আগস্ট 12, 2026

বইটি মূলত এক ভিন্নধর্মী রহস্য উপন্যাস।

রহস্য উপন্যাস বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি-একজন গোয়েন্দা, খুন আর ধাপে ধাপে উন্মোচিত সত্য। তবে The House Where I Died Once সেই প্রচলিত ছকের বাইরে দাঁড়িয়ে একেবারে ভিন্ন এক পাঠ-অভিজ্ঞতা তৈরি করে। কেইগো হিগাশিনো-এর এই উপন্যাসে নেই কোনো গোয়েন্দা, নেই দৃশ্যমান কোনো হত্যাকাণ্ড; তবুও এটি নিঃসন্দেহে একটি রহস্য উপন্যাস। বরং বলা যায়, এই বইটি প্রমাণ করে রহস্য সবসময় রক্তাক্ত হয় না; কখনো কখনো তা মানুষের স্মৃতি, মানসিকতা এবং অতীতের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে। 

এই উপন্যাসটি পাঠকের সামনে এমন এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, যেখানে রহস্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি নিঃসঙ্গ ও পরিত্যক্ত বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ির নীরবতার ভেতরেই জমে আছে বহু অজানা এবং ভুলে যাওয়া ইতিহাস। উপন্যাসটির কাহিনী আবর্তিত হয় এই বাড়িকে ঘিরে, যেখানে প্রধান চরিত্র তার অতীতের হারানো স্মৃতি পুনরুদ্ধারের জন্য ফিরে আসে। বাড়ির প্রতিটি ঘর, প্রতিটি বস্তু, প্রতিটি বিন্যাস যেন ধীরে ধীরে খুলে দেয় এক অদৃশ্য ধাঁধার জট।

এই উপন্যাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা। স্মৃতি এখানে নির্ভরযোগ্য নয়; বরং তা খণ্ডিত, বিকৃত, কখনো হয়তোবা অন্য কোনো ঘটনা দিয়ে নির্মিত। উপন্যাসের এক পর্যায়ে হয়তো পাঠকের মনেও প্রশ্ন জাগতে পারে— আমরা যা মনে রাখি, তা কি সত্যিই বাস্তব? নাকি আমাদের মন নিজের মতো করে বাস্তবতাকে সাজিয়ে নেয়?

তবে উপন্যাসটির শুরুর দিকে ধীর গতি সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। বিশেষ করে যারা দ্রুতগতির থ্রিলার বা প্রতি পদে চমকপ্রদ মোড়ের প্রত্যাশা করেন, তাঁদের কাছে গল্পের শুরুর দিকের কিছু অংশ ধীর মনে হতে পারে। তবে উপন্যাসটির শেষ দিকে রহস্যের উন্মোচন পাঠককে অবশ্যই অবাক করবে। 

“দ্যা হাউজ হোয়ার আই ডাইড ওয়ান্স” আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সবচেয়ে বড় রহস্য মানুষের মনের ভেতরে কিংবা মানুষের চিন্তায়। কোনো খুন কিংবা কোনো গোয়েন্দা ছাড়াও যে রহস্য উপন্যাস হতে পারে, এই বইটি তারই একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ২০১৯-২০

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ