সাতচল্লিশ থেকে একাত্তরঃ বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ (প্রথম অংশ)

“দাম নিয়ে কিনেছি বাংলা
কারোর দানে পাওয়া নয়,
আমি দাম দিছি প্রাণ লক্ষ কোটি
জানা আছে জগৎময়।“

– শিল্পী আব্দুল লতিফ

         স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের ইতিহাস দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস। যুগে যুগে বাংলা তুর্কি, আফগান, ইংরেজ প্রভৃতি বিদেশি শাসক দ্বারা শাসিত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যুর মধ্য নিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চলমান একটি প্রক্রিয়ার মধ্য নিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুত্থান। সাতচল্লিশের দেশভাগের পর এ লড়াইটি আরও একান্ত হয়ে পড়ে; শুরু হয় বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার মূল লড়াই। প্রত্যেক বাঙালির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। বলা বাহুল্য, এ লড়াইয়ে বাংলার ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যদিও এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন ১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ ধরে চলমান একটি প্রক্রিয়া, তবুও আলোচনার সুবিধার্থে এই চলমান আন্দোলনকে মোটা দাগে কয়েকটি সালে ভাগ করা যায়-

ক. ১৯৪৮-১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
খ. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
গ. ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন
ঘ. ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন
ঙ. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন
চ. ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন
ছ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
জ. ১৯৭০ সালের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন
ঝ. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ

        মুক্তিযুদ্ধপূর্ব যে কয়টি আন্দোলন মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল তার মধ্যে সর্বাধিক অনুপ্রাণিত করেছিল ভাষা আন্দোলন। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রথম অধ্যায় হলো এই ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলার ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ। ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি ব্যতিরেকে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে তথা শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ যে একটি চরম রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত ছিল তা অল্পদিনের মধ্যেই বাঙালির চোখে ধরা দিতে শুরু করে। দিন দিন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য প্রকট হতে থাকে। সর্বপ্রথম যে বিরোধটি বাঁধে তা হলো ভাষা নিয়ে। ১৯৪৭ সালেই পাক-সরকার ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেয়। তখন ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহসহ অন্যান্য বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শিক্ষক এর প্রতিবাদ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন ‘তমুদ্দন মজলিশ’ গঠিত হয়। তমুদ্দন মজলিশের তত্ত্বাবধানে, ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ হয়। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে এই সংগঠনের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞাকে আহ্বায়ক মনোনীত করে গঠিত হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। এই পরিষদ রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে শুরু করে।

১৯৪৮ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে অধিবেশনের অন্যতম ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু তা তাৎক্ষণিক প্রত্যাখান করা হয়। ছাত্রসমাজ এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। দ্বিতীয় বারের গঠন করা হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর নেপথ্যে কাজ করে বুদ্ধিজীবীগণ, ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ। নতুন কমিটির আহ্ববানে ১১ই মার্চ আবারও ধর্মঘট পালিত হয়। আন্দোলনে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ, শামসুল হকসহ আরও অনেকে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ১৩-১৫ই মার্চ সারাদেশে ধর্মঘট পালন করা হয়। এসব আন্দোলনকে তোয়াক্কা না করে, ১৯৪৮ সালের ২১ ও ২৪শে মার্চ ঢাকায় দেওয়া দুটি ভাষণে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন। সেখানে উপস্থিত ছাত্ররা ‘না’ ধ্বনি নিয়ে তৎক্ষণাৎ ঘোষণাটির বিরোধিতা করে। একই বছরের ১৮ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে, ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।

১৯৫২ সালের শুরুর দিকে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। এতদিন ধরে এটি ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সম্ভ্রান্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এ পর্যায়ে এসে তা সর্বসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বাঙালির প্রাণের আন্দোলনে রূপ নেয় এই ভাষা আন্দোলন। ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পল্টন ময়দানে দেওয়া এক বক্তব্যে ঘোষণা দেন যে, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এর ফলে আন্দোলন আবার নতুন করে দানা বাঁধতে শুরু করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়(বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল) অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা শহরের অসংখ্য শিক্ষার্থী যোগদান করে। ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও তা ভঙ্গ করে মিছিলে অংশ নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল বরকত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ক্লাসের প্রাইভেট ছাত্র শফিউর রহমান, মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী রফিক উদ্দিন আহমদসহ আরও বেশ কয়েকজন। সবশেষ ১৯৫৬ সালে, সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।

        স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। চল্লিশ দশকের শেষের দিকে পাকিস্তানের ক্ষমতাশীল দল মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃবৃন্দের চরম দমন নীতির কারণে মুসলিম লীগ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব বাংলায় মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে চল্লিশ সদস্য বিশিষ্ট ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামি ও বামপন্থী গণতান্ত্রিক দল এই চারটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। স্বাধীনতা লাভের পর, ১৯৫৪ সালে সর্বপ্রথম পূর্ববাংলার সকল প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলার জনগণ মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তফ্রন্টকে বেছে নেয়। ফলে, যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।

বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে একটা বড় অংশ ছিল তরুণ যারা পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। এই নির্বাচনে ছাত্র ও শিক্ষক সমাজ বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। যে একুশ দফাভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার ছিল যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি তার প্রেরণার নেপথ্যে ছিল তৎকালীন ছাত্রসমাজ। ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগকে মোকাবেলা করার জন্য পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করে। নির্বাচনে এই ছাত্রজোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ডাকসুর সহ-সভাপতি হন ছাত্র ইউনিয়নের এসএ বারী ও সাধারণ সম্পাদক হন ছাত্রলীগের জুলমত আলী খান। ছাত্রদের প্রতিষ্ঠিত এই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট ছিল বাংলায় যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূল পথপ্রদর্শক। যুক্তফ্রন্টের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, ছাত্র ফেডারেশন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন প্রভৃতি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিরলস কাজ করেছিল। যদিও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ সরকার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়।

         ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জনের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকেই একটি নতুন সংবিধান রচনার দাবি ওঠে। বাংলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এই দাবি দিন দিন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বাংলার জনগণের মূল দাবি ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসন। কিন্তু মুসলিম লীগ সরকার পূর্ব বাংলার জনগণকে কুক্ষীগত করতে চাইল; আরেকটা উপনিবেশিক শাসন কায়েম করতে চাইল তারা। শেষ পর্যন্ত জনগণের চাপের মুখে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার গণপরিষদ কর্তৃক একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সে কমিটিতে পূর্ব বাংলার কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধি ছিল না বললেই চলে। ১৮ মাস পরে এই কমিটি একটি প্রতিবেদন পেশ করে। সুপারিশটিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্ত্বশাসনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। প্রায় সকল বিষয়ে বাংলার জনগণকে বঞ্চিত করা হয়। ফলে, বাংলার জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী। বিরোধিতার মুখে সংবিধান মূলনীতি কমিটি ১৯৫২ ও ১৯৫৩ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সবশেষ ১৯৫৬ সালে পাকিস্তনের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। কিন্তু এর মাত্র দুইবছর পরে, ১৯৫৮ সালে ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইসকান্দর মির্জা সাংবিধানিক শাসন স্থগিত করে সামরিক শাসন জারি করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেন। আইয়ুববিরোধী তথা সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল ছাত্ররা। ১৯৫৮ সালে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ক্রমান্বয়ে ১৯৬২ সালে ছাত্রদের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা ও ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৬-১৭

হরিপদ শীল

সেশনঃ ২০১৬-১৭

0