স্কুলজীবনে আমি খুব পপ শুনতাম, নতুন যুগের গান, রক্ত গরম করা গিটারের সলো অথবা হৃদপিণ্ডের গতি বাড়িয়ে দেওয়া ড্রাম বিট । এসব কিছু নিয়েই ছিল আমার গানের জগত । তখনও ভাবতাম কি আছে এই বিটলস-এ, কি খুঁজে পাবো আমি ডিলানের গানে অথবা ক্লিয়ারওয়াটারে। সময়ের সাথে শব্দ বদলায়, সুরের ধারা বদলায়, তালের গতি বদলায়, কিন্তু বদলায়নি বিটলস, বব ডিলান অথবা ফ্রাঙ্ক সিনাত্রারা।
৬ জুলাই ১৯৫৭, মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য গুরুত্বপুর্ণ দিন। লিভারপুলের সেন্ট পিটারস চার্চের গার্ডেনে প্রথম দেখা হয়েছিল জন লেনন এবং পল মাককার্টনির। এরপর বাকিটা ইতিহাসই বলা চলে।
জর্জ হারিসন ঠিক তার কিছুদিন পর যুক্ত হন ব্যান্ডে। এরপর পালায় করে পিট বেস্ট এবং স্টূটক্লিফ যুক্ত হন। শুরুর বছরে জার্মানির হ্যামবার্গেই শো করে চলছিল তাদের দিন। যদিও শুরুর দিকের দিনে লেনন, হ্যারিসন এবং পল তিনজন মিলেই ছোটোখাটো শো করে বেড়াতো। তবে একদিন লেননের লিভারপুল আর্ট কলেজে পরিচয় হয় স্টূটক্লিফের সাথে এবং লেনন তাকে স্বাগত জানায় একসাথে মিউজিক করার জন্য। বলে রাখা ভালো যে স্টূটক্লিফই প্রথম ব্যান্ডের নাম রাখতে উদ্যোগী হন।
শুরুতে Beatals, এরপর Silver Beatles এরপর কিংবদন্তী The Beatles। স্টুয়ার্ট সাটক্লিফ আর জন লেনন মিলে প্রিয় ব্যান্ড ‘দি ক্রিকেটস’ (The Crickets) এর নামের সাথে মিল রেখে আর লিভারপুলের বিট মিউজিকের সুর মিশিয়ে নাম রাখলেন “The Beatles”। এর কিছুদিন পরেই ঘটে সেই ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট,১৯৬২ সালে ডেক্কা রেকর্ডস তাদের ফিরিয়ে দিলেও, ইএমআই এর পার্লোফোন লেবেলে সুযোগ করে দেন দূরদর্শী প্রযোজক জর্জ মার্টিন। আর ঠিক সেই সময়ই ড্রামে পিট বেস্টের জায়গায় যোগ দেন রিঙ্গো স্টার। জন্ম নেয় ইতিহাস কাঁপানো সেই চারমূর্তি “Fab Four”।
অক্টোবরে মুক্তি পেল তাদের প্রথম একক গান “Love Me Do”, আর পরের বছরই প্রথম অ্যালবাম Please Please Me। ব্যস, দেখতে দেখতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল এক নাম-“বিটলম্যানিয়া”। ব্রিটেনের রাস্তাঘাট, কনসার্ট হল, মেয়েদের চিৎকার সবকিছু যেন থমকে যেত এই চার যুবকের এক ঝলক সুরের ছোঁয়ায়। ১৯৬৪ সালে আমেরিকার বিখ্যাত ‘দি এড সুলিভান শো’-তে তাদের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হলো সংগীত জগতের বিখ্যাত “ব্রিটিশ ইনভেশন”।
কিন্তু বিটলস শুধু একদল হ্যান্ডসাম তরুণের পপ-রক উন্মাদনা ছিল না তাদের আসল জাদু ছিল সময়ের সাথে বদলে যাওয়ার মধ্যে। ১৯৬৫ সালে Rubber Soul আর ৬৬-তে Revolver অ্যালবামে তারা দেখাল, কীভাবে সাধারণ প্রেমের গান ছেড়ে মনস্তাত্ত্বিক আর সাইকেডেলিক সুরের জগতে ডুব দিতে হয়। (এই জায়গা থেকেই আমি ডুবে যাই বিটলসের সাগরে)
স্টেজ শো-র চিৎকার আর কোলাহলে গান পরিবেশনের পরিবেশ না পেয়ে ১৯৬৬ সালে ক্যান্ডেলস্টিক পার্কের কনসার্টের পর তারা চিরতরে লাইভ শো ছেড়ে লাইভ স্টুডিওকে বানিয়ে ফেলল নিজেদের সুরের গবেষণাগার।সেই গবেষণারই ফসল ১৯৬৭ সালের কালজয়ী অ্যালবাম Sgt. Pepper’s Lonely Hearts Club Band। স্টুডিওর ভেতরেই সাইতারের মূর্ছনা, রিভার্স টেপ লুপ, আর অর্কেস্ট্রার এমন মেলবন্ধন পপ মিউজিকের ইতিহাসেই আগে কেউ শোনেনি।এরপর ৬৭ এর “ Magical mystery Tour” এবং ৬৮ এর সাদা বিটলস খুবই জনপ্রিয়তা পায়।
কিন্তু সুরের মহাজাগতিক উচ্চতায় পৌঁছেও তাদের সম্পর্কের সুতোটা আলগা হতে শুরু করেছিল। ম্যানেজার ব্রায়ান অ্যাপস্টাইনের অকালমৃত্যু, ব্যক্তিগত জীবন আর কাজের ধারার সংঘাত ব্যান্ডের ভেতর তৈরি করল দূরত্ব। ১৯৬৯ সালে লন্ডনের অ্যাপল অফিসের ছাদে দাঁড়িয়ে তাদের সেই অনানুষ্ঠানিক শেষ কনসার্ট— যেন এক যুগের শেষ অধ্যায়ের করুণ অথচ মধুর বাঁশি।
১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে গেল দ্য বিটলস। এরপর জন লেনন একদিকে, জর্জ হ্যারিসন অন্যদিকে নিজেদের সঙ্গীতের ক্যরিয়ার চালিয়ে যান ।এরই মাঝে জন লেনন এবং জর্জ হ্যারিসন এর কিছু সুপারহিট অ্যালবাম বের হয় যার মধ্যে “Imagine” এবং “my sweet lord” অন্যতম।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে বিটলসের যাত্রাকাল মাত্র ১০ বছর! এই ১০ বছরেই ৪ জন পাগলাটে যুবক জয় করে ফেলে গোটা বিশ্ব ।প্রতিটি অ্যালবামের আকাশচুম্বী সাফল্য তারই প্রমান। সমসাময়িক সময়ের অন্য সকল গানের ব্যান্ডদের তুলনায় বিটলসের অ্যালবাম ৩ গুন অথবা ৪ গুন বেশি বিক্রি হত।
পারতপক্ষে, বিটলসকে অ্যালবাম বিক্রির মাধ্যমেই শুধু সফল সঙ্গিত ব্যান্ড বলা ঠিক হবেনা বরং বিটলসকে আধুনিক সাইকেডেলিক ,ইন্ডি গানের প্রস্তর নির্মানকারী বলতে হয়। আসলে তাদের আরো বহু বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায় কিন্তু আজ আর করবো না। পাঠকের সারা পেলে না হয় আরো কিছু লিখে ফেলবো বিটলস নিয়ে। ততদিনে, জয়তু বিটলম্যানিয়া।
- মোঃ জুলকিফল আলমhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%83-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae/বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 9, 2025
- মোঃ জুলকিফল আলমhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%83-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae/বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 13, 2025
- মোঃ জুলকিফল আলমhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%83-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae/বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 11, 2025
- মোঃ জুলকিফল আলমhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%83-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae/বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি 8, 2026
- মোঃ জুলকিফল আলমhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%83-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ab%e0%a6%b2-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a6%ae/বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি 12, 2026












