সফল হোক সকল মঙ্গল প্রয়াস

স্নেহের প্যাপাইরাস,

          স্নেহের বললাম বলে অবাক হয়ো না। তোমার যে এটা তৃতীয় জন্ম তুমি কি সেটা জানো? পূর্বজন্মের কোনো স্মৃতি মনে আছে তোমার? না থাকলেও আপাতত কোনো সমস্যা নেই। মনে করিয়ে দেবার দায়িত্বটুকু আপাতত আমার ঘাড়েই নিচ্ছি। প্রথমবার তোমার জন্ম হলো নিরানব্বইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। সেই হিসেবে তুমি আমার বছর দেড়েকের ছোট। এইবার বুঝেছ নিশ্চয় কেন স্নেহের বলে সম্বোধন করেছি।

সে যাই হোক, সে বার তুমি বেঁচে ছিলে বছর পাঁচেকের মতো। তোমার প্রথম পুনর্জন্ম হলো দু’হাজার পনেরতে এসে। সে বার আমাদের মন্দ ভাগ্যের গুণে বছরকাখানেকও টিকলে না তুমি। অবশ্য আমি তোমার এই দুই জন্মের শোনা গল্পই তোমাকে শুনালাম; মাকে মামার বাড়ির গল্প শুনানোর মতো আর কি। তবে আমি তোমার দ্বিতীয় জন্মের একজন প্রত্যক্ষদর্শী।

তখনও তুমি ভূমিষ্ঠ হওনি। মাতৃজঠরে প্রস্তুতি নিচ্ছ পৃথিবীর আলো-বাতাস অবলোকন করবে বলে। তোমাকে এই বসুধা মাতার বদন দর্শন করাবে বলে কিছু মানুষের সেকি প্রবল তৃষ্ণা, সেকি নিরন্তর ছোটাছুটি! তুমি আবার ভেবে বোসো না, এই মানুষগুলোর মধ্যে আমিও একজন। আমি আগাগোড়া একজন দর্শক মাত্র।

তুমি জন্মালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাশের যে কাজী মোতাহার হোসেন ভবন সেইখানটাতে, চারতলার কোণার এক ঘরে, বৈশাখের এক তপ্ত দুপুরে, দু’হাজার ঊনিশে। আর সবার মতো আমিও গেছিলাম দেখতে। কী আবেগ আর পরম মমতায় সকলে আপন করে নিল তোমাকে! এরপর থেকে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের অমূল্য ভালোবাসা আর স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছে তোমাকে; তুমি যাতে করে সুস্থ কলেবরে দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকো, সে জন্য দিয়ে যাচ্ছে তাঁদের নিঃস্বার্থ শ্রম।

অবশ্য তোমার শরীরের এক অংশজুড়ে আমিও বিচরণ করছি। সেটা কি তুমি টের পাও? কত মমতায় সকলে মিলেমিশে তোমার এই শরীরকে গড়ছে ভেবেই আমি অবাক হই! কী অনিন্দ্যসুন্দর, নিপুণ সকলের চিন্তাচেতনা! কী দক্ষতা! তুমি পৃথিবীতে না আসলে এই বৃহৎ হৃদয় মানুষগুলোকে হয়তো চিনতেই পারতাম না। ধন্যবাদ তোমাকে। এইবারও তো আর হঠাৎ করে হারিয়ে যাবার তাড়া নেই তোমার? তুমি কি জানো বাংলা নতুন বছর শুরু হয়েছে আজ থেকেই? তোমার জন্য একটি অণুকবিতা লিখেছি, শোন:

আসলো আবার নবীন বছর সাজলো আবার ধরা,
দূর হয়ে যাক অসৎ যারা, বিবেবকটা দিক নাড়া।
থাকুক ভালো, ভালো মানুষ, তুমিও থেকো ভালো
তিমিরটুকুর চাইনে দেখা, চৌদিকে হোক আলো।

ভালো থাকুক প্যাপাইরাস পরিবার,

ভালো থাকুক পরিসংখ্যান পরিবার,

ভালো থাকুক এ পৃথিবী।                                                                      

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৬-১৭

হরিপদ শীল

সেশনঃ ২০১৬-১৭

0