মুজিববর্ষ রচনা প্রতিযোগিতা ২০২০ এর পুরস্কার বিতরণী

মুজিববর্ষ রচনা প্রতিযোগিতা ২০২০ এর পুরস্কার বিতরণী

অ্যানেক্সের সামনে আজ সোনালুরা ফুটে আছে। কিশলয়েরা নাচছে, দুলছে। বেলা দশটা পেরিয়েছে, নির্মল-পরিষ্কার সূর্যালোকে সোনালুদের চকচকানি দেখেই ঠাহর করা যাচ্ছিল আজ অ্যানেক্স পরিসংখ্যান বিভাগে আয়োজন-অনুষ্ঠানের বন্দোবস্ত আছে— আছে তো নিশ্চয়!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মুজিববর্ষ রচনা প্রতিযোগিতা ২০২০’—এর ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বিভাগের ৪০১ নং কক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৮ জুন, ২০২২ ইং সকাল দশটায় অধ্যাপক মুরশীদা খানম ম্যামের সঞ্চালনা ও পরিচালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাফর আহমেদ খান স্যারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস ছামাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে মুজিব বর্ষ উদযাপন কমিটি-২০২০ এর আহ্বায়ক অধ্যাপক মুরশীদা খানম ম্যাম আয়োজনের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম, তার মাধ্যমে আমরা চেয়েছি বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনার আলো ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে যেন ছড়িয়ে যায়।“

অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্যার তার বক্তব্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি জাতীয় উদযাপনের সাথে পরিসংখ্যান বিভাগের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপনের সকল আয়োজনের সমাপ্তি হয়েছে।“ এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক নিতাই চক্রবর্তী স্যার তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্বীকার করেন। অধ্যাপক ড. জাফর আহমেদ খান স্যার তার বক্তব্যে বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সেলিব্রেট করো, অহংকার করো না।“

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস ছামাদ স্যার একমাত্র বিভাগ হিসেবে পরিসংখ্যান বিভাগ এমন একটি উদযাপন আয়োজন করায় বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বাঙালি জাতীর বিভিন্ন অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের উপর আলোচনা করেন তিনি। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি পড়ার গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনার বিষয়টি সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে বঙ্গবন্ধু বৈদেশিক সহায়তায় শিক্ষাখাতে বরাদ্দের বিষয়টি বরাবরই সামনে রাখতেন।

অতিথিদের বক্তব্যের পর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণের পালা। “শিক্ষা উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা: প্রেক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়” বিষয়বস্তুর উপর আয়োজিত প্রতিযোগিতায় পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ২২জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রাপ্ত রচনাগুলো মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্থানধারী ৩ জনকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।

আষাঢ়ে দুপুরে মেঘহীন আকাশে তপ্ত রোদে দোদুল কদমেরা যেমন অস্বস্তি আর উদ্বিগ্নতা নিয়ে সূর্যকর পানে চেয়ে থাকে তেমনি উৎকণ্ঠা আর প্রবল আগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগীরা চেয়েছিল ডায়াসের দিকে। একে একে ঘোষণা আসে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানধারীর নাম। প্রথম স্থান অধিকার করেন ২০১৬-’১৭ শিক্ষাবর্ষের হরিপদ শীল। যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ২০১৫-‘১৬ সেশনের আবু সায়েম মুহাম্মদ শাফিন ও ২০১৭-‘১৮ সেশনের মোসা. আতিয়াতুজ জাহান। এছাড়াও অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” বইটি উপহার দেয়া হয়। বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মো. আব্দুস ছামাদ স্যারের হাত থেকে বিজয়ীরা পুরস্কারের চেক, ক্রেস্ট, বই ও সার্টিফিকেট পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক, কর্মচারী-কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের
আর সবশেষে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে মুজিব বর্ষ উদযাপনের এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিবেদক-

মোহাম্মদ ইকরাম

কমেন্ট করুন

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.