অনিবার্য এক সত্য

তিপ্পান্নটা সুঠাম দেহ লাশ হলো ধীরে ধীরে সমুদ্রতলে।
বাবা-মা বসে আছে প্রতীক্ষায় জড়িয়ে ধরবে পুত্রের উষ্ণ দেহ
পুত্র ফিরলে শীতল দেহে অথবা ফিরলেই না;
পুত্রের সলিল সমাধি।
প্রেয়সীরা ম্রিয়মাণ,
শত আশায় প্রণয় কুঞ্জ সজ্জিত করে অপেক্ষারত ছিলে যারা।

সীমান্তের ওপাশে তুমি কি দেখতে পাচ্ছ চিতা বহ্নি?
পিতা অপেক্ষায়, পোড়াবে পুত্রের দেহ
যাকে পৃথিবীতে এনেছিল বংশ প্রদীপ জ্বালাবে বলে।
অথবা পুত্র কাঁধে নিয়ে তার মমতাময়ীর তনুখানি;
যে তনু বাতাসের ন্যায় চঞ্চল হয়ে উঠত
পুত্রের ঘরে ফিরতে এই একটুখানি দেরি হলে কিংবা দেরিই নয়।

ঐ চেয়ে দেখ উন্মত্ত পদ্মা আবার বুঝি তার বুকে টেনে নিল
একশ একটি তাজা প্রাণ।
মায়ের গর্ভে সাত মাসী প্রাণ,
বাবার বুকে তার আদরের রাজকন্যা
ঐ দেখ আগলে রেখেছে কী পরম মমতায়,
প্রাণহীন নিথর শুধু!
তাকে আর ছুটতে হবে না খাবারের থালা হাতে দস্যি মেয়ের পিছু পিছু;
আর সব পূর্বেরই ন্যায়।

নববধূ, যার লাল শাড়ি পরা আর গহনার ভারে নুয়ে পড়া
বদনখানি দেখবে বলে ভীড় করবার কথা ছিল পাড়ার বউবেটিদের
তার ঐ শুভ্র দেহখানা দেখ শুভ্রকাপরে মোড়া, তুলসীতলায়, দেখ চেয়ে।

ভগিনীকে তার আপন গৃহে পৌঁছাবে বলে;
দু’চাকার বাহনে করে বেরিয়ে পড়লে ঐ তার অনুজ
ফিরলে চার চাকার বাহনে পিষ্ট হয়ে।

ঐ দেখ অগ্নি শিখা
গজের ন্যায় শুড় তুলেছে পুরান ঢাকার ঐ গলিতে
অথবা দক্ষিণের ঐ বনবাদরে
নির্মমতার রঙে;
গ্রাস করে নিচ্ছে তাজা রক্ত, কত আশা, ভরসা আর ভবিষ্যৎ।
দেখ, বৃক্ষদের ঐ ঋজু দেহ পুড়ে অনিলে লীন হচ্ছে লাশ হয়ে ধীরে ধীরে!
সকলে আজ বড় ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত;
যমদূতেদের কী হাল?

তুমি কি দেখতে পাচ্ছ সমুদ্রতটে পরে আছে জোড়া তিমি?
মরে গেছে পুরুষ তিমিটি
আর তারই শোকে মুহ্যমান হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিল তার সাঁতার সঙ্গী
কী প্রেম, আহা!
ঠিক কতটা ভালবাসলে এমনটা করা যায় বল দিকি?
কেউ কি আমায় এতটা ভালোবাসবে?

আমিও আজ বড় ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত;
ঠিক করেছি এসব নিয়ে ভাববো না; রচনা করব না একটি বাক্যও
সাহায্য চাইব না কোনো সর্বশক্তিমানের নিকট;
আমার ঘরে যে অগ্নি মশাল ছুঁড়েছে
সেই আগুন নিভানোর প্রার্থনা আবার তারই নিকটে করব কোন মুখে?
তাই প্রণয়ের কবিতা লিখে যাচ্ছি পাতার পর পাতা,
কালি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে বারংবার;
তবুও থামাচ্ছি না কবিতা সৃষ্টি
ভয়ে কিংবা ভুলে থাকবার জন্য
মৃত্যুর মিছিল চারিদিকের
আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দিচ্ছে যে মিছিলে।
ঐ দেখ সারি সারি লাশ
একে একে সামিল হচ্ছে অথবা দল ধরে একযোগে।

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৬-১৭

হরিপদ শীল

সেশনঃ ২০১৬-১৭

0