শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস – বাংলার বুদ্ধিবৃত্তিক সূর্যাস্ত

১৪ই ডিসেম্বর, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস..

বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক দিন। বছরঘুরে আবারও সেই শোকাবহ দিনটি ফিরে এসেছে। একাত্তরের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনে প্রথিতযশা ও খ্যাতনামা বু্দ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালায় পাক হানাদার বাহিনী। হানাদাররা যেভাবে হীনমন্য কাপুরুষের মতো ঘটনাটি ঘটেয়েছিল সেটা ঘটনার তীব্রতা দেখে এটা আঁচ করা যায়। এদেশেরই কিছু দোসরদের দ্বারা সুপরিকল্পিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ষোলকলা পূর্ণ হয়। 

এর দুইদিন পর আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু এই দিনটিকে স্মরণ করলে বিজয়ের স্বাদ অনেকটা ম্লান হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পর মাতৃভূমি দুর্ভিক্ষপীড়িত হয়েছিল। বছরখানেকের মধ্যে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল। কিন্তু দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের নির্বিচারে হত্যার পরিণামে যে মেধাশূন্যতা তৈরি হয়েছিল তা কি স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দী পরও পূরণ হয়েছে? এই প্রশ্ন থেকেই যায়। আজ পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা অন্যের দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর নির্ভর করে চলেছি মেরুদণ্ডহীন প্রাণির মতো। তা হোক মৌলিক প্রয়োজনে, হোক আধুনিক প্রয়োজন মেটাতে। কিন্তু কেন? এর উত্তর এবং সমাধান আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিহিত আছে। আমরা যদি সবকিছুর আগে আমাদের দেশের স্বার্থের কথা ভেবে নিজের অবস্থানে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাই তবে মেধার যে শূন্যতা স্বাধীনতার পূর্বমুহূর্তে সৃষ্টি হয়েছিল তার কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব।

স্বাধীনতার উষালগ্নে জাতির সূর্যসন্তানদের হারিয়ে আমরা শোকাহত। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের দেশগড়ার অনুপ্রেরণা হোক।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৬-১৭

এজাজ হোসেন মীর

সেশনঃ ২০১৬-১৭