ভিন্ন জগৎ

“ছেলেটার নিজস্ব একটা কল্পনার জগত আছে … কল্পনার জগতে সে কুয়াশা দেখে … প্রচণ্ড শীতের মাঝে সে একা রাস্তায় হাঁটছে … তার মোটা কাচের চশমাটা আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে … ঝাপসা কাচের মধ্য দিয়েই সে একটা মুখ দেখতে পায় … খুব রূপবতী একটা মুখ … মুখটা ঝাপসা … চোখ মেলে দেখা যায় না … কিন্তু চোখ বুঝলেই পরিষ্কার দেখা যায় … অসম্ভব মায়া সেই মুখে!
বসন্তের কৃষ্ণচূড়ার ডালে যখন আগুন লাগে … ছেলেটার কল্পনার জগতে লাল কৃষ্ণচূড়ার মত শাড়িতে তখন মেয়েটা পরী হয়ে ডানা ঝাপটায় … পরীটার হাতে লাল চুড়ি … কাচের চুড়ির টুংটাং শব্দে তীব্র মাদকতা আছে … সেই মাদকতায় আসক্ত হয়ে ছেলেটা চোখ বুজে ফেলে!
… … …
মেয়েটা প্রায়ই গালে হাত দিয়ে আনমনা হয়ে যায় … কল্পনায় নিষ্পাপ মুখের একটা ছেলেকে সে প্রায়ই দেখে … কখনো শীতের রাতে … কখনো এক চিলতে রোদের মাঝে সে আবিষ্কার করে ছেলেটার মুখের মুচকি হাসি … তার এলোমেলো চুল দেখে তীব্র ভালোবাসা অনুভব করে … তক্ষুণি কল্পনার জগত থেকে পালিয়ে যায় মেয়েটা … তীব্র ভালোবাসার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না!
… … …
কোন এক শীতের সকালে হয়তো সত্যি সত্যিই তাদের দু’জনের দেখা হয়ে যাবে … চাদর মুড়ি দিয়ে মেয়েটা আস্তে আস্তে হাঁটতে থাকবে … ছেলেটার খুব ইচ্ছে হবে মেয়েটার হাত ছুঁয়ে দিতে … শীতল একটা স্পর্শ অনুভব করতে … বাস্তবে তার বরফ শীতল হৃদয়টা জমে আছে অনেক যুগ ধরে!
মায়াভরা মুখের মেয়েটারও খুব ইচ্ছে হবে শীতল হাত দুটো দিয়ে ছেলেটার গালের সবটুকু উষ্ণতা ধার নিতে … একদিন সে সুদে আসলে ফেরত দিয়ে দিতো সব … সারাটা জীবন ধরে ফেরত দিয়ে যেতো !!
… .
বাস্তবে বসন্ত আসে, শীত চলে যায়, রোদ জ্বলে, বৃষ্টি থেমে যায় … কেউ আসে না … মেয়েটা বরফ শীতল হৃদয় নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে অপেক্ষা করতে থাকে!
ছেলেটা চোখ বুজলেই দেখে মেয়েটা আজ চোখের নিচে কাজল পরেছে … ছেলেটার খুব ইচ্ছে হয় অনন্তকাল ধরে ঐ চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে … চোখের ভেতরের টলমলে জগতটায় চিরদিনের জন্য হারিয়ে যেতে!
সেই জগতে শুধু সে থাকবে … আর মায়াভরা মুখের মেয়েটা থাকবে … মাঝে মাঝে মেয়েটা তার চুল এলোমেলো করে দিবে … রেগে গিয়ে নখের আচড় বসিয়ে দিবে … অভিমান করে ঠোঁট ফুলিয়ে বসে থাকবে … তারপর আবার আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল রেখে জানিয়ে দিবে, সে আছে, সে থাকবে!
… … …
কল্পনার জগতটাই বড্ড সুন্দর … মাঝে মাঝে সব জেনে শুনেও চোখ বুজে তাই মটকা মেরে পড়ে থাকতে হয় … বাস্তবতা থেকে পালানো যাবে না জেনেও কল্পনায় কারো হাতটা শক্ত করে ধরে খুব জোরে ছুটে যেতে হয় … উপায় নেই … কল্পনার জগতটা চুম্বকের মত টেনে নিয়ে যায় … ঐ জগতটা অসহ্য রকমের সুন্দর … অসহ্য সৌন্দর্য্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব না … উহু, একদম সম্ভব না!”

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ২০১৭ - ২০১৮

জাহিদ আহমেদ

সেশন: ২০১৭ - ২০১৮