অক্টোবর 16, 2026

BANGLADESH MICS-7 2025- পরিসংখ্যান বিষয়ক তথ্য সংগ্রহের এক অনন্য দৃষ্টান্তের নাম

গত ১৪-ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের “QMH Statistics Club” এর প্রযোজনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল সম্প্রতি প্রকাশিত “Bangladesh Multiple Indicator Cluster Survey 2025” Dataset এর উপর একটি পরিসংখ্যান বিষয়ক সেমিনার। সেমিনারটিতে উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকগণ এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীদের।

সেমিনারের মূল বক্তারা ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি:

১. মাহবুব ই আলম, পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞ, স্পিয়ার শাখা (সামাজিক নীতি, মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ ও গবেষণা), ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

২. মো.ইরফান হোসেন, জাতীয় এমআইসিএস পরামর্শক, স্পিয়ার শাখা, ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

সেমিনারটি সঞ্চালনার ভূমিকা পালন করেন QMH Statistics Club এর Convener ড.মো.এরশাদুল হক স্যার। সেমিনারের প্রথমেই বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় মাহবুব ই আলম স্যারকে। সেই সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন নুশরাত মেহজাবিন ম্যাম, পরিসংখ্যান বিভাগের গর্বিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং National Consultant MICS Data Analytics. বক্তব্যের শুরুতেই মাহবুব ই আলম স্যার ‘Bangladesh MICS-7’ কে ‘The Flagship Survey Of UNICEF Global’ চিহ্নিত করার মাধ্যমে এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগকে নিয়ে এবং বিভাগের এই সেমিনারের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য হওয়ার মাধ্যমে যে তিনি গর্ববোধ করেন তা তাঁর বক্তব্যের মাঝে স্পষ্ট ফুটে ওঠে। UNICEF Staff Member হিসেবে তারা কি ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন তা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি জরিপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যান।

UNICEF’s Flagship Household Survey Programme ১৯৯৩ সাল থেকে নিজেদের কার্যক্রম শুরু করেছিল এবং MICS1 হয়েছিল ১৯৯৫ সালে।

সংগঠনটি গত ২৮ বছর ধরে ১২০ টি দেশে সর্বমোট ৩৫৯ টি জরিপ পরিচালনা করে। এবং বর্তমানে এটি একটি চলমান Survey Programme এবং SDGs (Sustainable Development Goals) এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

সেইসাথে তিনি DHS (Demographic and Health survey) এবং MICS কে দুটি প্রধান জরিপ হিসেবে সম্বোধন করেন। পরবর্তীতে SDG এর ৪১ টি নির্দশক সম্বন্ধে তিনি তুলে ধরেন, যার মধ্য থেকে ৩৩ টি নির্দেশকই MICS থেকে আমরা সরাসরি সংগ্রহ করতে পারি।

পরবর্তীতে তিনি তুলে ধরেন Module বা A Set of Questionnaire এর কথা যেসব প্রশ্নের মাধ্যমে জরিপ এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। Module প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে। Base Module-এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী জরিপ এ ব্যবহৃত প্রশ্নগুচ্ছের দ্বারা তথ্য সংগ্রহের কাজ করা হয়ে থাকে। অপরদিকে Complimentary Module এ নিয়ে আসা হয় আগের জরিপের বাইরে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য কিছু প্রশ্নগুচ্ছ। এই প্রক্রিয়ায় আমরা জানতে পারি, পুরো বিশ্বে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এর শিশু ও মহিলাদের থেকে রক্ত সংগ্রহ করে এতো বিস্তরভাবে জরিপ করা হয়েছে। রক্তের মধ্যে লেড (Pb) এর মতো ভারী ধাতু ও অন্যান্য উপস্তিতির সাথে  শিশুদের মানসিক ভারসাম্যহীনতার ও পঙ্গুত্বের সংযোগ জানা যায়।

পরবর্তীতে মো.ইরফান হোসেন বক্তব্য প্রদানের জন্য আসলে তিনি জানান তাঁর ২.৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা। সাথে তিনি আলোচনা করেন MICS এর টেকনিক্যাল বিষয়গুলো নিয়ে। যেখান থেকে জানা যায় বেশ কিছু সংস্থার Technical Collaboration এর মাধ্যমে MICS7 এর জরিপ শেষ করা সম্ভব হয়েছিল। প্রথমত ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস দুটি কমিটি গঠন করে। প্রথমটি হচ্ছে একটি স্টিয়ারিং কমিটি, যেটিতে থাকে এমপি-মন্ত্রী পর্যায়ের মানুষজন যারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সর্বোশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সাথে থাকে একটি টেকনিক্যাল কমিটি, সেখানে সদস্য হিসেবে থাকেন Subject Matter Specialist, Academia এর লোকজন এবং বিবিএস-এর অফিসিয়ালরা। এরপর রয়েছে UNICEF Country অফিস, যারা সাপোর্ট এবং লিয়াঁজো হিসেবে ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসকে সাহায্য করে। তারপরে আসে গ্লোবাল MICS টিম-যেই টিমের মেইন অফিস আগে নেপালে ছিল, বর্তমানে তা চায়নাতে অবস্থিত। তারা আন্তর্জাতিক মানের পরিক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্ত পরিক্ষণ কিংবা পানির গুণগত মান পরীক্ষা তাদেরই প্রযুক্তি দিয়েই পরিপূর্ণ নির্ভুলতা বজায় রেখে স্যাম্পল নমুনা থেকে ফলাফল বের করা সম্ভব হয়। সম্পূর্ণ কর্মসূচি পরিচালনা করার জন্য চট্টগ্রাম শহরে ৪০০ জনকে ৪৫টি দলে ভাগ করে ৫টি আলাদা কক্ষে এক মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে ৪৩ টি প্রধান দল নির্বাচন করা হয়েছে এবং দুটি রিজার্ভ টিম রাখা হয়। এখানে বিবিএস থেকে ১৫ থেকে ২০ জনকেও তিন থেকে চার দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে জন্য যেন তারা ঠিকভাবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করতে পারে। সাথে Syntax Customize করার বিষয়ে কুমিল্লায় ২০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষণ শেষে তিন দিনের একটি ফিল্ড অনুশীলন করানো হয়েছে এবং সাথে একটি পাইলট সার্ভে নেয়া হয়েছে। UNICEF মানুষের অধিকার এবং বাচ্চাদের অধিকার নিয়ে খুবই সচেতন, তাই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াতে বাচ্চাদের সম্মতি এবং বাচ্চাদের মায়েদের সম্মতি প্রদানের বিষয়য়ে খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে। সেই সাথে বাচ্চাদেরকে সরাসরি প্রশ্ন না করে তাদের মায়ের মাধ্যমেই প্রশ্ন করে উত্তর সংগ্রহ করা হয়েছে।

নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে MICS-7 এর তথ্য বাংলাদেশ সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ভান্ডার থেকে নেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহের কাঠামো ২০২২ সালের বাংলাদেশ জনশুমারি থেকে নেওয়া হয়েছে। ৬৪ টি জেলাতে এবং তিনটি সিটি কর্পোরেশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এই জরিপে, সেই সাথে দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে আলাদা রিপোর্ট করা হয়েছে। এরপর সম্পূর্ণ দেশকে ৩১৭৪ টি Sampling Enumeration Unit-এ ভাগ করা হয়, যেখানে প্রতি জেলাতে ৪৭টি করে cluster করা হয়েছে। একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রতিটি cluster থেকে ৩০০ টি household এর মধ্যে ২০টি household random systematic sampling এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। এই জরিপে অংশ নেয়ার জন্য ৪৩টি টিম এবং । প্রতি টিমে ৫ জন Interviewer , ১ জন Supervisor, এবং ১ জন Measurer থাকে। মাঠপর্যায়ে ডাটা সংগ্রহের কার্যক্রম ২০২৫ সালের জুন মাসের দিকে শেষ হয়। গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো তুলে ধরে প্রাথমিক প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের দিকে প্রকাশ করা হয়। ডাটা যাচাইয়ের সময় digit preference বা age heaping হয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য সংগৃহীত তথ্য ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করার আগে whatsapp e ছবি দেয়া হতো। ডাটায় কী ধরনের পরিবর্তন কখন করা হয়েছে, তা Secondary Editing Log-এ সংরক্ষণ করা হয়। সম্পাদনার ক্ষেত্রে অসঙ্গতি এড়ানোর জন্য পুরো Editting Log UNICEF টিমের তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে। Subject matter expert এর তত্ত্বাবধানে SPSS আউটপুট নির্ধারিত অফিসিয়াল tabulation plan-এর সঙ্গে মিলিয়ে ২০০ টিরও বেশি টেবিল প্রস্তুত করা হয়। ডাটা বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতির জন্য Data Analysis and Report Compilation (DARC) এর কর্মশালা বিষয়ভিত্তিকভাবে পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি data cell পূর্ববর্তী বছরের বা ঐতিহাসিক প্রবণতার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তী আলোচনায় উল্লেখ করা হয় Cumulative Fertility Rate (CFR)-এর ২.৪ মান নিয়ে, যেটা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছিল কারণ এর আগে ২.৩ এর উপরে এই মান কখনো আসে নাই।

MICS-এর তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ দিক হলো পানি পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষার মতো সরাসরি তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা। এ ধরনের সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য MICS-এর ডাটা সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে অন্যান্য সাধারণ ডেমোগ্রাফিক জরিপের তুলনায় আরও বিস্তৃত করে। এছাড়া বিভিন্ন থিম ভিত্তিক ২০ টি snapshot করা হয়েছে যেটা পুরো জরিপের মূল পর্যোবেক্ষণ তুলে ধরে। বাংলাদেশে MICS 7 জরিপের তথ্য সংগ্রহকালে জরিপকারীদের বেশ কিছু অভূতপূর্ব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রথমত, নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শিশুদের উচ্চতা ও ওজনের মতো সূক্ষ্ম মাপগুলো বারবার নিতে গিয়ে জরিপকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অন্যদিকে, সামাজিক সচেতনতার অভাব স্থানীয়দের সাথে জরিপকারীদের মধ্যে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি রক্ত পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করার সময়েও বিভ্রান্ত স্থানীয়রা জরিপকারীদের প্রতারক মনে করায় তাদের নানা ধরনের আইনি সমস্যার মুখেও পড়তে হয়েছিল।

সাধারণ আলোচনা শেষে শ্রোতাদের বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল। সেগূলোর মধ্যে কিছু প্রশ্ন-উত্তর আমাদের এই লিখায় তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন ১: এমআইসিএস ৭ (MICS 7) জরিপের জন্য কীভাবে এলাকা বা রিজিওনগুলো নির্বাচন করা হয়েছিল? অর্থাৎ এর স্যাম্পলিং পদ্ধতি কী ছিল?

উত্তর: ২০২২ সালের জনশুমারির ‘স্যাম্পল ফ্রেম’ ব্যবহার করে পুরো দেশটিকে ২০০–৩০০ খানার আনুমানিক দেড় লাখ ক্ষুদ্র অংশে ভাগ করা হয়। সেখান থেকে মাল্টি-স্টেজ ও সিস্টেমেটিক র‍্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে ৩,১৪৯টি ক্লাস্টার বেছে নেওয়া হয়। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতি জেলা থেকে ৪৭টি ক্লাস্টার এবং প্রতিটি ক্লাস্টার থেকে ২০টি খানা নির্বাচন করা হয়েছিল। তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখতেই জরিপটি ৬৪ জেলা পর্যায় পর্যন্ত সীমিত রাখা হয়; এর চেয়ে নিচে নামলে ‘মার্জিন অব এরর’ বেড়ে গিয়ে ফলাফলের নির্ভরযোগ্যতা নষ্ট হতো।

প্রশ্ন ২: সিস্টেমেটিক্যালি যে ২০টি খানা (Household) নির্বাচন করা হয়েছিল, তাদের পর্যায়ক্রম বা ক্রম রক্ষা করার প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করা হয়?

উত্তর: এটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এবং সিস্টেমেটিক র‍্যান্ডম স্যাম্পলিং অনুসরণে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিবিএস মূলত তালিকা তৈরির (Listing) প্রাথমিক কাজটি পরিচালনা করে। এরপর নির্বাচন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল রাখতে বিবিএস এবং ইউনিসেফ ৩ দিনের এক সিএপিআই (CAPI) ট্রেনিং ওয়ার্কশপ আয়োজন করে, যার মাধ্যমে প্রতিটি জেলার খানাগুলোকে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়। জরিপকারীদের দেওয়া ট্যাবলেটে আগে থেকেই এই নির্বাচিত খানাগুলোর তালিকা ও ক্রম নির্দিষ্ট করা ছিল, ফলে তাদের দায়িত্ব ছিল সরাসরি সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা। উল্লেখ্য, প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বাছাইকৃত ৩,১৪৯টি ক্লাস্টারের প্রতিটিতে খানা নির্বাচনের জন্য একই পদ্ধতি (ঘড়ির কাটার দিকে বা বিপরীত দিকে) অনুসরণ করা হয়েছিল।

প্রশ্ন ৩: সাক্ষাৎকার গ্রহণের পূর্বে তথ্যদাতাদের থেকে কীভাবে সম্মতি বা অনুমতি (Consent) নেওয়া হয়েছিল?

উত্তর: জাতিসংঘ বিশ্বস্ত ও সম্মানিত সংস্থা হিসেবে এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সাক্ষাৎকার শুরু করার আগেই খানা প্রধানকে জরিপের মূল উদ্দেশ্য বিশদভাবে বুঝিয়ে মৌখিক সম্মতি নেওয়া হয় এবং তা সিস্টেমে যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে শিশুদের ক্ষেত্রটির দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে; কারণ শিশু নিজে সম্মতি প্রকাশ করলেও আইনগত ও নীতিগতভাবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে শিশু প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সব তথ্য ও অনুমতি তার মায়ের থেকেই নেওয়া হয়েছে এবং শিশুদের সরাসরি কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।

প্রশ্ন ৪: সব জেলার আয়তন বা জনসংখ্যা তো সমান নয়; তাহলে প্রতিটি জেলা থেকে সমানভাবে ঠিক ৪৭টি করে ক্লাস্টার কেন নির্বাচন করা হলো?

উত্তর: এটি মূলত স্যাম্পলিংয়ের বিজ্ঞানসম্মত নকশা এবং তথ্যের কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। নমুনা একটি নির্দিষ্ট সীমানায় পৌঁছালে তা সম্পৃক্ত (Saturated) হয়ে যায় এবং এরপর নমুনা বাড়ালেও ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন আসে না। এমআইসিএস (MICS)-এর হিসাব অনুযায়ী প্রতি জেলায় খানা সংখ্যা ৮০০ থেকে ১,১০০-এর বেশি নিলে ডেটার প্রাসঙ্গিকতা বা উপযোগিতা না বেড়ে উল্টো স্যাম্পলিং এরর (Sampling Error) বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই হিসাব থেকে প্রতিটি জেলার জন্য ৯৪০টি খানা নির্ধারণ করা হয় এবং প্রতি ক্লাস্টারে ২০টি খানা ধরে হিসাব করলে জেলার সংখ্যা দাঁড়ায় ঠিক ৪৭টি ক্লাস্টার। এতে কাজের প্রশাসনিক পরিচালনা (Monitoring & Operational Convenience) সহজ হয় এবং তথ্যের নির্ভুলতার সাথেও কোনো আপস হয় না।

প্রতিবেদক-

নাজিফা আনজুম (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)
ফাতেমা জামাল অপরাজিতা (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)
নাবিল ফয়সাল (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)
মাহমুদা আলী মীম (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp