আমাদের চিরচেনা বেলি ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum sambac আর ইংরেজি নামArabian Jasmine যা জ্যাসমিন গণের অন্তর্ভুক্ত। বেলি বিখ্যাত তার মিষ্টি সুগন্ধের জন্য। বেলির আদি নিবাস এশিয়ার ক্রান্তীয় অঞ্চলে। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে শুরু করে সমস্ত দক্ষিণ এশিয়াতেই বেলি জন্মে। এছাড়াও মরিশাস, মাদাগাস্কার, মধ্য আমেরিকা, কিউবা এবং আরও অনেক জায়গায় বেলি প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মে।
এটি ফিলিপাইনের জাতীয় ফুল যা সেদেশে sampaguita নামে পরিচিত । শুধু তাই নয়, ইন্দনেশিয়ার তিনটি জাতীয় ফুলের অন্যতম বেলি ফুল যা তাদের ভাষায় melati putih নামে পরিচিত।
বেলি গাছ গুল্ম জাতীয়। এর উচ্চতা এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কোনো কোনো জাত লতানো এবং অনেক লম্বা হতে পারে। বেলির পাতা গাঢ়-সবুজ এবং মসৃণ। পাতা একক, ডিম্বাকার, লম্বায় ৪-৮ সে.মি.। কচি ডালগুলো রোমশ। আমাদের দেশে গ্রীষ্মের শুরু থেকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলি ফোটে। একটি থোকায় ৩ থেকে ৫টি কলি আসতে পারে। কলি গুলো সূচালো, সাদা রঙের। ফুলের রং দুধ সাদা। ফুলের আকার এবং গড়ন অনুসারে বেলির কয়েকটি জাত আছে। প্রতিটি জাতই সুগন্ধে মন কাড়ে।
বেলি ফুলের বীজ হলেও মূলত গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়।
দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটিতে বেলি ফুল চাষ করা যায়। অন্য সাধারণ ফুল গাছের মতো বেলি গাছও নিয়মিত পানি চায়, কিন্তু গোঁড়ায় পানি জমা পছন্দ করে না। তাই বানিজ্যিক চাষে জমিতে পানি সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকা দরকার। বেলি চাষ করতে হলে জমিতে ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা ও সমান করে নিতে হবে। মাটি তৈরির সময় সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রায় ১ মিটার অন্তর চারা রোপণ করতে হবে। চারা লাগনোর পর পানি সেচ দিতে হবে। বেলি গাছ শীতকালে ছেঁটে দেয়া হয়। তাছাড়া ফুল হয়ে যাবার পর পুরনো ডাল ছেটে দিলে নতুন ডাল ও পাতা বের হয়ে প্রচুর ফুল ফোটে। বেলি টবেও ভালোভাবে জন্মানো যায়। মিষ্টি সুগন্ধের জন্য যে কোন বাগানেই বেলির কদর খুব বেশি।
আমাদের দেশে সব বয়সী নারীদের কাছে অলংকার হিসেবে বেলি ফুলের সমাদর রয়েছে। যে কোন উৎসবে বা অনুষ্ঠানে সব বয়সী মেয়েরা বেলি ফুলের মালা ভালবেসে হাতে বা চুলে জড়িয়ে রাখে। বেলিফুলের তেল বেশ সুপরিচিত ও এটি এসেনশিয়াল তেল, সুগন্ধি ও আতর তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া আজকাল বেলি ফুলের সুবাসিত চা বেশ জনপ্রিয়।
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ নাজমা সুলতানা, এনাম এলাহী মল্লিক
তথ্য সুত্রঃ উইকিপেডিয়া
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ১৯৯২ - ১৯৯৩
- জাহিদা গুলশানhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১, ২০১৫
- জাহিদা গুলশানhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, মে ৯, ২০১৯
- জাহিদা গুলশানhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০১৯
- জাহিদা গুলশানhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯