সেপ্টেম্বর 11, 2026

উপসম্পাদকীয় – সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি,আধুনিক সেক্যুলার রাষ্ট্রগুলোর আইনের ধারণার উৎস কী জানেন? কিছু অংশে ধর্ম, প্রথা ও রীতি, বাস্তব ক্ষমতা সম্পর্ক, অর্থনীতি। তবে বহুলাংশে তা দার্শনিকদের চিন্তা থেকে এসেছে।

দর্শন থেকে যা এসেছেঃ

১)প্রাকৃতিক আইন তত্ত্ব (Natural Law)

২)সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব(Social Contract Law)

৩)কান্টের(Immanuel Kaunt) নৈতিকতা

৪) উপযোগিতাবাদ (Utilitarianism)

আজকের কথা বলবো Utilitarianism and Economic system নিয়ে এন্ড এদের কোরিলেশন নিয়ে। Utilitarianism এর ধারণা: According to Jeremy Bentham, “যে কাজ সবচেয়ে বেশি মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি সুখ (utility) সৃষ্টি করে, সেটাই নৈতিকভাবে সঠিক।” Basically “Greatest happiness for the greatest number”। বাংলাদেশ-ভারতসহ, প্রথম বিশ্বের দেশগুলো যেমনঃ জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ইত্যাদি দেশের সংবিধানে Utilitarian দর্শনের মূল নীতিগুলো সরাসরি প্রতিফলিত।

এখন আসুন Economic system এ, বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ — বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশ মূলত Capitalist ব্যবস্থায় চলে। IMF, World Bank, WTO — এই তিনটি প্রতিষ্ঠান মূলত Capitalist নীতি প্রচার করে। ঋণ পেতে হলে Capitalist reform করতে হয়।Capitalism উদ্ভাবনকে পুরস্কৃত করে, তাই Silicon Valley, Apple, Amazon সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে প্রচলিত ক্যাপিটালিজম মূলত হলো Crony Capitalism — যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ব্যবসায়িক সুবিধা একে অপরের উপর নির্ভরশীল (এস আলম, বসুন্ধরা এদের সাথে পলিটিক্যাল পার্টি গুলার রিলেশন কেন বুঝতে পারছেন?)।

এখন ক্যাপিটালিজম আসলে কি? সহজ কথায়,

জমি, কারখানা, পুঁজি ব্যক্তিমালিকানায় থাকে এবং মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।

এখন, যারা যারা ইকোনোমিক্স পড়েছেন, সকলেই

Vilfredo Pareto এর 80-20 rule সম্পর্কে পড়েছেন। ১৮৯৬ সালে তিনি লক্ষ্য করলেন —

ইতালির ২০% মানুষ দেশের ৮০% সম্পদের মালিক।

পরে দেখলেন এই প্যাটার্ন সর্বত্র দেখা যায়। তখন এটি universal principle হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো।

Pareto নিজে বলেছিলেন এই বৈষম্য স্বাভাবিক ও অনিবার্য। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা আরো চরম — ৮০/২০ আজ হয়ে গেছে ৯৯/১। চলুন একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝি।

সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ (৯ম pay scale) অনুমোদন করেছে। নতুন বেতনস্কেলের মূল দিক: বিদ্যমান ২০টি grade বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করেছে। বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে পুরো বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন স্কেল কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই থেকে, সাথে বার্ষিক increment (৫%) ও বিশেষ প্রণোদনা (১০-১৫%) যোগ হচ্ছে ১ জুলাই সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের ৫% হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং ২০২৫ সাল থেকে নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের সাথে ১০-১৫% হারে বিশেষ প্রণোদনা যোগ হবে।

মোট কতজন সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন:

নতুন স্কেলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন — অর্থাৎ active + retired মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ+ মানুষ এর আওতায় আসছে। এর ফলে কি হবে?  Statistics/Economics এর দৃষ্টিকোণ থেকে এটা মূলত demand-pull inflationary pressure তৈরি করতে পারে — ৩৩ লাখ মানুষের disposable income একসাথে বাড়লে aggregate demand বাড়বে, কিন্তু supply side সেভাবে নেই, ফলে সাধারণ জনগণের জন্য জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়বে সামনে — বিশেষ করে যারা সরকারি চাকরির বাইরে fixed income-এ আছেন, তাদের জন্য real purchasing power কমে যাবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি চাকুরিজীবী এবং শ্রমিকদের জীবন কঠিন হবে। বৈষম্য, দারিদ্র, তারল্য সম্পদ সহ অর্থসামাজিক নানাধরণের সমস্যা তৈরি হবে যেটা মোকাবিলা করার পূর্ব প্রস্তুতি বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আছে কিনা, তা প্রশ্নের দাবি রাখে।

এখন কথা হচ্ছে এই capitalist economy কি utilitarianism কে ধারণ করে কিনা? যখন একটা সমাজের ৮০% সম্পদের মালিক ২০% মানুষ হয় তখন নিশ্চিতভাবে বলা যায় সেখানে “সর্বাধিকের সর্বোচ্চ সুখ” এই ধারণার ব্যত্যয় ঘটেছে।

আর বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি চাকুরিজীবীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ এবং জনসংখ্যা ১৮ কোটি। গাণিতিক হিসেবে এইটি দাঁড়ায় প্রায় ১.৮৩% এ।যখন দেশে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাসের সংকট এবং একই সাথে দ্রব্যমূল্যের দাম ক্রমাগত উর্ধ্বগতিরদিকে তখন এই প্রজ্ঞাপনটি নিশ্চিতভাবেই “Greatest happiness for the greatest number” এর দর্শনের সাথে contradictory নয় কি? এখন এই এক্সিকিউটিভ অর্ডার না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু আমাদের পুরো অর্থনীতি কি আধুনিক রাষ্ট্রের utilitarianism কে ধারণ করে কি? নাকি তা নিজ দর্শনেরই বিপরীতে চলে? এই প্রশ্ন থেকেই যায়।

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ