অবিস্মরণীয় স্মৃতি

রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও একজন কীভাবে এতটা আপন হয়ে উঠে, এত ভালোবাসা, শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে উঠে এই মানুষটার সাথে পরিচয় না হলে হয়তো অজানা রয়ে যেত। হ্যাঁ, এই মানুষটাই তসলিম সাজ্জাদ মল্লিক স্যার। কীভাবে একজন এত সহজে সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে এখনো ভাবলে অনেক অবাক হই।

পরিসংখ্যানের এই ক্ষুদ্র জীবনে অনেক ভাল শিক্ষক পেয়েছি কিন্তু ৩য় বর্ষে এসে তসলিম স্যারের ক্লাস পাওয়াটা ছিল সৌভাগ্যের বিষয়। স্যারকে এর আগে চিনলেও খুব কাছ থেকে চেনা হয়নি। ২য় বর্ষের ভাইভাতে উনাকে দেখে ভয়ে একদম যায় যায় অবস্থা হয়েছিল আমার। তখনও জানতাম না যে স্যারের মতো সহজ-সরল, অমায়িক মানুষ বোধহয় আর হয় না। ২০২০ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি- প্রথম হাইপোথিসিস ক্লাস স্যারের সাথে আর সেই ক্লাসেই মন জয় করে ফেললেন। মনে হতো কেউ সারাদিন উনার ক্লাসে বসিয়ে রাখলেও আনন্দে ক্লাস করে ফেলব।  ঘুরেফিরে রুটিনের হাইপোথিসিস ক্লাসই খুঁজতাম। হাজারটা প্রশ্ন করলেও সামান্য বিরক্তি প্রকাশ করতেন না। কখনোই নিজের জ্ঞানের বড়াই করতেন না, “যে যত বেশি জানে সে তত বেশি বিনয়ী হয়” এটা বোধহয় স্যারের মত মানুষদেরকে উৎসর্গ করেই বলা। কিউএমএইচ ক্লাবের হয়ে কাজ করার তীব্র ইচ্ছার পেছনে প্রধান কারণ ছিলেন স্যার। উনার সাহচর্যে থাকার লোভ সামলানো ছিল মুশকিল। আমাদের ডাটা এনালাইসিস কম্পিটিশনে অনন্য ভূমিকা ছিল উনার। এতো অনুপ্রেরণা, সাহস দিয়েছেন, রেজাল্টের পর উনার মেইল পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম। একজন শিক্ষক হয়ে এত আপন ভাবে অনুপ্রেরণা, ভালোবাসা অকল্পনীয় ছিল।  খুব হিংসা হয় তাদের উপর যারা স্যারের খুব কাছে ছিলেন, কাছে থেকে বছরের পর বছর শিখতে পেরেছেন, জানতে পেরেছেন। স্যারের সান্নিধ্যে থাকার সৌভাগ্য আর পেলাম না। সপ্তাহ ঘুরে একটা হাইপোথিসিস ক্লাসের অপেক্ষার প্রহর যেন  অসীমে মিশে গেল। হয়তো আর কখনোই জীবনে এমন একটা ক্লাস, এমন একজন শিক্ষক পাব না। খুব কষ্ট হয় যখন ভাবি এমন একটা মানুষ ছেড়ে চলে গেলেন যার থেকে আমার এখনও অনেক শেখার, অনেক কিছু জানার বাকি ছিল।  কিছু স্বপ্ন ছিল, স্যারের মৃত্যুর সাথে সাথে সেসব স্বপ্নকে বিদায় জানাতে হল।  উনাকে নিয়ে লিখার যোগ্যতা হয়নি, অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু ভাল লিখতেও জানি না, নিজের অনুভূতিটাও প্রকাশ করতে জানি না ভালভাবে। আর এই মানুষটা নিয়ে লিখে শেষও করা যাবে না। আমার বিশ্বাস, উনার সাথে একদিনের পরিচয় হওয়া মানুষগুলোও উনাকে হৃদয়ে অন্য এক সম্মানের, ভালোবাসার স্থান  দিয়েছে।

একজন চমৎকার মানুষ আপনি। আপনাকে অনেক মিস করি, স্যার। কানে ভেসে আসে আপনার প্রতিটা কথা। এখনো মেনে নিতে পারি না। প্রতিটা ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে আপনার কথা। কেউ আর আপনার মতো অনুপ্রেরণা দিয়ে মেইল দিবে না। হাজারটা প্রশ্নেও হেসে উত্তর দিবে না। কেউ কখনও আপনার জায়গা নিতে পারবে না। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতবাসী করুন, আমীন।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ

সেশনঃ ২০১৭-১৮

ছাহেরা আক্তার

সেশনঃ ২০১৭-১৮

0