তোমার পানে চেয়ে (পর্ব – ১)

সন্ধ্যার শহরে বৃষ্টি নামছে, বৃষ্টি নামছে মনের চিলে কোঠায়
তুই ডাক দিলে মেঘের পাহাড় ভেঙে যায়, ভারী বর্ষনে ভাসে সারা পাড়া। তবু এই কাঁদাজল পেরিয়ে ছুটে চলেছি তোর কাছে। ছাতা বিহীন পথে ঘড়িটা ভিজছে, আগে হলে হাতঘড়িটার সুরক্ষা নিতাম, আজ নিবোনা।
সময় থেমে যাক কারণ, এই সময়টুকুর স্মৃতি লুকিয়ে রাখবো ঐ আটকে থাকা তিনটি কাঁটায়।
ফের যখন চোখ রাখবো, তোকে মনে পড়বে। নিতান্ত ছেলেমানুষী করে ঘড়িটা আবার পড়বো, কারণ তোর স্মৃতি মিশে থাকবে যে, আমি ভিজে চলেছি তোর অপেক্ষায় কিন্তু থেমে যাওয়া নেই, তোর দেখা নেই যে। চশমার কাচে জলবিন্দু গুলো গড়িয়ে পড়ছে, কিছু দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে, ঝাপসা দৃষ্টি তোর কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ছাতা হাতে দাঁড়ানো আধা ভেজা অস্পষ্ট একজন মানুষ, প্রায় চলে এসেছি তাও আর একটু ভিজতে ইচ্ছে হচ্ছে।
বকবি ভীষণ?
ভিজে চুলগুলো আলতো হাতে মুছতে মুছতে বলবি কি, “আজ না আসলেও পারতে, আমাকে বললে আমি ফিরে যেতাম”। অথচ তুই অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে ছিলি, এটা আমার থেকে ভালো কেই বা জানে!
তোর স্বরে মিশে যাবে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি গুঞ্জনে। কী অপূর্ব সুরবিতান! আমি স্বপ্ন বিষ্ট হয়ে শুনতে শুনতে হারিয়ে যাবো অলীক কল্পনায়। সাথে তুই আর ঐ সুরের মহড়া নিয়ে। ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তোর উপরেই থাকলো।

-মেসেঞ্জারের বিরক্তিকর আওয়াজে হঠাৎ থমকে গেলাম।
সব কল্পনা ছিলো! বৃষ্টি, তুই, মেঘের গর্জন, তোর স্বরে গানের সুর সব, সবই কল্পনা?
তাছাড়া কি বা হবে, তোর সাথে কতদিন কথা হয় না দেখা তো অনেক পরের কথা। এমনই এক বৃষ্টি ভেজা দিনে আমাদের দেখা হয়েছিল। যাত্রী ছাউনিতে দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ এক ছেলে কাক ভেজা হয়ে এসে পাশে দাঁড়ালো। সেই প্রথম দেখা। বৃষ্টি থামার পর একসাথে বাসে উঠলাম দুজন। কিন্তু কে জানতো সেই অচেনা ছেলেটাই জীবনের এত বড় অধ্যায় হয়ে উঠবে।
এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মায়ের ডাক, ‘নিশি, কীরে তুই কি খাবিনা?’
‘হ্যাঁ মা, আসছি ‘
নিশি যেয়ে খেতে বসতেই মা বলে উঠলো, “শোন নিশি, তোর মামা কিন্তু ছেলে দেখেছে একটা। তারা কাল দেখতে আসবে তোকে। রেডি হয়ে থাকিস।” অবাক হয়ে মায়ের দিকে জলভেজা চোখে তাকিয়ে থাকলো নিশি। তার মনে হচ্ছে হাউমাউ করে কেঁদে উঠতে কিন্তু পারলো না। নিজেকে সামলে না খেয়ে ঘরে চলে গেল।
‘কিরে না খেয়ে কোথায় যাচ্ছিস? দেখ এমন জেদ কান্না ভালো লাগছেনা আমার। তোদের বাবা মেয়ের এই ঝামেলা আর ভালো লাগেনা। সব জ্বালা আমার একার…..’।

মায়ের কোনো কথা কানে নিলোনা নিশি। ঘরে দরজা লাগিয়ে রাগে কান্না করে দিলো।
তার বিয়ে নিয়ে সবাই ব্যস্ত কিন্তু সে বিয়ে করতে চায় না। সে তো একজনেই আবদ্ধ হয়ে আছে।

‘সাগর’, সাগরের সাথে তার আলাপ এই ১ বছর ২ মাস। ছেলেটা খুব শান্ত-শিষ্ট স্বভাবের, অনেক ভদ্র একটা ছেলে। তাদের আলাপ টা বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে ফোন নম্বর, ফেইসবুক পার হয়ে এখন গভীর এক প্রণয়ে রূপ নিয়েছে। নিশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে আর সাগর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করে চাকরির খোঁজে দিন কাটাচ্ছে। একটা চাকরির অভাবে নিশি বা তার নিজের পরিবারের কাওকে কিছু জানাতে পারছে না। কি মুখেই বা তাদের সামনে যেয়ে দাঁড়াবে সে? এইসব কিছুর চিন্তায় সে অতিষ্ঠ। তার উপর নিশির বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ। এসব কারনে গত 2 সপ্তাহ সে নিশির সাথেও যোগাযোগ করেনি, সে জানে নিশি ভালো নেই। কিন্তু সে নিজেও আর পারছে না। নিশির কিছুই ভালো লাগছে না। এক তো সাগরের সাথে কথাও হচ্ছেনা তার মধ্যে আবার পাত্র পক্ষের সামনে বসা। এই নিয়ে চতুর্থ বারের মতো সে পাত্র পক্ষের সামনে বসতে হচ্ছে তাকে। গত দুই সপ্তাহ একটা বার ফোন বা মেসেজ দেওয়ার সময় পেল না? নিজের কিছু না হোক, আমি যে কষ্ট পাচ্ছি সেটাও তার মনে হয় না? এত জেদি, এত একরোখা থাকা ভালো না। আমি আছি যত বিপদে। না পারছি তাকে ছাড়তে, আর না পারছি বাড়িতে সামলাতে। তাদেরকে আর কত অজুহাত দিবো। এসব ভাবতে ভাবতে নিশি ঘুমিয়ে পড়ল….

(চলবে)

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্যাপাইরাসের অনলাইন সংস্করণের ৪র্থ বর্ষপূর্তি

প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য