আগস্ট 14, 2026

দ্য স্ট্রেঞ্জ কেস অফ ডক্টর জেকিল এন্ড মিস্টার হাইড

মানুষ ওয়ান ডাইমেনশনাল নয়, আমাদের ভেতরে দুই বা ততোধিক সত্তা বাস করে। আর মানুষের ভেতরের এই একাধিক সত্তার অস্বস্তিকর প্রশ্ন নিয়েই লেখা হয়েছে ‘দ্যা স্ট্রেঞ্জ কেস অফ ডক্টর জেকিল এন্ড মিস্টার হাইড’।

এটি রবার্ট লুইস স্টিভেনসন রচিত ১৮৮৬ সালের একটি বিখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক, গথিক, ভৌতিক ও সায়েন্স ফিকশন ঘরানার উপন্যাস। গল্পের কেন্দ্রে আছেন ড. হেনরি জেকিল, তিনি সমাজে অত্যন্ত সম্মানিত, ভদ্র ও সফল একজন ব্যক্তি। কিন্তু গল্পে মোড় আসে তখন, যখন দেখা যায় তিনি তার বিশাল সম্পত্তি উইল করে দিয়েছেন এক রহস্যময় ব্যক্তি, মি. হাইড এর নামে। কে এই হাইড আর কেন ড. জেকিল তার প্রতি এত নির্ভরশীল? এই প্রশ্নগুলো ধীরে ধীরে পাঠককে টেনে নিয়ে যায় এক ভয়ঙ্কর সত্যের দিকে। ড. জেকিলের বন্ধু এবং লন্ডনের বিখ্যাত আইনজীবী আটারসনের চরিত্রের মাধ্যমে এই উপন্যাসের রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে। আটারসন ছিলেন অত্যন্ত ধীরস্থির, গম্ভীর এবং মিতভাষী একজন মানুষ, যিনি নিজের অনুভূতির চেয়ে যুক্তির ওপর বেশি ভরসা করতেন। তার দ্বারা জেকিল ও হাইড-এর সম্পর্ক উদঘাটনের মুহূর্তগুলো সত্যিই চমকপ্রদ।

এটি মানুষের ভেতরের দ্বৈততা (Duality) এবং সামাজিক ভদ্রতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারের কথা বলে। এটি গথিক কথাসাহিত্যের একটি কালজয়ী কাজ, যা নাট্য ও চলচ্চিত্রসহ নানা মাধ্যমে বারবার অভিযোজিত হয়েছে। উপন্যাস থেকে একটা টার্ম অনেক জায়গায়ই ব্যবহার করা হয়, সেটা হলো- “জেকিল ও হাইড” (Jekyll and Hyde)। এই কথাটি এখন এমন কারো জন্য ব্যবহৃত হয় যার ব্যক্তিত্বের দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে- কখনও দয়ালু, আবার কখনও রূঢ় বা মন্দ।


দ্য স্ট্রেঞ্জ কেস অফ ডক্টর জেকিল এন্ড মিস্টার হাইড
লেখক: রবার্ট লুই স্টিভেনশন
অনুবাদ: লুৎফুল কায়সার
শিরোনাম প্রকাশন


পুনশ্চ: বাংলায় এই উপন্যাসটির অনেক অনুবাদ রয়েছে। তবে বোধহয় উপন্যাসটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ করেছেন লুৎফুল কায়সার যা শিরোনাম প্রকাশন থেকে প্রকাশিত।

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ২০১৯-২০

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ