের সেই ছোট্ট রুম এ বসে আমরা বিশ্বমানের গবেষণার প্রশিক্ষণ পেয়েছিলাম। স্যারের সাথে শেষ দেখা হওয়ার স্মৃতিটা খুব মনে পড়ছে। দুই বছর আগে হবে, স্যার তখন আইএসআরটি তে, প্রচুর ব্যস্ত। আমি তখন পিএইচডি স্টুডেন্ট ছিলাম, সকাল দশটার আগে যেতে পারিনি। বাইরে অপেক্ষা করছি তো করছি, একের পর এক ভিজিটর ছিল। স্যার জানালেন এমনি চলবে সারা দিন, খুব সকালে কিছুটা ফ্রি থাকেন। আমার গবেষণার কাজ নিয়ে অনেকক্ষণ কথা বললেন। তুলনামূলকভাবে নতুন এবং কঠিন কনসেপ্ট হওয়াতে ভেবেছিলাম স্যার হয়তো এটা নিয়ে তেমন কিছু জানবেন না। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে স্যার অনেক বিস্তারিত আলাপ করলেন, ভালো ডেটাসেট এ প্রয়োগ করতে বললেন, সেই সাথে প্রচুর সাজেশন দিলেন। স্যার এতটাই ডিটেইলস এ প্রশ্ন করছিলেন যে আমি আরেকটু হলেই বলে ফেলছিলাম, স্যার, মাফ করে দেন আর জানিনা। কতটা মেধাবী আর নিবেদিতপ্রাণ হলে এত বিশাল জ্ঞান অর্জন করা যায় তা ভেবেছি অনেক। স্যার বলছিলেন তিনি ইদানিং ক্লান্তি বোধ করেন; বছরের পর বছর একই রকম কাজ করে যাচ্ছেন, একই রকম স্টুডেন্ট, একই রকম সমস্যা, কোন পরিবর্তন নেই। আমি নিজেও একজন ফাঁকিবাজ স্টুডেন্ট ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন শেষে একটা পেপারের কাজ করছিলাম স্যারের সাথে। সপ্তাহে একবার কাজ দেখানোর আগে মাথা নষ্ট হয়ে যেত, কাজ তো এগোয়নি, কী অজুহাত দিব! স্যার বলতেন, আপনি চার-পাঁচ ঘণ্টা (সঠিক মনে নেই) একটু মনোযোগ দিয়ে কাজ করলেই তো কাজটা এগিয়ে যায়! তখন মনে হয়েছিল তাই তো, দুই-তিন ঘণ্টাও তো পুরো সময় দেয়া হয়নি, বেশিরভাগ সময়ই দুশ্চিন্তা করে আর কী অজুহাত তৈরি করব তা নিয়ে ভেবে কাটিয়েছি।

স্যারকে দেখে খুব মনে হয়েছিল ‘Professor Emeritus’ হলে শুধুই নিজের ইচ্ছে মত গবেষণা করে যেতে পারতেন। অনেক অনেক কাজ করে গিয়েছেন আমাদের প্রিয় স্যার। চির শান্তিতে থাকুন এই দোয়া করি।

কমেন্ট করুন

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.