পৃথিবীর মহাবিপন্ন সন্তানেরা

যদি একবার ঠিকভাবে চিন্তা করি তাহলে আমরা প্রত্যেকে কতগুলো প্রাণি দেখেছি তা প্রায় হাতে গুনে বলে ফেলতে পারবো বলেই আমার ধারণা (কীট-পতঙ্গ বাদে অবশ্যই!)। হয়তো দুই-একটা বাদ পড়ে যেতে পারে, তবুও বলা যায় আমাদের চোখ খুব বেশি পশু-পাখি দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেনি এবং তাই আমাদের মস্তিষ্কেরও খুব বেশি খাটাখাটনি করার প্রয়োজন পড়েনি সেগুলোকে মনে রাখতে।

বিজ্ঞানীদের ধারণামতে, সারাবিশ্বে প্রায় ২ মিলিয়নের মত প্রজাতি আছে যারা প্রাণিজগতের অধিবাসী। এবং এরমধ্যে প্রায় ৮৬ ভাগ স্থলজ এবং ৯১ ভাগ জলজ প্রজাতির প্রাণিদেরকে আবিষ্কার বা ব্যাখ্যা করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি (আমার নিজেরও প্রথমে পড়ে বিশ্বাস হয়নি!)। অবিশ্বাস্য রকমের বৈচিত্র্য এই প্রাণিজগতেরই কিছু সদস্য আবার প্রাকৃতিক এবং অধিকাংশ সময় মানবসৃষ্ট কারণে হারিয়েছে পৃথিবীর বুকে তার শেষ সদস্যটিকেও।

পৃথিবীর ৫টি মহাবিপন্ন প্রাণিকে নিয়েই আমার এই লেখা। লেখা লিখতে গিয়ে আমার প্রচণ্ড কষ্ট হয়েছে এই ভেবে যে, শুধুমাত্র লোভের বশবর্তী হয়ে এবং স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষ পৃথিবীর কিছু সন্তানদের কিভাবে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে নির্মমভাবে ঠেলে দিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত দিচ্ছে।

প্রাণিজগতের আগে যদি বৈচিত্র্যময় শব্দটি আর বসতে না পারে তবে সেই দায়ভার কিন্তু আমাদের। আমি আশা করবো ভবিষ্যত প্রজন্মকে আমরা যেন এমন একটা পৃথিবী উপহার দিয়ে যেতে পারি যেখানে এই ধরণের লেখার  প্রয়োজন আর কখনোই হবে না।

১.সাউথ চায়না টাইগার

জনসংখ্যা- বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত

রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে আমাদের কেন সচেতন হতে হবে সেটি বোঝার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হলো সাউথ চায়না টাইগার। বর্তমানে ধারণা করা হয় এটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উপ-প্রজাতিদের মধ্যে একটি। গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে একটি সাউথ চায়না টাইগারকেও বন্য পরিবেশে দেখা যায়নি।

সাউথ চায়না টাইগার বাঘেদের বিভিন্ন উপ-প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে ছোট আকারের হয়। ১৯৫০ সালের দিকে প্রায় ৪০০০ সংখ্যক সাউথ চায়না টাইগার ছিলো বলে ধারণা করা হয়। এরপর মাও সেতুং এর বিখ্যাত ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ ক্যাম্পেইন এর আওতায় থাকা ‘অ্যান্টি-পেস্ট’ অভিযানের মাধ্যমে অবিরামভাবে চলে বাঘ হত্যা। এর সাথে চলতে থাকে অনিয়ন্ত্রিত বন নিধন যার ফলে বাঘের বসবাসযোগ্য এলাকার পরিমাণ ভয়ানকভাবে হ্রাস পায় এবং এলাকাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

১৯৭৯ সালে চীন সরকার বাঘ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ১৯৮২ সালের এক জরিপে অনুমান করা হয় যে মাত্র ১৫০-২০০ বাঘ অবশিষ্ট রয়েছে যা ১৯৮৭ সালে এসে দাঁড়ায় মাত্র ৩০-৪০টি তে। ১৯৯০ সালের পর থেকে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা গেলেও আর কখনোই সাউথ চায়না টাইগারকে সচক্ষে কোনো অনুসন্ধানকারী দল দেখতে পায়নি।

বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৮০টির মত সাউথ চায়না টাইগার সংরক্ষিত রয়েছে। এদেরকে পুনরায় বন্য পরিবেশের জন্য উপযুক্ত করার জন্য ‘সেইভ চায়না’স টাইগার’ নামে একটি সংস্থা ‘রিওয়াইল্ডিং’ নামক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘লাওহু ভ্যালি রিজার্ভে’ বর্তমানে ১৯টি বাঘ সংরক্ষিত আছে যার মধ্যে ৩টি বাদে প্রত্যেকটি বাঘই ‘রিওয়াইল্ডিং’ প্রকল্পে জন্ম নিয়েছে।

বিলুপ্তি পথ থেকে এরা আবার জঙ্গলের রাজারূপে ফিরে আসবে এরকম আশা আমরা করতেই পারি।

২.ভাকিতা

জনসংখ্যা- ১২টি

ভাকিতা হল পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল প্রজাতির জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণি। এরা ‘গালফ অফ ক্যালিফোর্নিয়া’ এলাকার একটি এন্ডেমিক (শুধু ঐ একটি অঞ্চলেই পাওয়া যায়) প্রাণি। শুশুক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ভাকিতা সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৫৮ সালে এবং তার ঠিক ৬০ বছর পর আজকের পৃথিবীতে এরা ঠিক বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এবং সত্যি কথা বলতে এদের বিলুপ্তি প্রায় অবশ্যম্ভাবী যদি না কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপা এদের সাথে থাকে। 

দেখতে গাঢ় ধূসর রঙের এই শুশুকদের চোখের আশেপাশে কিছু গাঢ় রিং রয়েছে। বাচ্চা অবস্থায় এদের ধূসর রং বেশি গাঢ় থাকে যা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। সাধারণত স্ত্রী ভাকিতা পুরুষ ভাকিতাদের থেকে আকারে বড় হয়। এরা উচ্চকিত শব্দ তৈরির মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এবং ‘ইকোলোকেশন’ কৌশলের মাধ্যমে পানির নিচে চলার জন্য নিজেদের দিক-নির্দেশনা ঠিক করে নেয়। এরা সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

২০১৮ সালের মার্চ মাসের তথ্যানুযায়ী সারা বিশ্বে মাত্র ১২টি ভাকিতা অবশিষ্ট রয়েছে। এদের বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন সংগঠন ও সরকার মিলিতভাবে বহু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং করছে। মূলত টোটোয়াবা (যারা নিজেরাও বিপন্ন প্রাণিতে পরিণত হয়েছে) নামক মাছ ধরার জন্য যে অবৈধ গিল নেট ব্যবহার করা হয় সেগুলোতে আটকা পড়ে ভাকিতারা প্রাণ হারায়। নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও চীনে টোটোয়াবা মাছের ‘সুইম ব্লাডার’ এর উচ্চমূল্য থাকার কারণে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। 

বোধহয় ভাকিতা নামক প্রাণিটি মানুষের লোভের করাল গ্রাসের আরেকটি নির্মম শিকার হয়ে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তবুও মনের গহীনে একটু আশা রাখলে ক্ষতি কী!!!

৩. জাভান গণ্ডার 

জনসংখ্যা-৫৮-৬৮টি

সারা বিশ্বজুড়েই গণ্ডারদের বিভিন্ন উপ-প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বা বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হচ্ছে। গণ্ডারদের যে পাঁচটি মূল প্রজাতি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক  অবস্থায় আছে জাভান গণ্ডার। শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়ার একটি সংরক্ষিত  উদ্যান উজুং  কুলন ন্যাশনাল পার্কে ৫৮-৬৮টির মত জাভান গণ্ডার অবশিষ্ট রয়েছে। অথচ  একসময় এদের বিচরণক্ষেত্র ছিল সুমাত্রা, বোর্নিও, জাভা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম থেকে আসাম, বাংলাদেশ হয়ে মায়ানমার পর্যন্ত। এই প্রাচীন প্রজাতিটি পৃথিবীতে বহুকাল ধরে নানা বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে টিকে থাকলেও মানুষ নামক বাঁধা তারা পেরোতে পারবে কি না তা বলে দিবে শুধুমাত্র সময়। যদিও সেই সময় খুব নিকটবর্তী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল।

জাভান গণ্ডার দেখতে গাঢ় ধূসর রঙের। সমগোত্রীয় ভারতীয় গণ্ডারের মত এদের শিং  এর সংখ্যাও একটি। আকারে ভারতীয় গণ্ডার থেকে এরা ছোট হয়। এদের শিংও অন্যান্য গণ্ডার প্রজাতিদের থেকে ছোট হয়। স্ত্রী জাভান গণ্ডার বর্তমান পৃথিবীতে যেসব গণ্ডার প্রজাতি টিকে আছে তাদের মধ্যে একমাত্র শিংহীন গণ্ডার।  এরা প্রায় ৩৫-৪০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

মূলত অবৈধ শিকার, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পামচাষ এবং বনাঞ্চল নিধন এদেরকে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় উপরের দিকে নিয়ে এসেছে। প্রাচীন এশিয়ান চিকিৎসাপদ্ধতিতে এবং আভিজাত্যের প্রতীকরূপী অলংকারসহ বিভিন্ন দ্রব্য তৈরির উপকরণ হিসেবে গণ্ডারের শিং ব্যবহৃত হওয়ার দরুন একসময় প্রচুর গণ্ডার শিকার করা হয়েছে এবং এখনও এদের টিকে থাকার লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে অবৈধ শিকার। এছাড়া জিনে বৈচিত্র্যের অভাবও এদের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি বড় বাঁধা।

এদের সংরক্ষণের জন্য ইন্দোনেশিয়ার সরকার এবং বিভিন্ন বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ সংস্থা একত্রে কাজ করে যাচ্ছে।

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমাদের প্রার্থনা এদের সাথে থাকুক।

৪. সুমাত্রান গণ্ডার

জনসংখ্যা- ৮০টি

গণ্ডার পরিবারের যতগুলো প্রজাতি আছে তার মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোট হল সুমাত্রান গণ্ডার। সুমাত্রান গণ্ডার একমাত্র এশিয়ান গণ্ডার প্রজাতি যাদের শিং এর সংখ্যা দুই। যদিও জাভান গণ্ডার থেকে সুমাত্রান গণ্ডারদের সংখ্যা কিছুটা বেশি তবুও শিকারীদের হাতে এদের মারা পড়ার অধিক সম্ভাবনা থাকার কারণে বিলুপ্তির আশঙ্কাটা এদের ক্ষেত্রেই বেশি।

ধারণা করা হয় এরা ‘উলি রাইনোসরাস’ নামক বিলুপ্ত গণ্ডার প্রজাতির উত্তরাধিকার। এদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাতলা থেকে ঘন লোম দেখা যায়। এজন্য এদের আরেক নাম ‘হেয়ারি রাইনো’। সুমাত্রান গণ্ডার সাধারণত মিলন বা সন্তান প্রতিপালনের সময় ছাড়া একা থাকতে পছন্দ করে। একসময় বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমারসহ আরও অনেক দেশে এদের বিচরণ থাকলেও বর্তমানে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়াতেই এদের দেখতে পাওয়া যায়।

অবৈধ শিকার, বাসস্থান সংকট এবং নিরাপত্তার অভাব সুমাত্রান গণ্ডারদের বেঁচে থাকার পথে প্রধান অন্তরায়। গণ্ডারের শিং ও অন্যান্য অঙ্গের কথিত আরোগ্য ক্ষমতার গুণের কারণে নির্বিচারে প্রচুর গণ্ডার হত্যা আজ সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যাকে হাতে গোনা যায় এরকম একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছে। সংরক্ষিত এলাকার বাইরে কোনো গণ্ডারের পা পড়লে তাকে নিরাপদ অবস্থায় রাখার জন্য স্থানীয়দের অনাগ্রহও এদের টিকে থাকার সংগ্রামে একটি দুঃসংবাদ।

এদের কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে প্রচুর গবেষণা করার পরও গত ১৫ বছরে মাত্র দুইটি স্ত্রী গণ্ডার সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন ভবিষ্যতে হয়তো আরো সুমাত্রান গণ্ডারের প্রজনন ঘটানো সম্ভব হবে।

তাদের আশা বাস্তবে রূপ নিক এই আমাদের পরম প্রত্যাশা।

৫. আমুর লেপার্ড

জনসংখ্যা- ৮৪টির কিছু বেশি

ছোটবেলায় লেপার্ড শব্দটি আমরা চিতাবাঘ বা চিতা এর ইংরেজি রূপ হিসেবেই জেনে এসেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো চিতা এবং লেপার্ড বিড়াল জাতীয় প্রাণির দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতি। এদের আকার-আকৃতি, গায়ের রং ও শরীরের গঠনে যেমন অমিল রয়েছে তেমনি এদের আচার-আচরণেও স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

সাধারণত লেপার্ড বললে আমাদের চোখে ভাসে কোনো মরুভূমি বা জঙ্গলের দৃশ্য যেখানে তারা দৌড়াচ্ছে এবং শিকার তাড়া করছে। কিন্তু আমুর লেপার্ডের বসবাস রাশিয়ার একবারে পূর্বে, দক্ষিণ-পূর্বে চীনের উত্তরাংশে চীন-রাশিয়া সীমান্তে এবং উত্তর কোরিয়ায়। এটি লেপার্ডের একটি বিরল প্রজাতি যারা শীত এবং ঠান্ডার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে অভিযোজন ক্ষমতার মাধ্যমে।

আমুর লেপার্ড একা থাকতে পছন্দ করে। এরা বেশ শক্তিশালী হয় এবং শিকারকে কাঁধে বয়ে নিয়ে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে যাতে অন্য শিকারী প্রাণিরা সেগুলোর খোঁজ না পায়। আমুর লেপার্ড সাধারণত ১০-১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এদের মূল শিকার রো হরিণ, সিকা হরিণ, মাঞ্চুরিয়ান ওয়াপিতি, খরগোশ এবং বুনো শুকর।

পৃথিবীতে বর্তমানে ৮৪টির কিছু বেশি মুক্ত আমুর লেপার্ড অবশিষ্ট আছে। এদের অস্তিত্বের এই সংকটের পিছনে বেশকিছু কারণ দায়ী। অবৈধ শিকার(মূলত এদের অসাধারণ সুন্দর চামড়ার লোভে), অবাধে বনাঞ্চল পোঁড়ানো, ইনব্রিডিং এবং খাদ্যের অভাব মূলত আমুর লেপার্ডদের বিপন্নতার কারণ।

বর্তমানে এদের অবৈধ শিকার এবং চামড়া পাঁচার রোধে বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া এদের খাদ্য সংকট দূর করতে রো হরিণ, সিকা হরিণ এবং অন্যান্য প্রজাতিদের শিকার রোধেও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে ৩০টি তে নেমে এসেছিল। কঠোর সংরক্ষণের মাধ্যমে বর্তমানে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাদের প্রত্যাবর্তন যেন অস্থায়ী না হয় সে প্রার্থনা আমাদের সকলের।  

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ২০১৩ - ২০১৪

জাহিদ নূর

সেশন: ২০১৩ - ২০১৪

0