অক্টোবর 16, 2026

শরতের ক্যানভাস

কাশফুলের শুভ্রতা আর সাদা মেঘের ভেলায় ভেসে আসা শরৎ-কে বিদায় জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দ্যা প্যাপাইরাসের উদ্যোগে কাজী মোতাহার হোসেন ভবনে গত ১৩ ই অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আয়োজিত হয় ‘শরতের ক্যানভাস’ অনুষ্ঠানটি। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান স্যার, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান ও প্যাপাইরাসের সম্পাদক অধ্যাপক ড. জাফর আহমেদ খান স্যার এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী  জারিন তাসনিম অনন্যা এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত রহমান ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই লুৎফর রহমান স্যারকে ফুল দিয়ে বরণ করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এরপর শ্রদ্ধেয় লুৎফর রহমান স্যারকে আহ্বান জানানো হয় তার মূল্যবান বক্তব্য রাখার জন্য। সংসদ প্লাজায় গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকা সত্ত্বেও জাফর স্যারের অনুরোধে তিনি  আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন । নবনির্বাচিত উপাচার্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সেসব মোকাবিলা করার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি ড. জাফর আহেমদ খান স্যারকে সুনিপুণভাবে প্যাপাইরাস এর সকল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাধুবাদ জানান। পরিশেষে লুৎফর রহমান স্যার জানালেন পরিসংখ্যান বিভাগের যেকোনো প্রয়োজনে স্যারকে একটিবার খবর দেওয়ার জন্য, তিনি শিক্ষার্থীদের যেকোনো দাবি আন্তরিকতার দৃষ্টিতে দেখার প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

এরপর শুরু হয় প্রাইজ দেয়ার পর্ব যেখানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা এবং পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

সর্বোচ্চ সংখ্যক লিখা প্রদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয় বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের। তাদের মধ্যে রয়েছে,

মাহবুবা মিতু(সেশন: ২০২৩-২৪),

ফারিয়া তাবাসসুম মেহেরীন (সেশন:২০২৩-২৪)

জুলকিফল আলম চৌধুরী প্রীতম (সেশন:২০২৪-২৫)

সর্বাধিক সংখ্যক প্রচ্ছদ পাঠিয়ে পুরষ্কার প্রদান করা হয় কাজী শাফিন আলম(সেশন: ২০২২-২৩) এবং নাজিয়া তাবাসসুম রিতু (সেশন: ২০২৪-২৫) কে।

পরবর্তীতে প্যাপাইরাসের অনলাইন ও অফলাইন পথচলার সঙ্গী এবং পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাউফুন আরেফিন রূপককে আমন্ত্রণ জানানো হয় বক্তব্য প্রদানের জন্য। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই লুৎফর রহমান স্যারের কবিতা এবং গানের চর্চার প্রশংসা করেন এবং একটি কবিতা পাঠ করার আবেদন জানান। সেই সাথে তিনি জানান, জাফর স্যার অত্যন্ত নিপুণতা এবং আন্তরিকতার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন বলে সম্পাদক হিসেবে জাফর স্যার এর বিকল্প তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। তিনি ফটো কনটেস্টে  অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীর প্রশংসা করেন। তার মতে ছবিগুলোতে মানুষের চেয়ে প্রকৃতির প্রাধান্য বেশি থাকলেও প্রতিটি ছবিই যেন অনন্য গল্প তুলে ধরেছে । ১৫/২০ বছর পর এই ছবিগুলোর দিকে ফিরে তাকালে মনে পড়বে ফেলে আসা সেইসব দিনের স্মৃতি, এই ডিপার্টমেন্ট, চেনা জায়গাগুলো আর সকাল আটটার ক্লাসের কথা। সব মিলিয়ে ছবিগুলো হয়ে উঠবে অতীতকে ফিরে দেখার এক অনন্য মাধ্যম। বক্তব্যের শেষে তিনি নবীনদের প্যাপাইরাসের সঙ্গে পথচলার আহ্বান জানান, যেন ভবিষ্যতে তাদেরও ফিরে তাকিয়ে শোনানোর মতো অনেক গল্প জমা হয়।

 অতঃপর মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় হয় প্যাপাইরাসের পথযাত্রার এক অনন্য সঙ্গী, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামা জমিলা রহিমকে। প্যাপাইরাস ও তার জীবনের এক অদ্ভুত মিলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন  প্যাপাইরাস এবং তার উভয়েরই জন্ম ১৯৯৯ সালেই। এমনকি প্যাপাইরাসের অনলাইন পথযাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে, তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু হয় যে বছরে। তারা যেন জমজ ভাই-বোন। তিনি বিশ্বাস করেন প্যাপাইরাস শিক্ষার্থীদের ভালো লেখক হিসেবে তৈরি হওয়ার রাস্তা দেখায়, সুযোগ করে দেয় মুক্তচিন্তা এবং সৃজনশীলতা চর্চার। তিনি আরও জানান, এখানে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের ভাষার উপরে আয়ত্ত আরো গভীর হয়, নিজের ভাব প্রকাশ করার দক্ষতা আরো বৃদ্ধি হয়। এর সাথে তিনি তার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, চাকরিতে ভাইভা বোর্ডে তাকে বিশ মিনিটের মধ্যে পাঁচ মিনিট প্যাপাইরাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তার সিভি বাকিদের তুলনায় ভারী হয়েছিল। কিন্তু সর্বোপরি, প্যাপাইরাস আসলে একটি অনুভূতি প্রকাশ করার জায়গা। এখানে শিক্ষার্থীরা লিখবে, ছবি তুলে প্রকাশ এবং এরই মাধ্যমে হৃদয়ের গভীর অনুভূতিকে তুলে ধরবে। আক্ষেপ হিসেবে তিনি বলেছেন পরিসংখ্যানে লেখালেখিতে এমন সাফল্য বিরল।

পরবর্তীতে লুৎফর রহমান স্যার আরো কিছু কথা বলেন নিজের বিদায়ী বক্তব্য হিসেবে। যেখানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত “Ideafest” এর বর্ণনা দেন। যেখানে তিনি কোঅর্ডিনেটর হিসেবে ছিলেন। কিন্তু তিনি আক্ষেপ করে জানান সেখানে পরিসংখ্যান বিভাগের অংশগ্রহণ না দেখে তিনি মনঃকষ্ট পেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের আরো বেশি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নেয়ার উপদেশ রেখে তিনি অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নেন।

এরপর শুরু হয় কুইজ অংশ, যা পরিচালনা করেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা ইসলাম শাহেলী এবং শাহেদুন নবী। এখানে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য আলাদা প্রশ্ন পর্বের সুযোগ ছিল, তার সাথে সঠিক উত্তরদাতাদের পুরষ্কার প্রদান করা হয়। কুইজ পর্ব শেষে মঞ্চে ডেকে আনা হয় আমাদের প্যাপাইরাসের সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের। যাদের নিরলস শ্রমে প্যাপাইরাস আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে, তাদের সেই অমূল্য অবদানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা সনদ। এরপর শিক্ষকবৃন্দ ও সনদপত্রপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ছবি তোলা হয়।

অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে সমাপনী বক্তব্য দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রোগ্রামটির সভাপতি ড.জাফর আহমেদ খান স্যারকে। তিনি কিছু হাসিরসিকতার মধ্য দিয়ে তার বক্তব্য শুরু করলেও পরে গিয়ে তার নিজের জীবনে প্যাপাইরাসের অবদান তুলে ধরলেন। ১৯৮৭ সালে রহস্য পত্রিকায় তিনি তিনটি ছোট গল্প পাবলিশ করেছিলেন, এরপরে আর কোনো গল্প ছাপানো হয়নি। ২০১৫ সালে এসে ‘লবণের মিছিল’ নামে একটি লেখা তিনি পাবলিশ করেন। তার মতে, প্যাপাইরাসের জন্য তার লেখার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরপর তিনি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের মূল্য শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। গতানুগতিক সিজিপিএ ধরে রাখার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ বিদেশে পড়াশোনা করতে গেলে কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে যে বিপুল পরিমাণ গুরুত্ব বহন করে, সে বিষয়টি উল্লেখ করেন। অধ্যাপক জাফর স্যারের সমাপনী বক্তব্য শেষে ভলান্টিয়ারদের সঙ্গে শিক্ষকদের ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শেষ হয়।

অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে শিক্ষকবৃন্দ বিদায় নিলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্যাপাইরাস টিম কিছু খেলার আয়োজন করে যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্রত অংশগ্রহণ ছিল। প্রবীণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ব্যাচের মধ্যে এই সুযোগে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং এরই মধ্যে দিয়ে শরতের ক্যানভাস অনুষ্ঠানটির ইতি টানা হয়।

প্রতিবেদক

সুমাইয়া বিনতে হক নাওমী (সেশন: ২০২৪-২৫)
নাবিল ফয়সাল (সেশন: ২০২৪-২৫)

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp