সেপ্টেম্বর 20, 2026

উপসম্পাদকীয় – মে ২০২৬

Picture of মোঃ মুহেব্বুল ইসলাম
মোঃ মুহেব্বুল ইসলাম

অঙ্ক বা পরিসংখ্যান দিয়ে হয়তো সব শোক মাপা যায় না। ১৩ মে ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩২ জনে পৌঁছেছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে, এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। এই সংখ্যাগুলো কেবল কাগজের রিপোর্ট নয়, এগুলো একেকটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার গল্প।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত টিকা না পাওয়া আর পুষ্টির অভাবেই শিশুরা এত বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ না পাওয়া শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। হামের সাথে যখন নিউমোনিয়া বা তীব্র ডায়রিয়া যোগ হচ্ছে, তখনই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।

রাজশাহীর শিরীন আক্তারের গল্পটি আমাদের সমাজের বর্তমান অসহায়ত্বের এক করুণ প্রতিচ্ছবি। তাঁর নয় মাস বয়সী কন্যাসন্তান হামের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। চিকিৎসকরা আইসিইউর (ICU) কথা বললেও শিরীন আক্তার সিরিয়াল পেয়েছিলেন ৩২ নম্বরে। চোখের সামনে নিজের ‘পাখি’র চলে যাওয়া দেখা ছাড়া তাঁর আর কিছু করার ছিল না। এই ঘটনা আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। শিরীন আক্তারের মতো কোনো মা যেন আর সন্তানের ছোট জামা হাতে নিয়ে ডুকরে না কাঁদেন, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার।

তবে আশার কথা হলো, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ শিশুকে এরই মধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে হয়তো এই মহামারীর প্রকোপ কমে আসবে। কিন্তু ততদিনে আমরা আর কোনো ‘পাখি’কে হারাতে চাই না। ২০২৪ সালের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সময়মতো পালন না করা এবং নিয়মিত টিকাদানে যে ছন্দপতন হয়েছে, তার চরম মূল্য আজ আমাদের দিতে হচ্ছে শত শত নিষ্পাপ শিশুর প্রাণের বিনিময়ে। অভিভাবক এবং আমাদের নীতি নির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, সঠিক সময়ে একটি টিকাই পারে একটি শিশুর পৃথিবীকে আবার হাসি-খুশিতে ভরিয়ে দিতে।

Picture of কাজী শাফিন আলম
কাজী শাফিন আলম

গণতন্ত্রের মূলধারা হলোঃ

“জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, জনগণের শাসন” — এটি বলেছিলেন Abraham Lincoln।

সম্প্রতি পশ্চিম বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২৯৩টি আসনে লড়ে বিজেপি ২০৭টিতে বিশাল জয় পায়। এরই মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিম বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার ২৮ শতাংশ মুসলমান হলেও বিজেপি এই নির্বাচনে যে ২৯৪ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল, তাদের মধ্যে একজনও মুসলিম ছিলেন না। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচিতে অক্টোবর ২০২৫ থেকে মোট ৯১ লাখ ২ হাজার ৫৭৭ জন ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, যার ফলে মোট ভোটার সংখ্যা ১১.৮৮% কমে যায় এবং এদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম ভোটার।

এখন দেখা যাক বিজয়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কিছু উক্তিঃ

১) ২০২৫ সালের মার্চে তিনি বলেন — “বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

২) “মুসলমানরা মমতাকে ভোট দিয়েছেন, তাই উনি হেরে গেছেন। আর হিন্দুরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, তাই বিজেপি জিতে গেছে।”

৩) ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশকে “গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের” মতো “শিক্ষা” দেওয়ার আহ্বান জানান এবং হুমকি দেন যে বাংলাদেশের কলকাতাস্থ উপ-হাইকমিশনকে “স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবেন না।”

৪) ভবানীপুরে জেতার পর তিনি বলেন — “এই জয় হিন্দুত্বের।”

১৯৯৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সেদিক থেকে চিন্তা করলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির গণতান্ত্রিক দল হিসেবে, গাণিতিক হিসাবের কারণেও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মুসলমান প্রতিনিধি থাকার কথা। দলগত পলিসি বা কৌশলগত কারণে হয়তো ছিল না। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় অবশ্যই একটি প্রশ্নের জন্ম দেয় — গণতান্ত্রিক এই সিস্টেম কি আসলেই ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শনকে ধারণ করতে পারে? করতে পারলে হয় একপাক্ষিক বয়ান চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির নিরঙ্কুশ বিজয় প্রশ্নবিদ্ধ, অন্যথায় পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ নয় কি?

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ