নিরবে ও নিভৃতে

কলমের কালি ফুরোয়।
খসখসে শব্দ
তারই জানান দেয়।
সহস্র পাতাগুলো পড়ে রয় একাকী।

নিরবে, নিভৃতে।

শত শত শব্দ ও বাক্যের ভীড়ে,
কালির প্রতিটি আঁচড়ে লুকিয়ে রয়
কালচে অনুভূতিগুলো।
প্রতিটি পাতার কান ফাটানো চিৎকার
প্রকৃতি শুনে কুলোতে পারে না।
তাদের করুণ আহাজারিতে
ভেঙে চুরমার হয়
মিথ্যে প্রাসাদঘর।

এ ধ্বংস দেখেও রয় অদেখা।
তারা রয়ে যায় একপাশে,
কোনো এক নামহীন ঘরের
জীর্ণ দেয়ালের গল্প হয়ে।

নিরবে,নিভৃতে।

এ শহরের যান্ত্রিকতা
অনুমোদিত মাদকস্বরুপ।
অনুমতি পাওয়া আছে তার,
নিষ্পাপ ক্লান্ত ফুলের কলিকে
নির্দ্বিধায় গ্রাস করবার।
সেই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে যায়,
ঘটেছিল, ঘটে যাবে।
তবুও এই মহাকাল রবে নির্বাক,
রবে সে নিশ্চুপ।

নিরবে,নিভৃতে।

রাতজাগা পাখিদের ভীড়ে
না বলা গল্পগুলো স্থান পাবে।
বিনোদন রুপে।
দিনের আলো ছুঁতেই
গল্পগুলোর কবর হবে।
তাদের অন্তরসের ঘ্রাণ
অচেনাই রয়ে যাবে।
মৃত্তিকাসার রুপে
পড়ে রবে একাকী।

নিরবে, নিভৃতে।

এই মিথ্যে শহরের ভোরের আলো,
আকাশের ছোপ ছোপ রক্তিম স্পর্শ,
ঘাসে ফুটে থাকা চকমকে মুক্তো,
আত্মিক স্নিগ্ধতায় আর আনে না
কোনো শান্তিময় নতুনত্ব।

একসময় থমকে যায় এই ক্লান্ত কলম।
কবির শব্দশ্রেণির জট
আরও হয় কঠিন।
কঠিন থেকে কঠিনতর।
থমকে যায় সময়
থেমে যায় গল্প।
হাহাকার খুঁজে বেড়ায়,
বিষণ্নতার স্পর্শে প্রসন্নতা।
আরেকদল দেহখান করে বিসর্জন,
কাঠগড়ায় দাঁড়ায় নির্বিকার সভ্যতা।

গল্পকার নিরবই রয়।
শত বর্ণে রচিত
গল্পগুলির চিৎকার,
সবই থেমে যায়।
বাগানের শুকনো ফুল ঝরে গেলে
তাকে বিদায় দিতে হয়।
ঝরে পড়ার কারণ প্রকাশে,
পোহাতে হয় নানা সংশয়।

এ যান্ত্রিক জগতে স্থান পেতে হলে
যন্ত্র হতে হয়।
হাজারো অনুভূতি নাম পায়
“অনাবশ্যক”,” মূল্যহীন”।
কোনো নিঃসঙ্গ অবসরে
থাকে তারা অযতনে
গোপন সরোবরে।
কেই বা দেয় তাদের পিছুডাক?

তবুও পাতাগুলো
একাকী পড়ে রয়।
গুনে যায় প্রহর।
কেউ যদিবা দেয় পিছুডাক,
যদি শুনতে চায়
কোনো এক নশ্বর রচিত,
ক্লান্তিকর কবিতা।
তবে শুনে যাক।
একরাশ আশা নিয়ে
পড়ে রয় তারা
পরিত্যক্ত সেই নির্জন আবাসে।

নিরবে ও নিভৃতে।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৯ - ২০২০

সায়মা শাহরিয়ার রহিতি

সেশনঃ ২০১৯ - ২০২০

0