সেপ্টেম্বর 16, 2026

ফিরে দেখা রক্তাক্ত জুলাই

রক্তাক্ত জুলাই স্মৃতির আলো,
শহীদের রক্তে জাগে নব ভালো।
ফ্যাসিবাদ ভেঙে বিজয়ের গান,
পরিসংখ্যান বিভাগে গৌরবের দান।

বিগত ৬ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় জুলাইয়ের স্মৃতিচারণা নিয়ে একটি আলোচনা সভা “রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লব”। উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ এবং পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া এই সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সম্মানিত ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম স্যার এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্যার। এই আলোচনা সভাটির সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. জাফর আহমেদ খান স্যার।

আলোচনা সভাটির উপস্থাপনা করেন পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী ইকরা মুন নেছা। প্রথমেই জুলাইকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দলিল বলে, শহীদদের স্মৃতিতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে প্রদর্শন করা হয় জুলাই নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র।পরবর্তীতে ইকরামুন মঞ্চে ডেকে নেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দদের এবং সভাটির সভাপতি ড. জাফর আহমেদ খান স্যার ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষিকা অধ্যাপক সায়েমা শারমিনকে ম্যাডাম কে।

বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রথমেই মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তথা জুলাইয়ে আহত যোদ্ধা কাজী আফজাল নাকিবকে। আফজাল জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি প্রথমে ব্যক্ত করেন জুলাই আন্দোলনের পটভুমি তথা বীজ নিয়ে। কোটা আন্দোলন থেকে কিভাবে তা এক দফায় পরিণত হয় তার পুরোটাই ফুটে ওঠে তার বক্তব্যে। তিনি বিশেষ করে বলেন ১৪ জুলাই রাতের সেই জ্বালাময়ী স্লোগান দেওয়া মিছিলের কথা,১৫ জুলাইয়ের ছাত্রলীগের সেই নৃশংস হামলার কথা, কিভাবে ছাত্রলীগের হামলায় তারা আহত হয়েছিলেন, কিভাবে হলগুলো ছাত্রলীগকে প্রতিহত করেছিল এবং কিভাবে বাধ্য হয়ে, মনঃক্ষুণ্ন হয়ে তারা হল ত্যাগ করেছিলেন ইত্যাদি। কিন্ত শেষে শেখ হাসিনার পলায়নের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিধ্বনি শুনে তাদের বিজয় উল্লাসের কথা ব্যক্ত করেন। এই বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

পরবর্তীতে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডেকে নেওয়া হয় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং আরেক জুলাই যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল তাসবীহকে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তাসবীহ ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ এর ইতিহাসকে সম্মান জানিয়ে বলেন জুলাই পরবর্তী সময় নিয়ে। যদিও আশানুরূপ পরিবর্তন আমরা পাইনি কিন্তু তাতে জুলাইয়ের মর্যাদা বিন্দুমাত্র যে কমে নি, সেটি স্মরণ করিয়ে দেন তাসবিহ। অতঃপর আন্দোলনকালীন সময়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকদের পাশে থাকার কথা বিশেষভাবে জানান। অত:পর সকল শিক্ষক শিক্ষিকাগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার বক্তব্য শেষ করেন তাসবিহ।

এরপর মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষ নারী যোদ্ধা ফারিয়া হাওলাদারকে। বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানান। অতঃপর পরিসংখ্যান বিভাগের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যাকার সুসম্পর্ক জুলাইয় আন্দোলনে বিশেষভাবে প্রতিফলনের কথা জানান। পরবর্তীতে তিনি ক্যাম্পাস নিয়ে তৎকালীন ভিসির বক্তব্য, নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা, পরিবারকে নানান কিছু বলে আন্দোলনে যোগ দেওয়া এবং তৎকালীন সময়ে মা-বাবার উৎকন্ঠার কথা জানান দেন। অতঃপর তিনি জানান তার এলাকাভিত্তিক আন্দোলন, ৫ আগস্টের ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার পর মৃত্যুঝঁকি নিয়ে গণভবনমুখী যাত্রা ও পথিমধ্যে বিজয়ের সংবাদের অনুভুতির কথা। ঘটনাগুলো ব্যক্ত করার সময় বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন ফারিয়া এবং পরিশেষে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা হাতে নেওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

পরবর্তীতে বক্তব্য রাখার জন্য আহবান জানানো হয় সম্মানিত ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম স্যারকে। প্রথমেই তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের সকল শিক্ষকগণ ও ছাত্রছাত্রীদের সালাম জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি এবং বলেন পরিসংখ্যান বিভাগ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্যারের নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের স্মৃতি ব্যক্ত করেন তিনি। ছাত্রদের সকল কিছুর প্রাণশক্তি বলে অভিহিত করেন তিনি। অতঃপর শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিকভাবে সচেতন থাকার কথা বলেন। পরিশেষে তিনি দেশপ্রম ও বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তার বক্তব্য শেষ করেন।

অতঃপর বক্তব্যের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য জনাব লুৎফর রহমান স্যারকে। প্রতিনিয়ত জুলাইকে স্মরণ করার কথা তিনি জানান। মাঠে ময়দান ছাড়াও আরো বিভিন্নভাবে জুলাইয়ে যারা যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেন তাদের সকলের প্রতিও তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জুলাইয়ের সেইদিন গুলো, শিক্ষিকদের আন্দোলন, প্রেসের মুখোমুখি হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে বলেন। ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনকে স্বাধীন বাংলাদেশে গড়ে ওঠা এক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলে আখ্যা দেন তিনি। শেখ হাসিনার আমলে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া নানান তিক্ত ঘটনার অভিজ্ঞতাও তিনি ব্যক্ত করেন। পরিশেষে জুলাইয়ে প্রতিফলিত হওয়া বৈষম্যহীন ছাত্র জনতার মনোভাবকে স্যালুট জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

মানসিকভাবে ভালো বোধ না করায় বক্তব্য প্রদান করেননি পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষিকা অধ্যাপক সায়েমা শারমিন ম্যাডাম।

অতঃপর সমাপনী বক্তব্যের জন্য ডেকে নেওয়া পরিসংখ্যান বিভাগের বর্তমান চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. জাফর আহমেদ খান স্যারকে। তিনি প্রথমে স্মরণ করেন পরিসংখ্যান বিভাগের প্রয়াত অধ্যাপক মুরশিদা খানমকে। তিনি বক্তব্যের শুরুতে জানান শিক্ষার্থীদের হল থেকে ছাত্রলীগকে বিতাড়িত করার কথা শুনে অবাক হয়ে যাওয়ার কথা। অতঃপর তৎকালীন ডিন, ভিসির সাথে তার কথোপকথনের কথাও তিনি জানান। আবু সাইদের মৃত্যু যে শেখ হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ হবে সেই বিষয়টিও আন্দাজের কথা তিনি ব্যক্ত করেন। তিনি ধন্যবাদ জানান পরিসংখ্যান বিভাগের সকল শিক্ষকদের ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পলায়নের বিষয়টি পরিসংখ্যান বিভাগের ব্যানারের প্রস্তাবিকা সায়েমা ম্যামের কাছ থেকে অবহিত হবার ঘটনাও তিনি জানান। অবশেষে সম্মানিত ডিন স্যার, লুৎফর স্যারকে ধন্যবাদ জানান এবং একই সাথে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। একইসাথে ভিডিওচিত্র নির্মাতা তন্ময় দাসের প্রশংসা করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন ও আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

প্রতিবেদক- কাজী শাফিন আলম। সেশন : ২২-২৩

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp