উদ্যোক্তা বুটক্যাম্পের দিনরাত্রি

“মানুষ আর পশুপাখির মধ্যে তফাৎ হলো মানুষ লিখতে পারে, ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে অর্জিত জ্ঞান স্থানান্তর করতে পারে।” – “গার্লস ইনোভেশন এন্ড অন্টারপ্রেনারশিপ বুটক্যাম্প-২”-এর প্রথমদিনই Bangladesh Open Source Network (BdOSN)-এর মুনির হাসান স্যার এরকমটাই বলেছিলেন। আরও অনেক কথার ভীড়ে এটাও বলেছিলেন যে, “বুটক্যাম্প বলা হয় কারণ এখানে ঘুমানো যায় না, রাত-দিন কাজ করতে হয়” – কথাটা শুনে খটকা লাগলেও তখনও ক্যাম্পের হাওয়ার তোড় কোনদিকে যাচ্ছে তা বুঝতে পারছিলাম না। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লালমাটিয়ায় BdOSN আয়োজিত বুটক্যাম্পে একরকম পালহীন সময় কাটাচ্ছিলাম। তবে জীবনে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যেগুলো ঘটবার পর আমি ভাগ্যের ইয়ত্তা করতে পারি না, বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণ করতে পারা তেমনই এক ঘটনা।

প্রতিটা মানুষেরই কিছু বন্ধু থাকে, থাকাটাই স্বাভাবিক তবে অনেকে আবার জীবনে মানুষের জটলা তেমন পছন্দ করে না। আমি অবশ্য সেই গোত্রের মানুষ নই তবে কিছু বন্ধুর পাশাপাশি আমার জীবনে কিছু দেবদূত আছেন, তার মধ্যে রাবেয়া অন্যতম। বুটক্যাম্পের খবর দেয়া থেকে শুরু করে রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে তাগাদা দেয়া, সবটাই ওর কৃতিত্ব। ইলেভেনথ আওয়ারে কাজ শেষ করা আমি, মোটামুটি এক যুদ্ধ সামলে ডেডলাইনের পাঁচ মিনিট আগে রেজিস্ট্রেশনের জন্য চার-পাঁচটা রচনা-মতন লিখে সফলভাবে ফর্ম সাবমিট করলাম, এটা বিশ জানুয়ারির কথা। সত্যি কথা বলতে, বিনামূল্যে তিনদিন-দুইরাতের একটা রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্প থেকে অনেক কিছু শিখে ফেলতে পারবো, এই লোভ সামলানো আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এরপর সময় যায়, জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি গড়ায়, কোনোরকম সাড়াশব্দ নেই। একটা সময় অপেক্ষা করতে করতে মনে হলো, অনলাইন ফর্মের ভিত্তিতে নির্বাচিত হওয়া বোধ হয় আমার কপালে নেই। কারণ পুরো বাংলাদেশ থেকে মাত্র পঞ্চাশ জন মেয়েকে নির্বাচিত করা হবে যারা ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন অথবা উদ্যোক্তা অথবা আইসিটি নিয়ে মৌলিক জ্ঞান রাখেন আবার কোনো বয়স সীমাও নেই। এত মানুষের ভীড়ে নির্বাচিত হওয়াটা কঠিন তবে প্রাথমিকভাবেও নির্বাচিত হবো না, ব্যাপারটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। যাই হোক, বুটক্যাম্পের আশা ত্যাগ করে প্রতিদিন আটটা থেকে চারটা পর্যন্ত ক্লাস করে করে ক্লান্ত হতে থাকলাম।

হাকিম চত্বরে দাঁড়িয়ে টোস্টটা খাওয়া শেষ করে ফোনের দিকে তাকাতেই দেখি অচেনা নম্বর থেকে দুই-দুইটা মিসড কল। কল ব্যাক করতেই যা শুনলাম, তা শুনে আমি মোটামুটি হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে আছি। ফোনে ইন্টারভিউ হবে, আমি তো ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম। টোস্টের টাকাটাও মিটানো হয় নাই তখনোও। পাঁচ মিনিট সময় চেয়ে নিয়ে টিএসসি সুইমিংপুলের দিকে দৌঁড় দিলাম। এরপর সেই ফোন ইন্টারভিউ, একটার পর একটা প্রশ্ন। একবার আকাশের দিকে, একবার পানির দিকে, একবার জুতার দিকে তাকিয়ে যা মাথায় আসছে বলা শুরু করলাম। ইন্টারভিউ মন্দ হয় নি। আমার কোনো বিজনেস আইডিয়াই নেই, সেখানে ধুপধাপ প্রশ্ন। ইন্টারভিউটা অনেকটা এরকম ছিলো,

-“আপনি কী উদ্যোক্তা হতে চান?”

-“হ্যাঁ”

-“আপনি কী নিয়ে কাজ করতে চান?”

-“হ্যান্ডপেইন্টিং। মূলত বেসিক টি-শার্ট কিংবা ব্যাগ কিংবা কাঠের গয়না, এগুলো নিয়ে কাজ করা যায়”

-“এগুলো তো এখন সবাই করে আপনার কাজে নতুনত্ব কী?”

এবার আমি গেছি আটকে, নতুনত্ব কোত্থেকে আমদানি করব এখন? হঠাৎ করেই ছোটবেলার ইচ্ছাটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো, বললাম,

-“আমার পথশিশুদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে। তো তাদের ট্রেনিং দেয়ার পর তাদের তৈরি জিনিস বিক্রি করে যে লাভটা পাবো সেটার একটা অংশ পথশিশুদের উন্নয়নে কাজে লাগাবো”

-“আপনার চিন্তাটা সময়োপযোগী, আমরা যা নিয়ে কাজ করতে চাইছি তার সাথে মানানসই। কিন্তু আমরা যেহেতু আইটি নিয়ে কাজ করছি, তাই আইটিকে কাজে লাগিয়ে আপনি এই কাজটাকে কীভাবে সহজ করবেন?”

আমি তখন ভাবছিলাম, আইটি আবার কোত্থেকে আসলো? এবার আমি রীতিমতো ঘামছিলাম। এরপর মনে হলো, ওয়েবসাইট বানালেই তো আইটি এসে যায়। তারপর বললাম,

-“ওয়েবসাইট বানানো যায়”

-“আচ্ছা আপনি আইটির ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকেন আর কীভাবে আগাবেন সেটা আমাদের ক্যাম্প থেকেই একটা দিকনির্দেশনা পেয়ে যাবেন। আর মেইল চেক করবেন, আপনি যদি নির্বাচিত হোন তাহলে কনফার্মেশন লেটার মেইল করে দেয়া হবে আপনাকে।”

ফোনে আরও কিছু প্রশ্ন আর কথাবার্তার পর কোনোরকমে শেষ হলো ইন্টারভিউ। এরপর আবার অপেক্ষা। বুটক্যাম্প হবে সাতাশ ফেব্রুয়ারি থেকে ঊনত্রিশ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। হু হু করে দিন এগিয়ে আসছে অথচ মেইল আর আসে না। প্রতিদিন কয়েকবার করে মেইল চেক করতে থাকলাম তবুও লা-পাত্তা। বিশ ফেব্রুয়ারি পেরোচ্ছিলো, মাত্র সাতদিন বাকি। টিএসসিতে বসে Dhaka University Youth Entrepreneurship and Startup Society (DUYESS)-এর মিটিং করছি, এমনসময় মেইল এলো। মেইলের বিষয়, “[GIEBC]Confirmation for Girls’ Innovation & Entrepreneurship Bootcamp”। মেইলটা দেখে আনন্দে টগবগ করে ফুটছিলাম। DUYESS-এর সবাইকে বললাম। রনেল ভাই বললেন, “ও BdOSN, মুনির স্যারের প্রতিষ্ঠান, অনেক কিছু শিখতে পারবা”। তবে মেইলটা দেখে আমার একটা চিন্তা জুড়ে গেলো, বাসায় এখনো বলা হয় নি। আব্বুকে সবচেয়ে কঠিন ইন্টারভিউটা দিয়ে অনুমতি জোগাড় করে ফেললাম।

২৭ ফেব্রুয়ারি,২০২০, বৃহস্পতিবার, দুইখান ক্লাস বাদ দিয়েই সকাল সাতটায় রওনা হলাম লালমাটিয়ার দিকে। সাড়ে আটটায় রিপোর্টিং টাইম। সময় সম্বন্ধে অসচেতন হলেও আটটা পঁচিশের দিকেই পৌঁছে গেছিলাম, আমার সাধের বুটক্যাম্পে। আপন উদ্যোগ ফাউন্ডেশনে গিয়ে সিগনেচার করার পর বলল ৪১০ নম্বর রুমে আমার সিট। চার তলা উঠে রুমে ঢুকে আমি তাজ্জব। আমার বিছানায় রোদ এসে ছুঁয়ে যায়, আকাশ দেখা যায়, আমার জন্য স্বর্গের চেয়ে কম কিছু নয় এটা। যাই হোক, প্রথমেই পরিচয় হলো প্রাপ্তি আপুর সাথে, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন তড়িৎ ও তড়িৎযন্ত্র কৌশলে। প্রাপ্তি আপু আসলেই প্রাপ্তির মতনই ছিলো আমার কাছে। কারণ জীবনে প্রথমবার এরকম আবাসিক ক্যাম্প, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম, আমি টুথপেস্ট নিয়ে গেছি অথচ টুথব্রাশ নিয়ে যাই নি, কলম নিয়েছি নোটপ্যাড নিয়ে যাই নি আর টাওয়াল, চিরুনি তো বাদ-ই দিলাম। সে যাই হোক, সকাল নয়টার দিকে সকালের খাবার খেতে গেলাম, দোতলায় ডাইনিং। ইতোমধ্যে রিমু আপা আসলেন, নিরানব্বই সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন। এখন একজন সফল উদ্যোক্তা, “mysterious mauve” নামের এক অনলাইন শপের মালিক। শুরু হলো গল্প শোনার পালা। মানুষের জীবনের থেকে বড় গল্প, এতো উত্থান-পতন, এতো রোমাঞ্চ বোধ হয় আর একটাও নাই। ক্যাম্পে গিয়ে এত্ত এত্ত গল্প শুনতাম আর অবাক হতাম, কেবলই মনে হতে লাগলো, চাইলেই হয়, শুধু চাইতে হবে।

প্রথমদিনের প্রথম সেশন শুরু হলো সাড়ে নয়টা কী দশটার দিকে। প্রথমেই পরিচিতি পর্ব। পার্টনার ঠিক করে দেয়া হলো এবং একেকজন নিজের পার্টনার সম্পর্কে বলবে, তার সাথে একটা মিথ্যাও বলবে এবং অন্যদের সেই মিথ্যেটা খুঁজে বের করতে হবে। যার যার পার্টনারকে জানবার সময় মাত্র তিন মিনিট। “www.chiruni.com” ও “cake.com.bd” এর লোপা আপু, ব্যবসা করছেন দুই বছর ধরে, এরকম একজন সফল উদ্যোক্তা আমার পার্টনার। এরপর টিম বানানো হলো, সবাই সবার আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করলো। ইতোমধ্যেই চা বিরতি। ধীরে ধীরে অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হতে লাগলাম, দুর্দান্ত সব মানুষের আখড়া। সকলেই যথেষ্ট বিনয়ী আর সহযোগিতা করার মানসিকতা লালন করেন। তবে সবচেয়ে ভালো লাগার ব্যাপার হলো, এখানে ঊনিশ বছরের একটা মেয়েও যেমন কথা বলছে তেমনি পঞ্চাশোর্ধ একজনও কথা বলছেন। একই সাথে অনেক প্রজন্মের মানুষ, একজন আরেকজনের দৃষ্টি মনোযোগ দিয়ে দেখছেন এবং ঠিক-বেঠিকও আলোচনা করছেন। প্রত্যেকেই নিজের জায়গায় এতটা শক্তিশালী, একেকজনের চোখ এত সুন্দর! এখানে মেনটররা যেরকম লিখে রাখবার মতন কথা বলেন ঠিক তেমনি যারা অংশগ্রহণ করতে এসেছেন তারাও লিখে রাখার মতন কথা বলেন। চা বিরতি শেষে আবার আলোচনা। বলা হলো নিজস্ব টিমের প্রতিটি মেম্বারের আইডিয়াকে দশে নম্বর দিতে হবে। সবাই সবার গ্রুপের নাম লিখে প্রত্যেকে নম্বর দিলো। এরপর প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি করে সেরা দশ আইডিয়া সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে, সবাই ভোট দিয়ে এরমধ্য থেকে সেরা পাঁচ নির্বাচন করবে। আমাদের গ্রুপ থেকে সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছিলো লোপা আপু। কিন্তু কী ভেবে যেনো লোপা আপু পিছিয়ে আসলেন, আইডিয়া সবার সামনে উপস্থাপন করলেন না। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন যিনি তিনি তার আইডিয়া উপস্থাপন করলেন, দশ কী এগারোটা ভোট পেয়েছিলেন। এটি মোটামুটি গড় ভোট, প্রায় সব আইডিয়াই এরকম ভোট পাচ্ছিলো, বারো পেরোলেই সেটা সেরা পাঁচের একটি, এরকম অবস্থা চলছে। আমি শুধু গুনে চলছি, একজন, দুজন করে চারজন হয়ে গেলো পঞ্চম সেরা আইডিয়াটা কার হবে? এমন সময় মুনির স্যার বললেন, “যেহেতু গ্রুপ ফোরের একজন পিছিয়ে এসেছেন তাই তৃতীয় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত সামা তার আইডিয়া শেয়ার করবে।” কেউ আমাকে কথা বলার জন্য আমার নাম ধরে সামনে ডাকছেন, ব্যাপারটা সবসময়ই আমার কাছে রোমাঞ্চকর, এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম না। পুরো আইডিয়াটা বিশ্লেষণ করলাম, ফোন ইন্টারভিউতে যা যা বলেছিলাম, সেটাই বললাম। শুধু যুক্ত করলাম, উদ্যোক্তা আর পথশিশুদের একটা ব্রিজ তৈরি হবে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আর কেউ ডোনেট করতে চাইলে তারও ব্যবস্থা থাকবে। এইতো এরপরই ভোট, আমি শুধু মুনির স্যারের আওয়াজ শুনছিলাম, “দশ, এগারো, বারো”। এবার আমি নিচের দিকে তাকিয়ে আছি, বারো পেরোলেই আমার আইডিয়া সেরা পাঁচের পঞ্চম আইডিয়া, উত্তেজনায় ফাটছিলাম, এরপর কানে ভেসে এলো, “তেরো, চৌদ্দ, মোট চৌদ্দটা ভোট”। আমি প্রতি মুহূর্ত উদযাপন করতে ভালোবাসি। কিন্তু এ সময়টায় মনে হচ্ছিলো, বহুদিন ধরে অভুক্ত ছিলাম আর এটা শোনার পর আমার ক্ষুধা অনেকখানিই মিটে গেছে।

দুপুরের খাবারের পর আইডিয়া নির্বাচন হয়। এরপর আবার সেশন, “PTRC Physiotherapy Center”-এর রুমকি আপু আর তারপরই “The Business Standard Newspaper”-এর এইচআর হেড ফারহানা রহমান তাদের গল্প বললেন। এত চ্যালেঞ্জিং সব কাহিনী! “কেউ জায়গা দেয় না, শুধু ভালো ভালো কথা বলবে। জায়গা করে নিতে হবে”-রুমকি আপুর এই কথাটা সবসময়ই খুব সত্য। ফারহানা আপু অবশ্য একটা প্রায় অচল প্রোডাক্টও কীভাবে শুধুই আশ্বাস দিয়ে বিক্রি করে ফেলা যায় তা বললেন। আর আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে কাজ করতে হবে, নিজেকে নিজের কাজ নিয়ে পরিষ্কার থাকতে হবে। এছাড়াও একজন দক্ষ নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি চলে গেলেও যেনো সেই প্রভাব থেকে যায়। আরও বললেন, “নিজেকে দুকদম আগাতে হবে, তাহলে আরেকজন আরেক কদম আগাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আমি যদি দাঁড়িয়ে যাই, স্থির হয়ে যাই, তবে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে আমি পড়ে যাবো।” হিংসে থাকলে আর ভিন্ন মানসিকতার মানুষ হলে একটা টিম তৈরি করা দুষ্কর, টিম তৈরির ক্ষেত্রে এই কথাটা মাথায় রাখার উপর জোর দেন ফারহানা আপু। এরপরই এমভিপি নিয়ে কথা বললেন এলেন আপু। এমভিপি হলো প্রোডাক্টের ডেমো অথবা এমন কিছু যেটা দেখে কাস্টমার ফিডব্যাক দিতে পারে, তা হতে পারে প্রোডাক্টের ছবি কিংবা ভিডিও ইত্যাদি। বিকালের চা বিরতির পরপরই রিমা হায়দার আপুর সেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন বহু আগে, দেড়শ-দুশো ছেলের সাথে একমাত্র মেয়ে পাঞ্জাবি পড়েই ক্লাস করতেন একসময়। আর এখন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা, কাজ করছেন পাটের তৈরি জিনিস নিয়ে। তিনি বললেন, “কোনো এসোসিয়েশনের সাথে যুক্ত থাকলে আইডিয়া কপি হওয়ার সম্ভাবনা কম।” “Trina’s closet”-এর তৃণা আপু কথা বললেন এরপর, একজন স্পেশাল চাইল্ডের মা হয়ে, “WE”, “e-cab”-এর মতো সংস্থার সাথে যুক্ত থেকে, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিদিনের যুদ্ধ শক্ত হাতে সামাল দিচ্ছেন সেই গল্প শুনে ক্রমেই বিস্মিত হতে থাকলাম। এরপর শুরু হলো দল তৈরি। সেরা পাঁচ আইডিয়া যাদের, তারা দলনেতা এবং বাকিরা তাদের পছন্দসই দলে জড়ো হবেন। ছত্রিশ জন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দশ জন ছিলেন উদ্যোক্তা আর বাকিদের মধ্যে কেউ কেউ কাজ করছেন কিংবা করবেন আর আমার মতো কেউ কেউ ব্যবসায় ব-কলম। তো দশজনের মধ্যে তিনজন উদ্যোক্তাই আমার দলে ভিড়লেন, ধীরে ধীরে আমার দলে পাঁচজন জড়ো হলো, প্রাপ্তি আপু, লোপা আপু, রুবানা আপু, আইরিন আপু আর জান্নাত আপু। ক্যাম্পে বয়সের দিক থেকে, অভিজ্ঞতার দিক থেকে সবচেয়ে ছোটদের একজন ছিলাম। তাই গোলগোল চোখ করে সবার কথা শুনছিলাম আর যা পাচ্ছি তাই শিখছি এরকম একটা ব্যাপার কাজ করছিলো। এই দল তৈরি আর সাজ্জাদ ভাইয়ের সেশন দিয়ে মোটামুটি রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রথমদিনের সেশন ট্রেন স্টেশনে থামলো। “পার্টনারশিপ তৈরি করার আগে দরকার পড়লে দশ হাজার বার ভাবব কিন্তু একবার পার্টনারশিপ-এ গেলে আর একবারও ভাবব না, সে ব্যবসায় কন্ট্রিবিউট করুক আর না করুক”-সাজ্জাদ ভাইয়ের কথা অনুসারে, আগে না ভেবে পরে এসব নিয়ে মানুষ বেশি ভাবতে যায় বলেই ব্যবসাগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এরপর রাতের খাবার খেয়ে রুমে যেতেই শুনি রুম বদলাতে হবে। আমি আর আমার রুমমেট অনন্যা দুজনই মোটামুটি বিরক্ত এ কথা শুনে। কারণ এই রুমটা বড্ড পছন্দ হয়েছিলো আমাদের। সে যাই হোক নতুন রুম দেখতে গেলাম আমি, ৪০৬ নম্বর রুম। রুমটা ছোট কিন্তু মজার ব্যাপার ওয়াশরুম বারান্দায়, মূলত এটা দেখেই আমার ব্যাপক মজা লাগে আর অনন্যাকে রাজি করিয়ে এই রুমে শিফট হয়ে যাই আমরা। ভাগ্য করে একটা রুমমেট পেয়েছিলাম, গান, নাচ, সার্কাস সব-ই পারে, রুমমেট হিসেবে সার্কাস দেখার সৌভাগ্যও হয়েছিলো আর কি! সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে বেশ ভালোই ঘুম হয়েছিলো। পরদিন ভোরে উঠে বারান্দায় আকাশ-বাতাস দেখতে দেখতে সকালের খাবারের ডাক পড়লো। নয়টা বাজে শুরু হলো দ্বিতীয় দিনের সেশন। “অনিন্দ্য প্রকাশনী”-র মালিক এবং ক্রিয়েটিভ আইটি-র বিজনেস হেড নাজিব ভাইয়ের সেশনটা চমৎকার ছিলো। তিনি বেশ কতগুলো কথা বলেছিলেন, “পৃথিবীতে মধ্যম অবস্থা বলে কিছু নেই, হয় পজিটিভ নয়তো নেগেটিভ। হয় কাজটা করব নয়তো করব না”। আরও বলেন, “পৃথিবীতে উড়তে হলে চাই জ্ঞান।” কিছু ফোকাস পয়েন্টও নোট করে দিলেন, সেগুলো হলো,

১. Attitude is everything: সব কাজেই নিজস্ব একটা স্টাইল থাকতে হবে।

২. Never ever plan B: প্ল্যান বি থাকলে কোনো কাজের প্রতি লেগে থেকে সফল হওয়ার ব্যাপারটা অতটা কাজ করে না। তাই “কর অথবা মর”-এই প্রবাদে বিশ্বাসী হতে হবে।

৩. বিনয়ী এবং সাহসী।

৪. Better person tomorrow: সবসময় গতকাল থেকে আজকের ‘আমি’-কে একটু হলেও উন্নত হতে হবে।

৫. Try a community build: কমিউনিটি তৈরি করতে হবে, হতে পারে মালিকে, মালিকে কমিউনিটি কিংবা মালিক আর কাস্টমারের মধ্যকার কমিউনিটি।

৬. Be honest.

নাজিব ভাই বিজনেস কার্ড দেয়ার নিয়ম শেখানোর পাশাপাশি বলেন, “একজন আইডল ঠিক করতে হবে। এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই বিচক্ষণতার সাথে আইডল ঠিক করতে হবে, অনুকরণ করতে হবে কিন্তু তাতেও নিজস্বতা থাকা বাঞ্ছনীয়। অনেকটা কোনো বিখ্যাত শিল্পীর গান গাওয়ার মতো, সুর একই কিন্তু কণ্ঠ ভিন্ন।” “আইসেক”, বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সৌরভ কুমার নেতৃত্বদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, “A styled home cup is leadership”। চা বিরতির পরপরই জিপি-র এইচআর হেড কাজী শায়লা শারমিন, ব্যবসা করতে গেলে তাতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যয়ের হিসাব রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বললেন। “benaulthepiper.com”-এর হাসান বেনাউল ইসলাম গল্পে গল্পে গল্পের মাহাত্ম্য তুলে ধরলেন। গল্পের প্লট একই রেখে শুধু উপস্থাপনের ভিন্নতা যে ঘটনাটিকে অনবদ্য এবং আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলে তা বেশ বুঝতে পারলাম। যেমন: ধরা যাক, ঢাকা শহরে ৭১% লোক বাসে যাতায়াত করেন। যদি ৭১% না বলে বলা হয়, ঢাকা শহরে তিনজনের দুইজন বাসে যাতায়াত করেন, তাহলে ব্যাপারটা আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পায়। বিজনেস মডেল ক্যানভাস নিয়ে বেশ ধুন্ধুমার আলোচনা হলো আছিয়া নিলা আপুর সেশনে। এরপরই ফান্ডিং নিয়ে আলোচনা, ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসন এন্ড ইনভেস্টমেন্টের ডিরেক্টর শওকত হোসেন বললেন, মার্কেট প্রাইসের সাথে তাল মিলিয়ে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করতে হবে। মার্কেট প্রাইসের তুলনায় দাম খুব কমিয়ে দিলেও পণ্য বিক্রি হবে না আবার বেশি বাড়িয়ে দিলেও পণ্য বিক্রি হবে না। এঞ্জেল ইনভেস্টর এম আসিফ রহমান কথা বললেন একটা স্টার্টআপ সফল কিংবা বিফল হওয়ার পেছনের কারণগুলো নিয়ে। তখন বাজে রাত দশটার মতো, “চুঁইঝাল”-এর জাহিদ ভাইয়ের সেশন দিয়ে শেষ হলো দ্বিতীয় দিনের সেশন ট্রেন। এরপর রাতের খাবার খেয়ে মোটামুটি সবারই শরীর ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু এরপরের দিনই প্রতি দলকে একটি করে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে এবং প্রেজেন্টেশন তৈরির সময় সারারাত। রাত সাড়ে দশটায় সরঞ্জামাদি দেয়া হলো। প্রায় সব দলেই এক বা একাধিক ল্যাপটপ আছে, শুধু আমার দলই ল্যাপটপ শূন্য। অর্গানাইজারদের বলতেই একটা ল্যাপটপ হাজির হয়ে গেলো। দ্বিতীয় দিন কিছু দুর্দান্ত ঘটনা ঘটে, মুনির স্যার প্রত্যেককে দুটো করে বই উপহার দেন। আর আমাদের ছয়জনের দলে একজন নতুন সদস্য এসে যুক্ত হোন, মোটমাট সাতজন, মানে ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় দল, সবচেয়ে ছোট দলনেতাকে সামলাতে হবে। অবশ্য আমার দল এতই দুর্ধর্ষ ছিলো যে আমাকেই সবাই মিলে সামলাচ্ছিলেন। এরপর শুরু হলো দেয়ালিকা আর পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির কাজ। তার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিজনেস মডেল দাঁড় করানো। প্রাপ্তি আপু পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের স্লাইড তৈরি করছেন, লোপা আপু, রুবানা আপু, আইরিন আপু মিলে আমাকে বিজনেস মডেল কীভাবে দাঁড় করানো যায় সেটা বোঝাচ্ছেন আর জান্নাত আপু আর মৌরি আপু মিলে দেয়ালিকার কাজ করছেন। দলের নাম রাখা হলো ‘নিনীষ’, অর্থাৎ জয়ের ইচ্ছা। এই দলটার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না, সবাই সবার জায়গায় এতটা সফল, এতটা শক্তিশালী অথচ সবাই একসাথে কাজ করছে, এত সুন্দর কো-অর্ডিনেশন খুব কম দলেই সম্ভব। অন্তত আমি পুরো জীবনে যত দলের সাথে কাজ করেছি তার মধ্যে অন্যতম, অনন্য এটি। ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ প্রথম প্রহর পেরিয়ে দ্বিতীয় প্রহর কেটে যাচ্ছে তবু আমাদের কাজ শেষ হচ্ছে না। বাকি কয়েকটি দল ঘুমিয়ে পড়লো মাঝরাতের দিকে। আমাদের সাত জনের কাজ ভাগ করা ছিলো। আমার আর প্রাপ্তি আপুর ছাড়া প্রায় সবার কাজ শেষ হয়ে গেলেও প্রত্যেকটা মানুষ বসে আছেন। একেকজনের ঘুমে চোখ লাল হয়ে গিয়েছিলো, ঘুমোতে যেতে বললেও ঘুমোতে যাচ্ছিলো না। আমার এই মানুষগুলোর নুয়ে যাওয়া চোখের পাতা দেখে কৃতজ্ঞতায় মন ভরে উঠছিলো আর নিজেকে ভীষণ আশীর্বাদতুষ্ট মনে হচ্ছিলো। “গিতিকা” ও “রঙ্গিমা”-র রুবানা আপু ‘নিনীষ’-এর লোগো বানাচ্ছেন তখন বাজে ভোর চারটা। প্রাপ্তি আপু, যে কি না এ জীবনে কোনোদিন রাত জাগেন নি, তিনি ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ল্যাপটপের সামনে ঠায় বসে স্লাইড তৈরি করেছেন। ‘নিনীষ’-এর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার ছিলো যে আমি সবচেয়ে ছোট হলেও দলনেতা হিসেবে প্রতিক্ষেত্রে আমার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকে এত সাহায্য করেছেন আর এত আদর করেছেন, অনেকটা হাতে ধরে শিখিয়েছেন।

ভোর সাড়ে পাঁচটায় আমাদের কাজ মোটামুটি শেষ হলো, কাজ করছিলাম মৌরি আপুর রুমে। কাজ শেষে আমার রুমে এসে দেখি আমার রুমমেট ভেতর থেকে দরজা আটকে স্বপ্নে চৌথা আসমান গিয়ে বসে আছেন। ঠক ঠক করেই যাচ্ছি দরজা খোলার নাম নেই। পুরোটা রাত জুড়ে মনে হচ্ছিলো কাজটা শেষ হলেই আমার জন্য বরাদ্দ করা বিছানায় বেশ করে ঘুমাবো। ভোর সাড়ে পাঁচটায় অবশেষে ঘুমানোর সুযোগ এলো ঠিকই কিন্তু দরজাটাই যে বন্ধ। যাযাবর আমি গিয়ে উঠলাম মৌরি আপুর রুমেই। সিঙ্গেল বেডে দুইজন ঘুমোতে গেলাম ভোর ছয়টায়। সাতটা বারো মিনিটে ঘুম ভেঙে গেলে আমার রুমের দিকে গেলাম, আমার বিছানায় যদি একটু আরাম করে ঘুমোতে পারি, এই ভেবে আবার দরজা ধাক্কালাম, এবারও কোনো খবর নেই। শেষমেশ ঘরের বাইরেই দুইটা সোফা জোড়া লাগিয়ে চেয়ারের উপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে রইলাম কিছুক্ষণ, লাভ যদিও তেমন হলো না। ইতোমধ্যেই দীপা আপু আসলেন, প্রত্যেক দরজায় একের পর এক চাপর দিয়ে ঘুম ভাঙাচ্ছেন সবার। অবশেষে আমি যেনো অন্ধকারে আলোর দেখা পেলাম। অনন্যা চৌথা আসমান থেকে পৃথিবীতে নেমে এলেন আর চিচিং ফাঁক করে দরজা খুলে গেলো। বাজে তখন সাড়ে সাতটার মতো, তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে সকালের খাবার খেতে দোতলায় দৌড় দিলাম। এরপর ব্যায়ামের সেশন, এই সেশনটা অবশ্য প্রচণ্ড পছন্দ হয়েছে আমার। “কমব্যাট জিম”-এর তুলি আপু অনেকগুলো ব্যায়াম করালেন। মুনির স্যার বলেছিলেন, “যেকোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে প্রথম একশ কাস্টমার পাওয়া সবচেয়ে কঠিন কাজ”। প্রথম আলো ডিজিটালের জাবেদ সুলতান পিয়াস কাস্টমার ডিফাইনিং নিয়ে বললেন, “আদর্শ কাস্টমার নির্বাচনের ক্ষেত্রে চারটি প্রশ্ন করতে হবে,

1.What do they look like?

2.What are their problems?

3.How do they want to be surved?

4.What do they think value is?”

“Shahin’s Helpline”-এর সিইও আমিনুল ইসলাম বলেন, ” বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ব্যবসা থাকা আর না থাকা একই কথা”।

চা বিরতির পরপরই শুরু হবে প্রেজেন্টেশন, আমার দুশ্চিন্তা আকাশচুম্বী। এমনসময় লোপা আপু অসুস্থ হয়ে গেলেন, এবার আমার রীতিমত শনির দশা। রুবানা আপু, আইরিন আপু আর আমার বাকি টিমমেটরা লোপা আপুকে কোনোরকমে সুস্থ করলেন। এরপর শুরু হলো প্রেজেন্টেশন, সবশেষে আমরা “নিনীষ”। প্রেজেন্টেশন শেষ করলাম, “Have a beautiful 29th February!”-বলে। একের পর এক প্রশ্ন, বুঝলাম বিজনেস সাস্টেইনিবিলিটি-ই নেই এই আইডিয়ার। শেষমেশ বিচারকমণ্ডলী বলে উঠলেন, “বোঝা যাচ্ছে এই দলের প্রত্যেকের মন অনেক ভালো। এই টিমের নাম ‘মাদার তেরেসা’ রাখা যায়। কিন্তু চ্যারিটি দিয়ে বিজনেস হয় না”। আমি পুরো ব্যাপারটাতেই বেশ মজা পেয়েছি, যা অর্জন করার তা ক্যাম্পের বাকি পঁয়ত্রিশ জন মানুষের থেকে আমি অর্জন করে ফেলেছিলাম। তাই আমার কোনো আক্ষেপ কাজ করছিলো না। শিখতে এসেছি, শিখে যাচ্ছি-বারংবার এটাই মনে হচ্ছিলো।

ক্যাম্পের সর্বশেষ দুপুরের খাবার! ডাইনিংয়ে সাতখানা চেয়ারওয়ালা একটি টেবিল ছিলো, অলিখিতভাবে টেবিলটা “নিনীষ”-এর হয়ে গেছিলো। খাওয়াদাওয়ার পর নাজনীন সুলতানা ম্যাম এবং লাফিফা জামাল ম্যাম কথা বলেছিলেন নানা বিষয় নিয়ে। তিনদিনের সুদীর্ঘ সেশন ট্রেন অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছুলো। অনিন্দ্য প্রকাশনীর “কেমন আছে ফ্রিল্যান্সার নাদিয়া”-বইটি পেয়ে আর “আশা ফুড”-এর আশা আপুর আনা মজাদার মিষ্টি খেয়ে আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিলো। একটা খেলার মধ্য দিয়ে সাড়ে পাঁচটা কি ছয়টার দিকে শেষ হলো ছত্রিশ জনের রোমাঞ্চকর তিনটি দিন।

আগের দিন নাজিব ভাই বলেছিলেন তিনি চব্বিশ ঘণ্টায় মাত্র একঘণ্টা ঘুমিয়ে আমাদের সেশনে এসেছেন, তখন উনাকে সুপার হিউম্যান মনে হচ্ছিলো। ঠিক পরেরদিন-ই বিয়াল্লিশ ঘণ্টায় একঘণ্টা বারো মিনিট ঘুমিয়ে মোটামুটি মদ না খেতেই মাতাল অবস্থা হয়েছিলো আমার।

চার বছর পর পর অধিবর্ষ যেমন দুর্লভ অথচ অনন্য, ঠিক তেমনি ক্যাম্পের অভিজ্ঞতা। চার বছর পর ২৯ ফেব্রুয়ারি কেমন হবে জানি না, তবে ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ যে এত অসাধারণ মানুষের সাথে কাটবে তা অভাবনীয় ছিল।

কমেন্ট করুন

সামা জামিলা রহিম

সেশন: ২০১৮ - ২০১৯

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.