সেপ্টেম্বর 21, 2026

Bou-gain-villea, মাহিন আমার সাথে সাথে বলো, Bou-gain-villea। মাহিন।

মাহিন নির্বিকার। সে আপন মনে শার্পনার দিয়ে রংপেন্সিল কাটছে। অনামিকার ইচ্ছে হলো ছোট গাল টাতে কষে একটা চড় দিতে, যাতে গালে পাঁচটা আঙ্গুলের সব ক’টার দাগ বসে যায়। এতে সে যখন তার মায়ের কাছে গিয়ে নালিশ দিবে, তার মায়ের গুনতে সুবিধা হয় কয়টা আঙুল ব্যবহার করে সে চড়টা দিয়েছে।

একে তো মাস শেষ, টিউশনির টাকাটা দিচ্ছে নাহ, তার উপর এই গরমে এক গ্লাস ঠান্ডা পানিও তাকে কেউ দিচ্ছে নাহ। ইচ্ছে হচ্ছে গলা ফাটিয়ে বলতে, “এই হাঁদারাম, ওঠ, আর তোদের ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিয়ে আয়। পরিষ্কার কাঁচের গ্লাসে আনবি৷ যাতে গ্লাস চকচক করে। আর তোর মাকে বল টাকা দিতে। মাস শেষ হয়ে গেছে কবে! তোদের বাসায় সব আছে, ক্যালেন্ডার নাই?!”

দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে অনামিকা। কি যে হয়েছে তার, এত মেজাজ খারাপ কেন হয় তার? তারপর এক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে মাহিনের দিকে। ছেলেটা প্রায় অর্ধেক রং পেন্সিল শেষ করে ফেলেছে। আজ আর পড়াবে নাহ। উঠে পড়ল চেয়ার থেকে। রং পেন্সিল কাটছে, কাটুক। কেটে কেটে শেষ করে ফেলুক, তার কি!

টিকাটুলির এই চিপা রাস্তার মাঝদিয়ে আসতে তার দম বন্ধ হয়ে যায়। এত বিল্ডিং কিসের! এত বাড়িঘর কাদের! ইচ্ছে হয় বুল ডোজার এনে সব কিছু গুঁড়িয়ে দিতে। একটু জায়গা ফাঁকা করতে, যাতে আকাশটা একটু দেখা যায়। আকাশের দিকে তাকাতেই একটা কথা মনে হলো তার, শাহেদ একদিন চা খেতে খেতে তাকে বলছিল,”জানিস মিকা, আকাশকে আমি মুড মিরর বলি। যখনই তুই আকাশের দিকে তাকাবি, ওমনি দেখবি তোর মুড যেমন, আকাশকে তোর তেমনি লাগবে। তুই কাঁদলে দেখবি আকাশকেও মনে হবে এখনি কেঁদে ফেলবে। যেমন তুই যদি এখন তাকাস আকাশকে তোর হুতুমপেঁচার মতো লাগবে, কারণ তোকে আজ একদম, হেহ হেহ হেহ।” শাহেদের কথা মনে হতে রাগ আরও বেড়ে গেলো তার। কলাবাগান এমনও দূরে নাহ। কিন্তু তার আর আজ কেন যেন কিছু করতে ইচ্ছে হচ্ছে নাহ, একটা রিকশা নেওয়া যেতে পারে। রিকশাতে উঠে অস্বস্তি আরও বেড়ে গেল। গরম বাতাস এসে মুখে লাগছে। রিকশাওয়ালা তুমুল গতিতে রিকশা চালাচ্ছে। মাঝে মনে হতে লাগলো সব সহ উল্টে পড়বে। অনামিকা বলে উঠলো,”আস্তে চালান মামা, আমার কোনো তাড়া নেই।”

মেয়েরা আস্তে চালাতে বললে অতি আবশ্যিক ভাবেই রিকশার গতি আরও বেড়ে যায়। যেন পেছনে বসা মেয়েটাকে একটু ভয় দেখানো আর বিব্রত করা তার কর্তব্য। অনামিকার ইচ্ছে হলো কঠিন গলায় বলতে,”রিকশা থামা, তোর রিকশাতে আমি যাবো নাহ। আর এত ঘনঘন থুতু ফেলিস কেন? গা ঘিনঘিন করে।” কিন্তু কিছুই বলে না সে। এখন নেমে গেলে হয়ত লোকটা ভাববে ভয় পেয়ে সে নেমে গেছে। বাড়ির সামনে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে দিল। বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে শুধু একগ্লাস ঠান্ডা পানির কথা ভাবতে লাগলো সে। তাদের কোনো ফ্রিজ নেই। বাড়িওয়ালার ফ্রিজে টুকটাক জিনিসপত্র রাখতে দেয়। অবন্তীকে দিয়ে ঠান্ডা পানির বোতল টা আনাতে হবে। ঘরে ঢুকে বিছানায় গড়িয়ে পড়ল সে। সেই সকালে উঠে এক টিউশনে যেয়ে শোনে কেউ বাসায় নেই। পরিবারসহ কোনো দাওয়াতে গেছে। তারপর পরের টিউশন। উঠে চেঞ্জ করার মত শক্তিও নেই। তখনি হুড়মুড় করে মা এসে ঘরে ঢুকলো। “কিরে বাইরে থেকে এসে জানালা খুলিসনি কেন? অন্ধকার করে রেখেছিস কেন ঘর?”

 “চোখে আলো লাগছে মা।”

“আলো থাকলে আলো তো লাগবেই, তাই বলে ঘর অন্ধকার করে রাখতে হয় নাকি!সারাদিন অন্ধকারে থাকলে তো পাগল হয়ে যাবি। মেয়ে মানুষ…।”

 “আহ মা, এভাবে চেচাচ্ছো কেন? মনে তো হচ্ছে আমার আগে তুমি পাগল হবে।”

“আরে তোর বাবার চশমাটায় তো সমস্যা। তখন বলছিল সব স্পষ্ট দেখছে। কিন্তু আসলে ভালো দেখছে নাহ। আজই নিয়ে যাহ আবার। তাড়াতাড়ি গেলে পাল্টে দিবে।”

“আচ্ছা মা, তুমি এখন যাও। আমি একটু শুয়ে থাকি। বাবার চশমা অবশ্যই পাল্টে আনবো” মা এর স্বভাব এমনি। দুনিয়ায় কার কি হচ্ছে এতে তিনি মোটেই বিচলিত নাহ। তার একমাত্র কাজ বাবার সেবা করা। বাবা যা বলবে তাই করা। বাবা যদি বলে, এই যে দেখো এইটা পটাশিয়াম সায়ানাইড। এটা খেলে মানুষ মারা যায়। তুমি একটু খেয়ে দেখ দেখি। মা সঙ্গে সঙ্গেই তা খাবে। বাবার সমস্যা মানে তার সমস্যা। যতক্ষণ সমস্যা থাকবে তিনি বারবার তা মনে করাতেই থাকবেন। অনিচ্ছা স্বত্তেও উঠে পড়ল সে, গোসল করতে হবে। গরমে অস্থির লাগছে। রান্নাঘরে অবন্তীকে চা বানাতে দেখে বললো, “কি রে, এখন চা কে খাবে? বাবা?”

“নাহ, চা শাহেদ ভাইয়ের জন্য। তোমার জন্য সেই সকাল থেকে বসে আছে। কতবার বললাম যে তোমার দেরি হবে। ৬ কাপ চা এর মাঝে শেষ। আমার পেটে যা গল্প আসে তাও সব শেষ। ইনি তো যাচ্ছেন নাহ। এখন বাবাকে সামনে বসিয়ে দিয়েছি। আমি আর পারব নাহ।” “কেন এসেছে বলেছে কিছু?”

“আপু, তুমি তো ভালোই চেনো শাহেদ ভাইকে। তুমি জিজ্ঞেস করো”। অনামিকা বসার ঘরে এসে দেখলো বাবা আর শাহেদ গল্প করছে।

 “এই যে অনম মা চলে এসেছে। আয়, তোর জন্য দেখ শাহেদ কতক্ষণ ধরে বসে আছে।”

অনামিকাকে বাসার সবাই অনম বলে ডাকে। ছেলেদের নামের মতো শুনায় বলেই হয়তো তার জীবনও ছেলেদের মত। সংসারের সব কঠিন দ্বায়িত্ব এসে পড়েছে তার কাঁধে। অনামিকা শক্ত চোখে শাহেদের দিকে তাকিয়ে বললো, “কি হয়েছে? শুধু শুধু আমার সাথে তো আর দেখা করতে আসিস নি। কি দরকার?” শাহেদ অনামিকার দিকে না তাকিয়ে বলতে থাকলো, “চাচা, তা আজ দুপুরের মেনুতে কি থাকছে? আগের বারের…”

 “তুই এখনি বিদায় হ” চেঁচিয়ে উঠল অনামিকা। “ক্ষুধা লাগলে আমার বাসায় কেন আসা লাগবে? এটা তো হোটেল নাহ!” তোর মেজাজ দিন দিন অনেক খারাপ হয়ে যাচ্ছে মা। শাহেদ কত দিন পর এসেছে বাসায়। আর তোর তো বন্ধু বান্ধব কেউ আসে নাহ। খেয়ে তো যাবেই৷ “আহ্লাদ করো না বাবা, ও আমাদের সাথে খাবে না” “আরে কি মুশকিল! আমি একটা কাজেই এসেছি।তুই কি মনে করেছিস,বেকার বলে আমি খেতে আসি? যদিও আসতাম, আজ অন্য কাজে এসেছি।একটা খবর দিতে। এমন একটা খবর দেব না, যে শুনলে এখনি হার্ট অ্যাটাক করবি”

“থাক তাহলে, এখনি মরে গেলে ভালো হবে নাহ”

“আহহা, শুনবি তোহ। আমি আমেরিকা চলে যাচ্ছি। সামনের সপ্তাহতেই। অনেক ভুংভাং তো করলাম, এবার একটু সিরিয়াস হলাম আরকি।”

 “আরে সে কি!”বাবার মুখ উজ্জ্বল হয়। “তুমি পারোও। এত ভালো একটা খবর এখনও চেপে রেখেছো! তা কিভাবে সব ব্যবস্থা করলে?” অনামিকা এখনও দরজা ধরে চুপচাপ তাকিয়ে আছে। যেন ব্যাপারটা ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারেনি সে। সে ভাবছিল হয়তো নতুন কোনো ব্যবসার আইডিয়া মাথায় এসেছে তার আবার৷ শাহেদ হাসিমুখে বলে উঠলো, “রিতার বাবা সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বুঝলি, টাকাওয়ালা মানুষদের এসব ব্যবস্থা করা কোন ব্যাপারই নাহ। উনাদের খুশি করলে আমেরিকা ইউরোপ সব ব্যবস্থাই করতে পারেন”

“তা তুই উনাকে খুব খুশি করে ফেলেছিস?” অনামিকা জিজ্ঞেস করলো। “খুশি তো হয়েছেনই। এমনি এমনি তো একটা ছেলেকে এতবড় সুযোগ করে দেবে নাহ! আর রিতাও অনেক চাপাচাপি করেছে৷ আমার মত এক প্রতিভা এভাবে রাস্তাঘাটে নষ্ট তো হতে পারে নাহ। মেয়েটার মনটা অনেক ভালো।” “ভালো হলেই ভালো। আচ্ছা তুই খেয়েই যাস। আমেরিকা চলে গেলে তো খাওয়াতে পারবো নাহ। তবে ঘরে তেমন কিছু রান্না হয়নি। ডিমের তরকারি, ডাল এসবই। এসবই খাস। আমেরিকা গেলে তো রিতার হাতে রোজ মাংস,ইলিশ মাছ,বিদেশি খাবার খাবিই। মালদার পার্টি বলে কথা” বলেই রান্নাঘরের দিকে চলে গেলো সে। হাসেম সাহেব শাহেদের দিকে চেয়ে বলে উঠলো, বললাম নাহ, আমার মেয়ে তোমাকে না খাইয়ে ছাড়বেই নাহ। বাইরে বাইরে থেকে আর সংসার টানতে যেয়ে, মেয়েটার মেজাজ নষ্ট হয়ে গেছে। অনামিকা রান্নাঘরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। অবন্তী এসে বললো, “এভাবে কি করছো আপু?”

“কি আবার করবো। শোন,বেগুন আছে নাহ?মাকে বলিস শাহেদের জন্য বেগুন ভেজে দিতে। ও বেগুন ভাজা অনেক পছন্দ করে।” বলে নিজের ঘরের বারান্দায় এসে দাড়ালো সে।তার ঘরটা ছোট কিন্তু একমাত্র এই ঘরের সাথেই বারান্দা। অবন্তীর সাথে অনেক রাগারাগি করে এই ঘরটা নিজের জন্য রেখেছে সে। তার জীবন চলেই যাচ্ছে অন্যের জন্য করে করে। নিজের জন্য ভালো কিছু রাখার অধিকার কি তার নেই? ঘরটা ছাড়াও একটা মানুষকেও সে রাখতে চেয়েছিল। একদম নিজের করে। কি করেনি সে তার জন্য? নিজের সামর্থ্যের সব টুকু কি সে দেয়নি? শাহেদের চাকরির জন্য নিজের…..। থাক! নিজের চিন্তাকে সামলে নিল সে। ভাগ্য খারাপ। ভাগ্য তার শুরু থেকেই খারাপ। নাহলে সে কি রিতার মত ধনবান কারোর মেয়ে হতে পারতো নাহ? তখন সে ও শাহেদকে নিজের কাছে নিয়ে নিতো। শাহেদ আর্কিটেকচার থেকে পাশ করে যখন বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে অনামিকাই তাকে সব সাহায্য করতো। সে প্রায়ই দুপুরে ঠিক খাবার সময় বাসায় এসে উপস্থিত হতো। অনামিকা কি কখনো ফিরিয়ে দিয়েছে? সেও কি তার খারাপ সময়ে পাশে দাঁড়ায় নি? ইচ্ছে করে শাহেদের গায়ে আইসক্রিম ফেলে সে যখন বলেছে, “আহহা, মিসটেক হয়ে গেছে শাহেদ। দাড়া এইটা নে” বলে সে ব্যাগ থেকে নতুন শার্ট বের করে দিয়েছে। এই ছোট ব্যাপারও কি সে বুঝেনি? এমনকি একবার তো মাসের পুরো টাকা টাও দিয়ে দিয়েছিল শাহেদকে। শাহেদের যখন এই অবস্থা তাদেরই এক ক্লাসমেট রিতা তখন তাকে বলে তার বাবা একটা বাগান বাড়ি করতে চান। তিনি চান আধুনিক আর্ট এর ছোঁয়া থাকবে তার বাড়িতে। রিতা তখন তার বাবাকে শাহেদের কথা বলে।এবং প্রায় জোর করেই বাবাকে রাজি করায় শাহেদকে দিয়ে সম্পূর্ণ ডিজাইনের কাজটা করাতে। অনামিকা গাল ফুলিয়ে জানতে চেয়েছিল, “তাই বলে ভিক্ষা নেওয়া শুরু করবি?”

“ভিক্ষার কি হলো এতে? ওদের ও একজন দরকার, আমারও কাজ করার সুযোগ দরকার। তুই কি চাস যে আর্কিটেকচার পড়ে আমি রিকশা চালাই?”

 “এটাও ভালো হতো। আমাকে রোজ রিকশায় চড়ে সারা ঢাকা ঘুরাবি। রোদ-বৃষ্টি-বাতাস যাইহোক আমরা একসাথে ঘুরবো। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরবো। তারপর খেতে বসবি,আমি নিজ হাতে খাওয়াবো।”

 “তোর কি মনে হয় তোর হাতের খাবার খেতে তোর বাসায় যাই? তোর রান্না আবার রান্না হলো নাকি, আমি যাই চাচীর রান্না খেতে। পাবদা মাছের ঝোলটা যা করে নাহ!” সেদিন অনেক লজ্জা পেয়েছিল অনামিকা। আর একটু স্বস্তিও পেয়েছিল যে শাহেদ তাকে থামিয়ে দিয়েছিল। নাহলে হয়তো তাকে নিয়ে ভাবা সব কথাই বলে ফেলত সেদিন। শাহেদের গোছানো কাজ আর তার প্যাশন ধীরে ধীরে রিতার বাবাকেও মুগ্ধ করে। খুশি হয়ে তাকে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। সাথে রিতাও যাচ্ছে। রিতার বাবা যথেষ্ট বুদ্ধিমান একজন মানুষ। তিনি এত ভালো ছেলেকে হাতছাড়া কেনই বা করবেন।

অনামিকার চোখ পানিতে ভরে উঠল। এসময় মা এসে দাড়িয়ে বললো, “শাহেদের সমস্যা কি রে? সে নাকি আমার হাতের পাবদা মাছের ঝোল ছাড়া না খেয়ে যাবেই নাহ। তোর বাবাকেও রাজি করিয়ে ফেলেছে। দুজনে এখন বাজারে যেয়ে মাছ নিয়ে আসবে। এসব কি!সংসারের যা অবস্থা রোজ রোজ মাছ,মাংস খেলে কিভাবে চলবে?” খুশি খুশি মুখেই কথাগুলো বললেন তিনি।  “অবন্তী আবার একটা চায়ের কাপ ভেঙে ফেলেছে। দিয়েছি একটা চড়।সংসারে কোনো মন নেই। একটা কাপ কিনে আনিস। চায়ের কাপের নতুন একটা সেটও অবশ্য কেনা দরকার।তোর বাবার একটু পর পর আবার চায়ের অভ্যাস।” অনামিকার কানে কথাগুলো কেমন ভেসে ভেসে আসছে। তবে কোনকিছুর অর্থ সে বুঝতে পারছে নাহ। পাশের বাসার গেইটে বাগানবিলাসের বিশাল ঝাড় হয়েছে। লাল গোলাপি ফুল গুলোতে রোদ পড়েছে। যেন আগুন লেগে গেছে। এক দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে আছে সে। যেন বাগানবিলাসের আগুনের তাপে তার চোখের অশ্রু সব বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে।।

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp