এম আতাহারুল ইসলামঃ সংক্ষিপ্ত জীবনী

স্বনামধন্য পরিসংখ্যানবিদ এম আতাহারুল ইসলামের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১২ই এপ্রিল রংপুর জেলায়। আট ভাই বোনের মধ্যে এম আতাহারুল ইসলাম ছিলেন তৃতীয়। বাবা মোঃ আব্দুর রহীম ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা জোহরা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। বাবার বদলির চাকুরির সুবাদে শৈশব ও কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। 

১৯৭০ সালে সিলেটের সুনামগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭২ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে এম আতাহারুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৭৭ সালে পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৭৯ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ হাওয়াই থেকে পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করেন।  

১৯৭৯ সালের জুলাই মাসে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। চার দশকের বর্ণিল শিক্ষকতা জীবনে অধ্যাপক এম আতাহারুল ইসলাম দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটির ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টার, পেন্সিল্ভেনিয়া ইউনিভার্সিটি এবং বার্মিংহামস্থিত অ্যালাবামা ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সেইন্স মালয়েশিয়া, সৌদি আরবের কিং সউদ ইউনিভার্সিটি, এবং বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। তাঁর দেখানো পথ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে স্নাতকোত্তর গবেষণার ধারাটি শক্তিশালী হয় যা পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে এই বিভাগের ছাত্রদের সাফল্য থেকে স্পষ্টতই প্রতীয়মান।  

অধ্যাপক ইসলাম ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইন্সটিটিউটের প্রথম কাজী মোতাহার হোসেন অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে নিরলস এই মানুষটি নিজ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশ ও বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতি বিশ্লেষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

পরিসংখ্যান বিষয়ের উপর তাঁর ৫ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি থেকে। এছাড়াও প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুই শতাধিক গবেষণা প্রবন্ধ। দেশে ও বিদেশে শতাধিক পিএইচ ডি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণার তত্ত্বাবধান করেছেন এই স্বনামধন্য গবেষক।

শিক্ষকতা ও গবেষণা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁর সুবিস্তৃত কর্মজীবনে অজস্র পুরস্কারে ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য  বই ও গবেষণা পত্রের জন্য বাংলাদেশের University Grants Commission Awards (২০০৯) , Ibrahim Memorial Gold Medal Award, University of Dhaka, (২০০৫-০৬), Elected Member, International Statistical Institute, (২০০৫), Pauline-Stitt Award as an Outstanding Researcher of the School of Public Health, University of Hawaii, USA, (১৯৮৪), East-West Center Honor Award as an Outstanding Researcher, (১৯৮৪), Biometric Society Award for Winning the First Place for Content and Writing in the WNAR Student Paper Competition, (১৯৮৪), Member of the Honor Society, Phi Kappa Phi, (১৯৮৪)। সর্বশেষ ২০২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের সংগঠন ডুসডা (DUSDAA) তাঁকে প্রদান করে DUSDAA Outstanding Leadership Award।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম আতাহারুল ইসলামের আরেকটি পরিচয় রয়েছে। তিনি একজন কবি। ২০২০ সালের একুশে বইমেলায় তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘অবিকল তেমনি আছি, আছি কি?’ প্রকাশিত হয় পার্ল পাবলিকেশন্স থেকে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পান্থজন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ ‘স্বগত উচ্চারণ’।

পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন দুই কন্যার জনক। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক।

২০২০ সালের ৬ ডিসেম্বর মহান শিক্ষাবিদ এম আতাহারুল ইসলাম ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

কমেন্ট করুন

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ১৯৯২ - ১৯৯৩

জাহিদা গুলশান

প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেশন: ১৯৯২ - ১৯৯৩

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0