Sabermetrics – বেসবল খেলার পরিসংখ্যানমূলক হাতিয়ার

“A knowledge of Statistics is like a knowledge of foreign languages or of algebra; it may prove of use at any time under any circumstances.”

ব্রিটিশ পরিসংখ্যানবিদ ও অর্থনীতিবিদ এ.এল. বোওলির উপরিউক্ত উদ্ধৃতির মর্মার্থ বুঝতে পেরেছি বেসবল ভিত্তিক চলচ্চিত্র “মানিবল“ দেখার পর। সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত “মানিবল” বইয়ের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি আমেরিকার অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স বেসবল দলের জেনারেল ম্যানেজার বিলি বিনের পরিসংখ্যানের সাহায্যে দলে খেলোয়াড় বাছাই এবং সেই দলেরই খেলায় অপ্রত্যাশিত জয়লাভকেই চিত্রিত করে।

অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স দলের সাফল্যজনক যাত্রার পেছনের গল্পটি অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। ২০০১ সালে আমেরিকান লীগ ডিভিশন সিরিজে নিউইয়র্ক ইয়ানকিস দলের কাছে অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স দলের পরাজয়ে বিলি বিন হতাশ হয়ে পড়েন। জেসন জিয়ামবি, জনি ডেমন ও জেসন ইসরিংহাউসেনের মতো শক্তিশালী খেলোয়াড়রা দল থেকে প্রস্থান করে। ২০০১ সালের আমেরিকান লীগে সীমিত বাজেটে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বী মূলক দল গঠন বিলি বিনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই  চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাঁকে সাহায্য করেন সহকারী জেনারেল ম্যানেজার পল ডেপোডেসটা। উভয়েই ‘Sabermetrics’  পদ্ধতিতে খেলোয়াড় বাছাই করেন। ‘Sabermetrics’ হলো বেসবল খেলার পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ যেখানে ব্যাটিং, পিচিং ও ফিল্ডিং এর ভিত্তিতে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ও তুলনা করা হয়। পরিসংখ্যানবিদ ও বেসবল বিষয়ক লেখক জর্জ উইলিয়াম জেমস ‘Sabermetrics’ পদ্ধতিটি প্রচার ও প্রসার করেন। ব্যাটিং পরিমাপে প্রথাগত গড় ব্যাটিং এ বেশ কিছু খুঁত থাকায় অন-বেস পার্সেন্টেজকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। অন-বেস পার্সেন্টেজ (ওবিপি) বা অন-বেস অ্যাভারেজ (ওবিএ) হচ্ছে একজন ব্যাটার তার প্লেটের উপস্থিতির তুলনায় শতকরা কতভাগ বেসে পৌঁছায় তার পরিমাপ।

অন-বেস পার্সেন্টেজ বের করার সূত্রটি হচ্ছে –

     যেখানে

  • H = Hits
  • BB = Bases on Balls (Walks)
  • HBP = Hit By Pitch
  • AB = At bat
  • SF = Sacrifice fly

অন-বেস পার্সেন্টেজে স্ল্যাগিং অ্যাভারেজ (ব্যাটারের ব্যাটিং ক্ষমতার পরিমাপক) যুক্ত করে অন-বেস প্লাস স্ল্যাগিং নির্ণয় করা হয়। বিলি বিন ও পল ডেপোডেসটা অন-বেস পার্সেন্টেজ ব্যবহার করে কয়েকজন অবমূল্যায়িত খেলোয়াড়দের নিয়োগ করেন। যেমন- পিচার চ্যাড ব্র্যাডফোর্ড, আউটফিল্ডার ডেভিড জাস্টিস ও ক্যাচার স্কট হ্যাটবার্গ ইত্যাদি। যেখানে বেসবল খেলায় স্কাউটদের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে খেলোয়াড় নির্ধারণ করা হতো, সেখানে ‘Sabermetrics’-কে কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে প্রয়োগ করে বিলি বিন খেলোয়াড় নির্ধারণে সাহসী পদক্ষেপ নেন। ২০০২ সালের শিরোপার শুরুতে অ্যাথলেটিক্স দলটি অত্যন্ত দুর্বলভাবে খেললেও অল্প সময়ের মধ্যে পরপর ২০টি খেলায় জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো আমেরিকান লীগের ১০০ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে। অবশেষে অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স ২০০২ আমেরিকান লীগ ওয়েস্ট শিরোপা জিতলেও ২০০২ আমেরিকান লীগ ডিভিশন সিরিজে মিনেসোটা টুইনসের কাছে হেরে যায়। অ্যাথলেটিক্স দলটির অভূতপূর্ব সাফল্য ও ‘Sabermetrics’-কে বেসবলের ভবিষ্যৎ উপলব্ধি করতে পেরে বোস্টন রেড সক্সের মালিক জন উইলিয়াম হেনরি বিলি বিনকে তাঁর দলের জেনারেল ম্যানেজার হওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু বিন প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্সের সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে রেড সক্স ২০০৪ ওয়ার্ল্ড সিরিজে বিজয়ী হয় অ্যাথলেটিক্সের পরিসংখ্যান মডেল ব্যবহার করে।

‘Sabermetrics’ বেসবল খেলার খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের চিন্তাধারা বদলে দেয়। অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত যেসব খেলোয়াড়দের অদক্ষ বলে বিবেচনা করা হতো, সেসব খেলোয়াড়দের মাত্র পূর্ববর্তী খেলার পারফরম্যান্সের নিখুঁত বিশ্লেষণে দেখা যায় তারা দলের দুর্দান্ত খেলোয়াড়। ‘Sabermetrics’ এর প্রয়োজনীয়তা বেসবল খেলায় বাড়তে থাকে। পরিসংখ্যান মডেলটির উপর ভিত্তি করে অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স ও রেড সক্স ছাড়াও নিউইয়র্ক  ইয়ানকিস, ওয়াশিংটন ন্যাশনালস এর মতো দলগুলো ‘Sabermetrics’ বিশ্লেষক নিয়োগ দিয়ে খেলায় কৌশল অবলম্বন করা শুরু করে।

অকল্যান্ড অ্যাথলেটিক্স দলের মূল শক্তি পরিসংখ্যান। পরিসংখ্যানই দলটির শক্তি ও দুর্বলতাকে নির্ণয় করে দলের অবিস্মরণীয় জয়কে নিশ্চিত করে। পরিসংখ্যানই পেরেছে বেসবল খেলায় খেলোয়াড় বাছাই ও খেলায় কৌশল অবলম্বনের উন্নয়ন সাধনে।

তথ্যসূত্র:

১। Film Moneyball

২। https://en.wikipedia.org/wiki/Moneyball_(film)

৩। https://en.wikipedia.org/wiki/Sabermetrics

৪। https://miniwebtool.com/on-base-percentage-calculator/

৫। https://en.wikipedia.org/wiki/Bill_James

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৮ - ২০১৯

আনুশি আরভীন

সেশনঃ ২০১৮ - ২০১৯

0