উত্তরের শয়ান

নিস্তব্ধতা ভেদ করেই ছুটেছিলো আলোর পথে
প্রতিটা অঙ্গের সুস্পষ্ট প্রকাশে হেসেছিল বাবা-মার মুখ
তবু সাড়া দেয়নি সে!
মস্তিষ্কের অসারতা নির্বিকার করেছিল ওকে;
এই কোলাহলের দেশে।
কোনো দিন ডাকা হয়নি আগমন দায়িনীকে!
সব দেখেছে,
সব শুনেছে হয়তো।
অলক্ষ্যে চোখের জল গড়িয়েছে অনেক।
পিতলের মূর্তি দূর থেকে দেখেছে সব।
মায়াবী চোখের আহবান বার বার ঠিকরে পড়েছে মূর্তির পদতলে
নিস্তব্ধ ঠাকুরের পিয়াস মেটেনি তাতে
উত্তরের শিয়রের মাথা তার চাই ই চাই!
কোনো এক কাঠফাটা রৌদ্রের ঝলকানিতে ওর চুল গুলো আজ জ্বলছে
অস্ফুট কান্না হাওয়ায় ভাসিয়ে
দূর হতে নিজের দাহ দেখছে সে!
চোখে আজ তার অশ্রু নেই
কত বছর পর!
আজ মুখশ্রী জুড়ে হাসির ফোয়ারা
সোঁদা মাটির মিষ্টি গন্ধ আজ প্রাণ ভরে নিচ্ছে
ও আজ নরম মাটি ধরে প্রথম বাধাহীনভাবে হাঁটছে
আগে যেটা হয়নি কখনো!
ডাকছে ওদের
খুব কাছে গিয়ে
ঠিক কানের কাছে!
শুনতে কি পাচ্ছে কেউ?
পার্থিবতার স্বচ্ছ পর্দা আড়াল করেছে ওকে
এতো কাছের উপস্থিতিও আজ ওকে যোজন যোজন দূরে অজানা এক দেশে নিয়ে গেছে সূর্য ডোবার আগেই!
যখন মাংসল শরীরটা পুড়ছে-
সবার কাছে দৌড়ে যাচ্ছে হয়তো
কেউ ডাক শোনেনি
শেষ অস্থিটুকু ও নিকষ কালো হয়ে গেছে
সবাই ওরা চলে গেছে!
একটু পরই আকাশ ভেদিয়ে সন্ধ্যা নামবে
দূর আকাশে সন্ধ্যা তারা মিটমিটিয়ে উঠবে জ্বলে
নিজের বিছানায় আটকে পড়া দুনিয়া ছেড়ে
আজ ও অসীম অন্তরিক্ষের পর্যটক!
এই ভ্রমন অনন্ত কালের।
অপেক্ষার শেষলগ্নে এসে
একে একে সবাইকে পাবে ও।
সেই সুদীর্ঘ যাত্রার প্রস্তুতিতে আমাদের একটু সময় দিও
অনেক কাজতো এখনো বাকি!

(Remembering a Supreme creature of God who Couldn’t feel the world being autistic by birth & had to draw an end of her shortest journey of this world being fully paralyzed)

কমেন্ট করুন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট

0