বিস্ময়কর গ্রাম: আল-হুতাইব

সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির প্রতিটি ক্ষুদ্র অংশ আমাদেরকে বিমোহিত করে তাঁর অনিন্দ্য সুন্দর সৃষ্টি শৈলীর জন্য। পৃথিবীর কোনো কারীগরের পক্ষে তাঁর সৃষ্ট কর্মের প্রতিস্থাপন এক কথায় অসম্ভব বলা চলে। পৃথিবীর জীবকূলের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা হাজারো নিয়ামত সৃষ্টি করেছেন। যেকোনো একটি নিয়ামতের বিয়োজন জীবনের জন্য বয়ে আনতে পারে ভয়াবহ দূর্যোগ। বৃষ্টির কথাই ধরা যাক- বৃষ্টিপাত না হলে নদ-নদী শুকিয়ে যেতো, প্রাণীকূলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতো। একই সময়ে পৃথিবীর কোনো এক জায়গায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় তো অন্য কোনো জায়গায় কাঠফাঁটা রোদ। আবার এমনও জায়গা আছে যেখানে কখনোই বৃষ্টি হয় না।

শুনতে অবাক লাগলেও ইয়েমেনের আল-হুতাইব নামক গ্রামে কখনোই বৃষ্টিপাত হয় না। তাই বলে এটি মরুভূমিতে অবস্থিত এমনটা নয়! আল-হুতাইব নামক গ্রামটি পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ৩২০০ মিটার উঁচু একটি পাথরের উপর অবস্থিত। এখানকার আবহাওয়া সবসময় উষ্ণ এবং আদ্র থাকে, দিনে অত্যাধিক তাপে উত্তপ্ত থাকে এবং রাতে অনুভূত হয় হিমশীতল ঠান্ডা। সাধারণত ভূমি থেকে ২০০০ মিটার উচ্চতায় মেঘ সৃষ্টি হয় আর আল-হুতাইব গ্রামটি ভূমি থেকে ৩২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে কোনো প্রকার বৃষ্টিপাত হয় না।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুসারে, গ্রামটি একসময় আল-সুলাইহি উপজাতির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল, যারা ১১ শতকে শত্রুদের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য গ্রামটি তৈরি করেছিল। এটি জাবাল হারাজের সমগ্র পূর্বাঞ্চলকে রক্ষা করার জন্য একটি কৌশলগত পয়েন্ট হিসাবে কাজ করেছিল।

মজার ব্যাপার হলো এই বিস্ময়কর গ্রামের সাথে সম্পর্ক রয়েছে ভারতবর্ষের। ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করা মুহাম্মদ বোরহানউদ্দিন, যিনি ইসলাম ধর্ম প্রচার করতেন, ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যেই ঐ গ্রামে যাতায়াত করতেন তিনি। তাঁর জীবদ্দশায় অর্থাৎ ২০১৪ সালের আগ পর্যন্ত প্রতি তিন বছর পর পর ওই গ্রামে যেতেন তিনি।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষি কাজের জন্য পানি তারা মূল ভূমি থেকে সংগ্রহ করে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির তীব্র সংকট থাকে সবসময়ই।

গ্রামবাসীরা তাদের বসবাসের জন্য পাহাড়ের পাথর কেটে সৌন্দর্যমন্ডিত সব বাড়ি তৈরি করেন। প্রতিবছর অনেক পর্যটক সেই গ্রামে ভীড় করে শত শত বছর ধরে তৈরি করা গ্রামের বাড়ি ঘর এবং সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

বিস্ময়কর সৃষ্টির আরও কত দেশ, গ্রাম, জাতি আমাদের অজানা রয়েছে! হয়তো সেগুলো সময়ের সাথে সাথে আবিষ্কৃত হবে নয়তো রয়ে যাবে আমাদের দৃষ্টির আড়ালে।

তথ্যসূত্রঃ

১। https://www.orissapost.com/
২। https://theshillongtimes.com/
৩। https://www.anandabazar.com/
কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্যাপাইরাসের অনলাইন সংস্করণের ৪র্থ বর্ষপূর্তি

প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য