আমার ভালবাসা তোমার ভালবাসা

আমিঃ মাঝে মাঝে তোমার ওই হরিণ চোখের কাজল হতে খুব ইচ্ছে করে,
হোক না ক্ষণস্থায়ী, তবুও তোমার চোখের জলের সাথে তো আমার পরিচয় হবে।
আমার ভীষণ ইচ্ছে করে ওই সুবর্ণ হাতের কাচের চুড়ি হতে,
জানি কখনো না কখনো তা ভেঙ্গে যাবে, তবুও তোমার হাতের সাথে তো সখ্যতা হবে।
মাঝে মাঝে তোমার চোখের সামনের ওই চুল হতে খুব ইচ্ছে করে,
বাতাসে চোখে মুখে লেপ্টে থাকবো ঘামের সাথে।
মাঝে মাঝে তোমার ওই মেঘ কালো চুলের খোপার বেণি হতে ইচ্ছে করে,
ওই বেণিতে একগুচ্ছ কদম অথবা বেলি ফুল হতে ইচ্ছে করে,
তোমার চুলের ওই গন্ধে বিভোর আমি কিছুক্ষণ পরেই হয়তো শুকিয়ে যাব,
তবুও তোমার সাথে কিছুটা সময় থাকতে তো পারবো।
খুব ইচ্ছে করে তুমি আর আমি রেললাইনের ওই পাত হতে পারতাম যদি,
হয়তো তোমাকে ছুঁয়ে দেখার স্বাদটা মিটতো না,
তবুও সারাজীবন পাশাপাশি থাকতে তো পারতাম।
আমার ইচ্ছে করে তোমার বাড়ির উঠানের ওই তুলসী গাছ গাছ হতে,
প্রতিদিন স্নান সেরে জল দেয়ার ছলে হলেও তোমাকে একবার দেখতে পেতাম।
আমার খুব ইচ্ছে করে তোমার কপালের ওই টিপ হতে,
কারণে অকারণে তোমার কপালের সাথে লেগে থাকবো জীবনের শেষ পর্যন্ত।
আমার খুব ইচ্ছা করে রুপসার তীরে ছোট্ট একটা ঘর বাঁধতে,
তোমাকে নিয়ে সুখ-দুঃখের সংসার করতে!

তুমিঃ আমি তো বলিনি এক্ষুনি তোমাকে আসতেই হবে
আমি চেয়েছি আমার পায়ের শব্দ শুনতে তুমি প্রহরীর মত হয়ে যাও-
যেন মনের পাশ দিয়ে হাটলেই হাতটান দিয়ে বলতে পারো “হৃদয়পুরে স্বাগত!!”
আমি চাই তুমিও আমার মতই অপূর্ণতা অনুভব করো।
আমি বলিনি এক্ষুনি তোমাকে কৃষ্ণচূড়া দেখাবো
কিংবা খোপায় গোঁজার ফুল না পেলে তক্ষুনি এনে দিতে বলবো,
আমি চাই তুমি হৃদয়াঞ্জলি দেবে বলে প্রেম-ফুল জমাও
আমি চাই, একদিন সব অপূর্ণতাকে গ্রাস করে বলবে, “দেখো! আমি এসেছি!”
আমি বলিনি এক্ষুনি বৃষ্টিতে ভিজবো, রিকশায় চড়বো
আমি চেয়েছি হঠাৎ ঝড়ে ছাতা উড়িয়ে নেওয়ার মত বলবে, “বৃষ্টিতে ভিজি চলো!”
আমি বলিনি এইযে এই আষাঢ়েই বৃষ্টিবিলাসীনি হবো
বরং আরো আষাঢ়ের অপেক্ষা করতে করতে হলেও বলবে, “আরেকটু অপেক্ষা করো!”
আমি বলিনি এক্ষুনি আমি শাড়ি পরলে তুমি পাঞ্জাবি পরো
কিন্তু চেয়েছি, কল্পনা করো, শাড়িতে কেমন মানাবে আমায়!
আমি চাই, বাস্তবতায় আনার আগে আমাকে কল্পনায় আনো
এমনটি ভাবতে ভাবতে হুট করে বলবে, “দেখি, তোমার হাত শক্ত নাকি নরম!”
বাঁকা টিপটা সোজা করতে করতে বলবে, “পাগলিটা আমার!”
আমি চাই মেলায় গিয়ে মালা-নূপুর কিনে জমিয়ে রাখো
না, আমি এক্ষুনি চাচ্ছিনে; সময় হলে  সব নেবো..
আমি চাই, হুট করে চুলের কাটা সরিয়ে বলো, “খোলা চুল ভাল্লাগে!”
গাঢ় কাজল চোখে তাকালেই যেনো বুঝতে পারি তোমার ভালোবাসা
আর তুমিও আমার হৃদয়ে চোখ রাখলেই বোঝো–
হ্যাঁ, এই সেই তুমি! যার প্রতীক্ষায় আমি!
এই তোমার জন্যই এত অপূর্ণতা পোষা!
আমি চাই তুমি ধ্রুবতারা হও, আঁধারেও পথ দেখাও
ধুমকেতুর মত এসেই চলে যাবে বলে তো প্রতীক্ষা করছিনে–
এই যে এত্ত নির্ঘুম রাত্রি কাটাচ্ছি তা তো ফিরিয়ে দিতে বলছিনে
শুধু বলছি, এমন যেনো হয়, তোমার বুকে মাথা না রাখলে ঘুমই হবেনা…..।
হঠাৎ নিরুদ্দেশ হলে তক্ষুনি তো খুঁজতে বলছিনে-
বহু বহুকাল পরে তোমার হৃদয়ে শূন্যস্থান খুঁজো-
যদি না পাও, তবে ভেবো– আমি কোনদিনই সেখানে ছিলেম না,
যা ছিলো, সবই ভ্রম ছিলো….।।।
আমি চেয়েছি, ভবঘুরে ক্লান্ত প্রেমিক তুমি
একদিন হাঁপাতে হাঁপাতে এসে হাত চেপে ধরে বলবে, “ভালোবাসি, ভালোবাসবে?
চলো আজ বৃষ্টিতে ভিজবো, শাড়ি পরে এসো, কৃষ্ণচূড়া দেবো
আমাদের সব অপূর্ণতা মাড়িয়ে পূর্ণতার পথে হাটবো….”

আমিঃ আজকাল বড্ড খুঁতখুঁতে স্বভাবের হয়ে গেছি,
খুব ছোট ছোট কারণে কষ্ট পেতে শুরু করেছি।
অকারণ অভিমান করি, তোমাকে দোষ দিই।
আগে তো এতো কষ্ট হতো না…..
মায়ের বকুনিতে একটু কষ্ট হতো, যেন পিঁপড়ার কামড়।
বোনের বকুনিতে রাগ হতো, যেন দজ্জাল শিক্ষিকা।
ঠাকুমার বকুনি কুটনী বুড়ি মত, যেন বাংলা সিনেমার রওশন আরা।
বাবা বকুনি জল্লাদ, যেন আমি তার শত্রু।
দাদার বকুনি হিংসাত্মক, যেন আমি তার প্রতিদ্বন্দ্বী।  বৌদির বকুনি নৈরাজ্য, যেন মাৎস্যন্যায় যুগ।
কিন্তু তোমার বকুনিতে অসহায় লাগে নিজেকে, মনে হয় কেউ নেয় আমার।
তোমাকে পেয়েও কেন জানিনা কোথায় একটা না পাওয়া কাজ করে, মনের অজান্তেই চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে, মনে হয় কেন তুমি সবটা আমার নও?
আবার তোমাকে যখন মনে হয় পেয়ে গেছি, তখন আবার মনের কোণে সংশয় উঁকি দেয়।
যদি হারিয়ে ফেলি….. যদি ভুল বোঝো?
চোখটা আবারও ঝাপসা হয়ে আসে, সারা দুনিয়া অন্ধকার দেখি।
এই ভবঘুরে মনটাও সংসারের চিন্তা করে, হয়তো তোমাকে পাওয়ার আশায়।

তুমিঃ আমার কাছে তুমি মানে, একটুখানি অভিমান,
আমার কাছে তুমি মানে, অনেক খানি সুখের স্নান।
আমার কাছে তুমি মানে, ভালবাসায় অবগাহন,
আমার কাছে তুমি মানে, সমরেশের সাতকাহন।
আমার কাছে তুমি মানে, সকাল বেলার আলোয় চোখ রাখা,
আমার কাছে তুমি মানে, গ্রীষ্মের দুপরে তালের পাখা।
আমার কাছে তুমি মানে, ভালবাসার শীতল আকাশ,
আমার কাছে তুমি মানে, স্নিগ্ধ বিকালে মলয় বাতাস।
আমার কাছে তুমি মানে, হাত ধরে হেঁটে যাওয়া,
আমার কাছে তুমি মানে, আসবেনা জেনেও পথ চাওয়া।
আমার কাছে তুমি মানে, অজুহাতে তোমায় ছোঁয়া,
আমার কাছে তুমি মানে, পবিত্রতায় জীবন ধোয়া।
আমার কাছে তুমি মানে, অকারণে কাজের ফাঁকি,
আমার কাছে তুমি মানে, বৃষ্টি দিনের উপেক্ষিত ছাতি।
আমার কাছে তুমি মানে, কত শত পাগলামি,
আমার কাছে তুমি মানে, তুমিতো নও সেতো আমি।

আমিঃ তুমি শুধুই আমার। আমি চাইনা এই হাইব্রিড প্রজন্মের মাঝে তুমি জনপ্রিয়তা পাও। আমি চাই তুমি গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যাও যেখানে কেউ তোমাকে খুঁজে পাবেনা। আমি বার বার তোমাকে খুঁজে নেবো সেই অন্ধকারের মধ্যে। আমি চাই তুমি সবার কাছ থেকে হারিয়ে যাও আমি তোমাকে আমার ভিতর লুকিয়ে রাখবো। আর খুব গোপনে ভালবাসবো। যত্ন করে তুলে রাখবো তোমায়। যা কিছু আমার তা শুধুই আমার। সেটা ঈশ্বরেরও না।

তুমিঃ কিন্তু যাকে লুকিয়ে রাখবে সে যদি অন্ধকারে হাঁপিয়ে ওঠে?? তোমার গোপন ভালোবাসা যদি আমার শ্বাস রোধ করে? ভালোবাসলে তাকে মুক্ত করে দিতে হয়!

একটা কথা আছে জানো তো, তুমি বাধোঁ বলেই আমি হারাই, ছেড়ে দিলে পায়ের কাছে পড়ে থাকতাম!

কমেন্ট করুন

ইন্দ্রনাথ সরকার

সেশন: ২০১৪-২০১৫