ভুটান: জীবন,পরিবেশ ও পর্যটনের অনন্য ভারসাম্য

গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (জিএনএইচ) বা জাতীয় সুখ সূচক নিয়ে ভিন্নধর্মী এক উন্নয়নের পথে হেঁটে চলেছে আমাদের বেশ নিকট প্রতিবেশী দেশ ভুটান| ভুটানের Gross National Happiness (GNH) এর চারটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণ। প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যেই ভুটানের চতুর্থ রাজা সিংয়ে জিগমে ওয়াংচুক পরিবেশ সংরক্ষণকে GNH এর স্তম্ভ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। ভুটানের সংবিধানে পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এই নীতি অনুসারে, ভুটানের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ জমি বন-জঙ্গল দ্বারা আবৃত থাকবে। সেই সাথে যেকোনো বন্যপ্রাণীকে আটক করা বা নিধন করাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভুটান এই নীতি বাস্তবায়নে সফল হয়েছে। ভুটানিরা বিশ্বাস করে যে পরিবেশ সংরক্ষণই জীবনের পথ। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে ভুটান পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আছে। বেশিরভাগ জমিতে বন-জঙ্গলের সাথে নদীর অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ আছে। ভুটানের মোট জমির ৮০.৮৯% বনাঞ্চল এবং ৫১.৪০% ১০টি জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যের সুরক্ষিত অঞ্চলের আওতায় রয়েছে। ৩টি জলবায়ু অঞ্চল জুড়ে রয়েছে বাঘ, লাল পান্ডা, তুষার চিতা, ৭৭০ প্রজাতির পাখি এবং ৫ হাজারের বেশি উদ্ভিদ। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, তুষার চিতা, কালো সারস, হাতি ইত্যাদি বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত অঞ্চলের ৫ মিলিয়ন একর জমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে।

পূর্ব হিমালয়ের রত্ন হিসেবে পরিচিত এই দেশটি পৃথিবীর এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যাকে পানির যোগান দেয়। ভুটান শুধু কার্বন নিরপেক্ষ নয়, বরং এটি বিশ্বের একমাত্র কার্বন নেগেটিভ দেশ। ভুটানের বন-জঙ্গল কার্বন- ডাই- অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ুর ইতিবাচক পরিবর্তনে অগ্ৰণী ভূমিকা পালন করে। বন-জঙ্গল সংরক্ষণ ছাড়াও প্রতি ঘন্টায় সবচেয়ে বেশি বৃক্ষরোপণের বিশ্ব রেকর্ড ভুটান সৃষ্টি করেছে। দেশটির ইকো-ট্যুরিজমও সময়ের সাথে উন্নত হচ্ছে।

ভুটান রিও ডি জেনিরোতে ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক সম্মেলন এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত সম্মেলনে স্বাক্ষর করে। BHUTAN TRUST FUND FOR ENVIRONMENTAL CONSERVATION – বিশ্বের প্রথম পরিবেশগত তহবিল যা ১৯৯২ সালে ভুটানের রাজকীয় সরকার, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচী এবং বিশ্ব বন্যজীবন তহবিলের মধ্যে একটি সহযোগী উদ্যোগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।ভুটানের রাজা সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য Middle Path বা মধ্যম পথ নামক জাতীয় পরিবেশ কৌশল প্রবর্তন করেন।

আমাদের দেশের সবাই ভুটান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। সেক্ষেত্রে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং একত্রিত হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে হবে।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৮ - ২০১৯

আনুশি আরভীন

সেশনঃ ২০১৮ - ২০১৯