সেপ্টেম্বর 11, 2026

আচ্ছা, আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় কোনটা? আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই প্রশ্ন যদি আমি দশজনকে জিজ্ঞাসা করি, তাহলে নয়জনই হয়তো বলবে শৈশবের কথা। সত্যি বলতে কি, যান্ত্রিকতার এই যুগে নিজেও যেন হয়ে গিয়েছি রোবোটিক যুগের মানুষ। নিজের শৈশব এর কথা তো নিজেই ভুলতে বসেছিলাম! আজকে মন নামের সেই ডাইরির পাতা উল্টে নিজের শৈশবে ফিরে যাই…

আমার শৈশব-কৈশর কেটেছে রাজশাহী শহরে। শহর বলতেই যেমন চোখের সামনে ভেসে ওঠে শুধুই ইট-পাথরের সংমিশ্রনে গড়ে ওঠা দালান-কোঠা, আমার বেড়ে ওঠা শহর কিন্তু মোটেও অমন না। বাসার আশেপাশে ছিল বেশ কিছু ধানিজমি। সেখানে সারা বছর ধান চাষ করা হতো, আশেপাশের জমিগুলোতেও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হতো। শহরে থেকেও প্রকৃতির অনেকটা কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য হয়েছে। একটা সময় ছিল যখন ভাবতেও পারতাম না, মানুষ সকাল আটটার পরে কীভাবে ঘুমিয়ে থাকে। আর বিকালগুলো? বিকালগুলো কেটে যেত নানানরকম খেলাধুলায়। বাসার আশেপাশে সমবয়সী যারাই ছিলাম, তারা সবাই মিলে একসাথে খেলতাম। কত রংবেরঙের খেলা যে ছিল আর নামগুলোও ছিল বেশ।

২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কথা সারা জীবন স্বর্ণালি অধ্যায় হিসেবে মনে থেকে যাবে। পছন্দের দল নিয়ে তর্কবিতর্ক, কিংবা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দুই দলে বিভক্ত হয়ে নিজেরাই ফুটবল খেলা! কতটাই না রঙিন ছিল সেই সময়গুলো।

তবে ঠিক এক বছর পরে যখন ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলো, তখন খেয়াল করলাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় বিভক্ত হয়ে থাকা মানুষগুলোই একত্র হয়ে বাংলাদেশকে মনপ্রাণ দিয়ে সমর্থন করে যাচ্ছে।

আরেকটু বড় হয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলাম, তখন শুরুতে মন খারাপ থাকতো। এতটা সময় কেউ স্কুলে বসে থাকতে পারে নাকি! তবে ধীরে ধীরে দিন বদলাতে থাকল। এখনকার মত অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে স্কুলের বেতন দেওয়ার রীতি তখন ছিল না। “বেতন ডেট” নামে একটি নির্ধারিত তারিখে শুধু বেতন গ্রহণ করে ছুটি দিয়ে দেওয়া হতো। সেই দিনটাতে সবাই মিলে একসাথে ক্রিকেট খেলার যে মজাটা,  স্বাভাবিক দিনগুলোতে আসতো না।

স্কুলে না যাওয়ার বাহানায় কখনো কখনো জ্বরের ভান করে পড়ে থাকা কিংবা বৃষ্টির দোহাই দিয়ে না যেতে চাওয়াও কিন্তু ঐ জীবনেরই একটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। তার সাথে ছিল নানানরকম গল্পের বই পড়ার প্রচণ্ড নেশা। স্কুল জীবনে থাকতেই কত যে গোয়েন্দা কাহিনী শেষ করে ফেললাম। শীতকালে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বই পড়া যেন এক ভিন্ন রূপ পেত। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষে উপুড় হয়ে শুয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে বই পড়ার যে মজা, সেই মজার তুলনাই হয়না।

যত দিন যাচ্ছে আর বড় হচ্ছি, ততই যেন নিজের ছোটবেলার স্মৃতিগুলো আরো গভীরভাবে মনে পড়ছে। যান্ত্রিক জীবনে আটকে পড়ার আগে কত সুন্দর একটা জীবন ছিল।

ইশ! আলাদিনের দৈত্যটা যদি আমাকে তিনটি ইচ্ছার কথা জিজ্ঞাসা করতো, আমি হয়তো তিনবারই বলতাম, আমাকে আমার শৈশব ফিরিয়ে দাও…

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ