fbpx

স্মৃতিচারণ

“আজ মনটা ভালো নেই, জীবনে প্রেমে বিরহ বেদনার আজ প্রথম দিন। আকাশের রাশি রাশি মেঘমালা যেমন জমা হয়ে কালো পাহাড় হচ্ছে তেমনি প্রেমের স্মৃতি গুলো ব্যাথার অনলে পুড়ে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এখন আর এলোমেলো শীতল পবন, শিহরণ জাগায় না, বিরহ উঁকি দিয়ে বিষণ্ণতায় ভরে যায় আমার হৃদয়। হৃৎপিণ্ডের নিলয়ের Lub-Dub শব্দগুলোর যেন Dub শব্দটা ডুবে গিয়ে, Lub, LOVE এ রুপ নিয়ে মনের স্মৃতির পাতায় উদ্দাম ঝড়ের মত নিত্য করছে। “-অনেকদিন পর পুরাতন ডায়েরির ছেঁড়া পাতার অংশে প্রেয়সীকে নিয়ে লেখাখানি পড়ে ভালোই লাগছে অপূর্বের। স্মৃতির রেখায় প্রেয়সীর আঁকা হাসিমুখ তার কাছে এখনো উজ্জ্বল, স্পষ্ট, পদ্মিনীর রুপ ছায়া এখনও দেখছে সে, তার লাবণ্যময় সৌন্দর্য, আর অপরিমেয় মাধুর্যতা। অথচ অনেকদিন হয়ে গেছে প্রেয়সীর খোঁজ নেই, খোঁজ আসলে সেও নেই নাই। সে অনেক কথা, বিরহের তপ্ত প্রশ্বাসখানি টেনে নিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রেখে, ছেড়ে দিয়ে ব্যর্থতার দায় হতে নিজেকে মুক্ত করল। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে হঠাৎ করেই আকাশে মেঘের আনাগোনা, কিছু ভেবে ওঠার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো, বৃষ্টি এখন ভালোই লাগছে অপূর্বের। স্মৃতিচারণে বৃষ্টি, এ যেন বিরহে ভালো লাগার মত। সে ফিরে যায় তার বাল্যকালে, সেই কিশোর জীবনে, প্রথম প্রেমের স্মরণে, আহ সে কেমন অনুভূতি! ডায়রিতে সেসব স্মৃতিই খুজে চলেছে সে। এভাবে কতক্ষণ চলে গিয়েছে সে জানে না, সে জানে এখন তার ভাবতে ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে স্মৃতি স্পর্শ করার অনুভূতি। তবে ডায়েরির একটা পাতায় তার স্মৃতিচারণের অনুভূতির দিকটা বিপরীত করে দিলো। সেটা তার প্রেয়সীকে নিয়ে লেখা কবিতার কিছু অংশ।

“অবশেষে, প্রেয়সীকে এদেশে, হেরিলাম।

বলিলাম কত কি? আচ্ছা বলো তো? তুমি মোরে ভালোবাসো কি?

কহিল সে সৌন্দর্যের হাসি হেসে, আমিতো এসেছি তোমার কাছে শুধুই বন্ধু বেশে।

আমি কহিলাম, বন্ধু বটে মন্দ নয়, বন্ধুত্ব থেকেই ভালোবাসা হয়।

সে কহিল হেসে, বুঝিলাম আমি গেছি ফেঁসে

সে হয়তো অন্তরালে,

তার বৃক্ষকে আলিঙ্গন করে আড়ালে আড়ালে।’’

কবিতার শেষ লাইনটায় তার খারাপ লাগার কারণ। কারণ প্রেয়সীর প্রেমবৃক্ষকে দেখার সৌভাগ্য তার হয়েছিল। হঠাৎ সকাল ৭:৩৫ এর আলার্মের শব্দে ওর ঘুম ভাঙ্গে, স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে কখন সে ঘুমিয়ে গিয়েছিল তা সে জানে না। এখন আর কোনো কিছু ভাবার সময় তার নেই, কেননা ৮ টায় ক্লাস চেয়ারম্যান স্যারের (লুৎফর রহমান), দেরি করলে দরজা আর খোলা থাকবে না।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়