অভিমানের তরী

চাঁদের আলোয় হঠাৎ সেই চেনা মুখ,
হতচকিত আমি দ্রুত পা বাড়ালাম-
আলো ঝলমলে কনফারেন্স রুমের দিকে।

দেজা-ভু ভেবে ব্যাপারটা আমলে না নিয়ে
সেমিনার উপভোগ করছিলাম ভালই।

বিপত্তিটা ঘটল তখনই,
যখন স্টেজে তোমাকে দেখলাম,
ন্যানোস্কেল টেকনোলজির উপর
একটা গবেষণার ফল ব্যাখ্যা করতে।
এবার আর চোখকে বিশ্বাস না করে
যাব কোথায়?
একথা ভাবতেই দৃষ্টি আটকে গেল
একজোড়া চোখের দিকে-
যেগুলো স্টেজ থেকেও একপলকে
দেখে নিলো আমায়।

এ সময় তোমার মনের ভেতর কী চলছিল
তা বুঝিনি – হয়ত চেষ্টাও করিনি।
তোমাকে কবেই বা বুঝতে চেয়েছি!
যত আপন করতে চাইতে,
তত তোমায় দূরেই ঠেলে দিয়েছি।

অভিমানের তরীতে ভাসিয়ে যেদিন-
তোমায় আমার বিপরীত তীরে পাঠিয়েছি,
সেদিনই খুব বুঝতে পেরেছি,
বুকের বাঁ পাশটা বুঝি ফাঁকা হয়ে গেছে।

আজকে এতকাল পরে এভাবে
দেখাটা না হলেও তো পারত!
অদৃষ্ট আমায় মুখ ভেঙচি কেটে বলল,
“ভাবনার সাগরে না ডুবে কথা বললেই
তো মিটে যায়।” আমার অবচেতন মনের সচেতন জেদ
ঠিকই ভাগ্যের নাক মলে দিয়ে বলল,
“বেশ আছি তো আমি একা,
মনের সব অভিমান যায় কী দেখা!”

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ২০১৭-১৮

আশরাফুন জান্নাত সুপ্তি

সেশন: ২০১৭-১৮