সিনেমা রিভিউ – ২০০১:এ স্পেস ওডিসি

সিনেমাঃ ২০০১:এ স্পেস ওডিসি(2001:A Space Odyssey)
পরিচালক : স্ট্যানলি কুবরিক
IMDb রেটিংঃ ৮.৩/১০

রোটেন টমাটোসঃ ৯৪%
নিজস্ব রেটিংঃ ১০/১০
মুক্তি সালঃ ১৯৬৮
দৈর্ঘ্যঃ ১৬৪ মিনিট

“There is only one Kubrick.

2001: A Space Odyssey is a pure cinema.”

– Christopher Nolan

হুমায়ূন আহমেদের কোনো এক লেখায় পড়েছিলাম কিংবদন্তী পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁর ছবি বানানোর কৌশল “নতুন ভাবে” শেখার জন্য কুবরিকের ‘2001: A Space Odyssey’ ছবিটি ২০ বারের উপর দেখেছিলেন।

আরেক বিখ্যাত পরিচালক জেমস ক্যামেরন এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘2001: A Space Odyssey’ দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন ভবিষ্যতে সিনেমা বানাবেন।

বিখ্যাত সাই-ফাই সিরিজ স্টার ওয়ারস, স্টার ট্রেক, ই.টি, দ্যা ম্যাট্রিক্স, ব্যাক টু দ্যা ফিউচার, ব্লেড রানার কিংবা হালের ইন্টারস্টেলার বা গ্র‍্যাভিটি, কিছুই হয়তো সম্ভব হতো না; যদিনা কুবরিক ‘2001: A Space Odyssey’ বানাতেন। এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যতো সাই-ফাই ঘরানার মুভি বানানো হয়েছে তাদের আদি পিতা বলা হয় Space Odyssey কে।

বাংলা ভাষায় একটা বাক্য রয়েছে, ‘তব্দা মেরে যাওয়া’। আক্ষরিক অর্থেই ‘২০০১: এ স্পেস ওডিসি’ দেখার পর আমি তব্দা মেরে গিয়েছিলাম। এ পৃথিবীতে মানুষ দু’ভাগে বিভক্ত। এক ভাগ মনে করে মানুষ চাঁদে গিয়েছে। আর আরেকদলের মত মানুষ চাঁদে যায়নি। তাদের মতের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ হলো কুবরিকের এই কীর্তিটি। নাসার পরিকল্পনায় Area-51 এ কুবরিক নাকি নীল আর্মস্ট্রং আর এডুইন অলড্রিনের চাঁদে যাওয়ার ঘটনা পুরোটা শ্যুট করেছিলেন। আগে এই কন্সপিরেসি থিওরিকে আজগুবি মনে হতো। এমনকি এখনো মনে হয়। তবুও ‘২০০১: এ স্পেস ওডিসি’ দেখার পর আমার বিশ্বাসে চরম ধাক্কা খেয়েছে। কারণ, মানুষ যদি চাঁদে গিয়েও থাকে, তবে সেটা ১৯৬৯ সালে। কিন্তু তারও এক বছর আগে কুবরিক আমাদেরকে নিয়ে গিয়েছিলেন চাঁদে। শুধু চাঁদেই নয়, বরং কুবরিকের কল্পনার বিস্তৃতি পৌঁছেছে জুপিটার গ্রহ -উপগ্রহ পর্যন্ত।

তবে মুভিটির নাম দেখে মনে করছিলাম ২০০১ সালের মুভি। কী অসাধারণ অবিশ্বাস্য ভিজুয়াল ইফেক্টসের ছড়াছড়ি। তার সাথে Unique Background Sound যা একমাত্র কুবরিক দ্বারাই সম্ভব। কিন্তু যখন বুঝি মুভিটা ১৯৬৮ সালে বানানো, তখন বড্ড বেশি অবাকই হই।

এমন কি ১৯৬৮ সালে এ মুভি বানানো হয়েছে, এটা এখনো আমি বিশ্বাস করতে পারি না। কোনো VFX ব্যবহার না করে কুবরিক এই মুভি বানিয়েছিলেন সেটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক।

বর্তমান বিশ্বে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং, কম্পিউটার ভিশন বা ডীপ লার্নিং নিয়ে কত মাতামাতি। আর কুবরিক আজ থেকে প্রায় ৫২ বছর আগেই আমাদের এসবগুলি সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু কি তাই? ১৯৬৮ সালের এই মুভিতে তিনি মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ভিডিও কলও দেখিয়েছিলেন।

মাঝেমধ্যে ভাবি, লোকটা কি শুধুই ফিল্মমেকার ছিলেন, নাকি বিজ্ঞানী !?

একটা মানুষ সময়ের চেয়ে কতটা এগিয়ে ছিলেন, ভাবা যায়? একজন সাইন্স-ফিকশন প্রেমী হিসাবে আমার অনেক ইচ্ছা ছিল কোন মুভি বা ডকুমেন্টারি তে ‘Beyond the Infinite’ বিষয়টি কতটুকু কল্পনা হতে পারে তা দেখা। মুভির শেষ দৃশ্যে একজন মহাকাশচারী মনোলিথের পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে ওয়ার্মহোলের মধ্যে দিয়ে স্পেস ট্রাভেল করার ‘Beyond the Infinite’ বিষয়টি যে ভাবে কুবরিক ফুটিয়ে তুললেন; এক কথায় তা অবিশ্বাস্য!

বিখ্যাত কল্পকাহিনীর লেখক আর্থার সি ক্লার্কের ছোট গল্প ‘The Sentinel’ এর অনুপ্রেরণায় কুবরিক বানান ‘২০০১: এ স্পেস ওডিসি’। মুভিটা এতোটাই জটিল যে আর্থার সি ক্লার্ক এ সম্পর্কে বলেন যে, “কেউ যদি মুভিটি পুরোপুরি বুঝতে পারে, তাহলে আমরা (তিনি আর কুবরিক) দু’জনই ব্যর্থ।”

কমেন্ট করুন
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি