মাধবী লতা (Hiptage benghalensis (L.))

মাধবী Malpighiaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর বোটানিক্যাল নাম Hiptage benghalensis (L.)। মাধবীর hiptage নামটি এসেছে গ্রিক hiptamai থেকে, যার মানে হল “উড়ে যাওয়া”। “Bengalensis” অংশটি জানিয়ে দেয় এটি আমাদের একান্ত আপন একটি দেশীয় প্রজাতি। মাধবীর আদি নিবাস ভারত, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং ফিলিপাইন। বিভিন্ন আবহাওয়াতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। উষ্ণ বা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাল জন্মে। হাওয়াই, অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস এবং আরও কোন কোন দেশে মাধবীকে আগাছা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংস্কৃত ও বাংলায় মাধবী বা মাধবীলতার অনেক নাম: মণ্ডপ, কামী, পুস্পেন্দ্র, অভীষ্টগন্ধক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক ও ভ্রমোরৎসব। এক সময় পুণ্ড্রক দেশে তথা  ময়মনসিংহে মাধবী প্রচুর পাওয়া যেত বলে  এর আরেক নাম পুণ্ড্রক। মাধবী গাছ দীর্ঘজীবী ও বহুবর্ষী লতানো উদ্ভিদ। মাধবীর মূল লতাটি সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে বেশ মোটা হয়ে যায়। ডাল দু’ তিন বছর পরপর কেটে দিলে লতা যতই বাড়তে থাকে ততই নতুন নতুন ডালপালা গজায় আর ফুলের সংখ্যা বেশি হয়। মাধবীর মোটা ডালের মেটে রঙের ছালের  ভেতরের অংশ  কাষ্ঠল ও লালচেত। পাতা দেখতে অনেকটা চাঁপা ফুলের পাতার মত, বিপরীতমুখী, আয়তাকার,  এবং লম্বায় সাধারণত ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক বাগানে একসময় যত্ন করে মাধবী লাগানো হত। বিশ্বকবির গান ও কবিতায় অনেকবার এই মাধবীর নাম এসেছে। 

মাধবী বৃক্ষারোহী লতা হলেও এর ডাল ছোট ছোট এবং ঝোপঝাড় হয়ে যায় বলে একে ছেঁটে গুল্মের আকৃতিতে রাখা যায়। মাধবীর সুবিন্যস্ত ফুল গুচ্ছাকারে ফোটে । এর মুকুলগুলো সূক্ষ্ম রোমে ভরা। পাঁচ পাপড়ির ফুলগুলি  সাদা বর্ণের যার পঞ্চম পাপড়িটির গোঁড়ার দিক হলদেটে। মাধবীর ফুল অত্যন্ত সুগন্ধি। প্রধানত বসন্ত ও গ্রীষ্ম ঋতুর ফুল হলেও কখনো কখনো বর্ষা পর্যন্ত ফোটে। ফুল থেকে বীজ হয় এবং তা রোমশ ও ডানাযুক্ত। মাধবীর বীজ তিন ডানা যুক্ত যা বাতাসে ভেসে ছড়িয়ে যায়।

মাধবীর জন্য তেমন একটা যত্নের প্রয়োজন নেই, এরা অযত্নেই  জন্মে, অযত্নেই বাড়ে। ডানা যুক্ত বীজ বাতাসে উড়ে গিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে বংশ বিস্তারে সাহায্য করে। মাধবীর বৃদ্ধি ধীর হলেও এর চারা করা খুব সহজ। বীজ থেকে  ডাল কেটে মাটিতে পুঁতে  চারা করা  যায়। তবুও  আমাদের একান্ত দেশি এই লতা গাছটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে যেতে এখন প্রায় দুষ্প্রাপ্য । ইদানিং সৌখিন বাগানীরা কেউ কেউ আদর করে তাদের বাগানে স্থান দিয়েছেন। ভেষজ চিকিৎসায় মাধবীর ব্যবহার কম নয়। মাধবী লতার পাতা ও ডালের রস, শুকনো ছালের গুঁড়ো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। পুরানা বাত সারাতে মাধবিলতার পাতার রস, হাঁপানির শ্বাসকষ্টের জন্য পাতা ও ডালের রস এবং বিষাক্ত ঘা সারিয়ে তুলতে মাধবীলতার শুকনো ছালের গুঁড়ো ব্যবহার হয় । কুষ্ঠ রোগের ভেষজ চিকিৎসায় মাধবীর ব্যবহার উল্লেখ্য ।

তথ্যসূত্র : https://bn.wikipedia.org/wiki/মাধবীলতা
কমেন্ট করুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ১৯৯২ - ১৯৯৩

জাহিদা গুলশান

প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেশন: ১৯৯২ - ১৯৯৩

0