সেপ্টেম্বর 23, 2026

সেদিন প্রবাবিলিটি সম্পর্কিত একটা ক্লাস করছিলাম। স্যার বিভিন্ন টপিক সুন্দর করে বুঝাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে চলে এলো জুয়ার কথা। জুয়ার সাথে প্রবাবিলিটির ভালো সম্পর্ক আছে। যাইহোক, আলাপ করতে করতে স্যার এক পর্যায়ে বললেন (আমি যতটা শুনেছি/বুঝেছি),

“জুয়াকেআমাদেরদেশেখারাপচোখেদেখাহলেও,বাইরেরউন্নতদেশগুলোতেসেভাবেখারাপচোখেদেখেনা।ওখানেস্মার্টলোকেরাজুয়াখেলে।”

‘স্মার্ট লোক’ বলতে তিনি ব্যাখ্যা করলেন—

তারা হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিয়ে যায়। আজ শুধু বিনোদনের জন্য খেলবে, এর বেশি খরচ করবে না। যদি জিতে কিছু পায় সেটা অতিরিক্ত বেনিফিট।

ক্লাসে বসে ব্যাখ্যাটা ভালোই লাগল। কিন্তু ক্লাস শেষে একটু ভাবতেই বুঝলাম— এটা বড় রকমের ধোঁকাবাজি। কারণ, যদি সবাই জীবনে ২/১ বার বিনোদনের জন্য সীমিত টাকা নিয়ে খেলত, তবে জুয়ার ব্যবসা চলত না। ব্যবসায়ীরা ভালো করেই জানে— এটা আসক্তি তৈরি করে। অধিকাংশ মানুষই ডোপামিনের পাল্লায় পড়ে বারবার খেলবে এবং জীবন তছনছ করবে— ঠিক মাদকের মতো।

ফার্স্ট ইয়ারে এক স্যার তার লাল পানি খাওয়ার গল্প করছিলেন। তখন অবাক হয়েছিলাম— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যাররা মদ খায়! তখনো জানতাম না, মদের লাইসেন্স নেওয়া যায়। পরে জানলাম, আসলেই লাইসেন্স নেওয়া যায়। যুক্তিটাও প্রায় একই— বিনোদনের জন্য অল্প পরিমাণে খাবে, লিমিট মেনে খাবে, মাতলামি করবে না।

কিন্তু মাদক তো এমন না। এর মেকানিজমই এমন যে— এটা আসক্তি তৈরি করবে। ব্যাপারটা জুয়ার মতোই। মদ-জুয়া সবই আসক্তি সৃষ্টি করে।

“তিনি/তারা বড় জ্ঞানী/শিক্ষিত/এলিট, তারা লিমিট দিয়ে মদ খাবে/জুয়া খেলবে”—এসব একেবারেই অতি বোকা বা অতি চালাকদের যুক্তি।

মদ-জুয়া টিকে থাকে আসক্তির মেকানিজমের ওপরই।

মজার ব্যাপার হলো— ইসলাম ঐ জিনিসগুলোকেই হারাম করেছে যেগুলো মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর। সেটা আমরা এখন বুঝতে পারি বা পরে বুঝব, কিংবা না-ও বুঝতে পারি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগেও এ ধরনের বুলি আরেকবার শুনেছিলাম আমার গ্রামে— করোনার সময়ে। গ্রামে তখন করোনাকে কেউ তেমন পাত্তা দিতো না। ক্রিকেট, ফুটবল খেলা আর খেলার পরে গাছতলায় আড্ডা— সবই চলত।

একদিন গাছতলায় আড্ডা দিতে দিতে এক বড় ভাই বলছিলেন—

“ইয়াবাযারাখায়,তাদেরমাথাকিন্তুখুবভালোকাজকরে।অনেকস্মার্টডিসিশননিতেপারে।”

গ্রামের ভদ্র পোলাপান এসব বোঝে না। কারো কারো চোখ দেখে মনে হলো— ওরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। হঠাৎ বললাম,

“ভাই,তাহলেএকটাবাজিহয়েযাক।যেবাযারাগাজা/ইয়াবাখায়,তাদেরদাবাখেলাশিখান।তারপরআমার বাকম্পিউটারেরকয়েকটালেভেলেরসঙ্গেখেলতেদেন।যদিখাওয়ারআগে১টিম্যাচওনাজিতে,আরখাওয়ারপরেধুপধাপ২–৩টাম্যাচজিততেপারে—তখনআপনারকথামেনেনেব।”

ভাইয়ের চোখেমুখে এবার অবিশ্বাসের ছাপ। ছেলেপেলে সবাই হেসে উঠল। একজন বলে উঠল—

“কিভাই,এখনকও—রাজি?গাজাতোগাজাই,ওসবভালোমাইনষেখায়না।”

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp