শিক্ষা উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা: প্রেক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

“আমাদের এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে যার দ্বারা চরিত্রবান কর্মঠ এবং দক্ষ মানুষ সৃষ্টি করা সম্ভব।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

ভূমিকা:

শিক্ষাই শক্তি, জ্ঞানই আলো। শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। একটি জাতির উন্নয়নে শিক্ষা যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা অনস্বীকার্য। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, শিক্ষার মূল্য যে জাতির কাছে যত বেশি, সে জাতির মননে ও সৃজনশীলতায় তত বেশি এগিয়ে। বঙ্গবন্ধুর ন্যায় একজন প্রাজ্ঞ ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক সহজেই তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাইতো তিনি শিক্ষা খাতকে দিয়েছিলেন অধিকতর গুরুত্ব। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর, দেশে ফিরে হাল ধরেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভঙ্গুর দেশের। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ঢেলে সাজাতে শুরু করেছিলেন এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে।

শিক্ষা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও সংজ্ঞা:

মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে ‘শিক্ষা’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও এর ব্যবহারিক সংজ্ঞা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। সংস্কৃত ‘শাস’ ধাতু হতে শিক্ষা শব্দটির উৎপত্তি। ‘শাস’ ধাতুর অর্থ – নিয়ন্ত্রণ করা, উপদেশ প্রদান করা, শাসন করা। শিক্ষা শব্দটির একটি প্রতিশব্দ হলো ‘বিদ্যা’। এটি ‘বিদ্’ ধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ জানা বা জ্ঞান আহরণ করা।

শিক্ষা শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Education’। ল্যাটিন শব্দ ‘Educari’ বা ‘Educatum’ থেকে ইংরেজি Education শব্দটি এসেছে। ‘Educari’ বা ‘Educatum’ শব্দের অর্থ ‘to lead out’ অর্থ্যাৎ ভেতরের সম্ভাবনাকে বের করে নিয়ে আসা, সম্ভাবনাকে বিকশিত করা।

সাধারণ অর্থে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞান লাভের যে প্রক্রিয়া তাই শিক্ষা। শিক্ষা হলো অব্যাহত অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তিস্বত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ।

“ব্যক্তির দেহ, মন ও আত্নার সুষম
বিকাশের প্রয়াসই হলো শিক্ষা।”

মহাত্না গান্ধী

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনা:

ছোট বেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন শিক্ষা অনুরাগী। শিক্ষকদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ছিল অপরিমেয়। কৈশোরে তিনি তার গৃহশিক্ষক আব্দুল হামিদের দ্বারা প্রভাবিত হন। আব্দুল হামিদের গড়ে তোলা মুসলিম সেবা সমিতির তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় কর্মী। এই সংগঠনের কাজ ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান, চাল সংগ্রহ করে গরীবদের বিশেষ করে গরীব শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা। এছাড়াও জাতির জনকের ৫৫ বছরের জীবদ্দশায় অসংখ্য ঘটনা রয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বিশেষ শিক্ষা অনুরাগী বলেই মনোনীত করা যায়।

শিক্ষার মান উন্নয়নে স্বাধীনতা পূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তী বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান।

স্বাধীনতাপূর্ব পদক্ষেপসমূহ:

চল্লিশ দশকের শেষের দিকে মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও নেতৃবৃন্দের চরম দমন নীতির কারণে পূর্ব বাংলায় মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ৪০ সদস্য বিশিষ্ট ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’। শেখ মুজিবকে দেয়া হয় যুগ্ম-সম্পাদকের পদ। এই দলের ম্যানিফেস্টো হিসেবে যে ১২ দফা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয় তার অন্যতম একটি ছিল, নারী ও পুরুষের জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

১৯৫৩ সালে, আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী ও বামপন্থী গণতন্ত্রী দল এই চারটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা ভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার প্রদান করে। ইশতেহারের অন্যতম তিনটি দফা হলো:

৯. দেশের সর্বত্র একযোগে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন।

১০. কেবল মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহের মধ্যে ভেদাভেদ দূর করে একই পর্যায়ভুক্ত করা। বিশ্ববিদ্যালয়সমহকে সরকারি সাহায্যপুষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রভৃতি কালাকানুন বাতিল করা ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ব্যবস্থা।

উক্ত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ মুজিবুর রহমান পান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব।

পঞ্চাশের দশকে প্রাদেশিক শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালেই বঙ্গবন্ধু এ অঞ্চলের মানুষকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ফলস্বরুপ, ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। জাতির পিতা বলেছিলেন, “দেশের প্রাপ্তব্য সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার ও ইহাকে জনগণের কাজে লাগানই হইতেছে দেশকে শিল্পায়িতকরণের উদ্দেশ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ ও ইহাকে সর্বাবস্থায় বহুমুখীকরণই ইহার যুক্তিসঙ্গত ও অপরিহার্য পরিপূরক।” সত্তরের নির্বাচনের সময় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু বলেন, “সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা খাতে পুঁজি বিনিয়োগ আর কিছু হতে পারে না। নিরক্ষরতা অবশ্যই দূর করতে হবে। পাঁচ বছর বয়স্ক শিশুদের বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাদানের জন্য একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। দারিদ্র্য যেন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেধাবীদের জন্য বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

স্বাধীনতা পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ:

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গ্রেফতার হওয়ার পর দীর্ঘ নয়মাস বাদে, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ১২ জানুয়ারি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হন। ঢেলে সাজাতে শুরু করেন দেশের শিক্ষাখাতসহ সমগ্র দেশকে।

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। বঙ্গবন্ধু সংবিধানে স্বাক্ষর করেন ১৪ ডিসেম্বর এবং কার্যকর হয় একই বছর ১৬ ডিসেম্বর থেকে অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের দ্বিতীয় বছর থেকে সংবিধানে ১৭নং অনুচ্ছেদে শিক্ষা বিষয়ে বলা হয়েছে-

১৭। রাষ্ট্র অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা (ক) একই পদ্ধতির গনমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য।

(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সংগতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছা প্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য।

(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক-হানাদার বাহিনী এদেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা অবর্ণনীয়। পাকবাহিনীর অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্র ও শিক্ষক। অসংখ্য স্কুল-কলেজে আগুন দেয়, হত্যা করে অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষককে। ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড এর মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত। এছাড়াও তাদের প্রধান আশ্রয়কেন্দ্র ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ। যার ফলে যুদ্ধে ২১,৮৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সরকারি হিসেবে যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫০ মিলিয়ন টাকা – যুদ্ধে সরকারি খাতে ক্ষয়ক্ষতির প্রায় ৪.৭ শতাংশ। ১৯৭২ সালের ১৫ জানুয়ারি মুজিব সরকার, ১৯৭১ সালের মার্চ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বেতন মওকুফ করে দেয়। শিক্ষকদের বকেয়া বেতন বিবেচনায় আনা হয়। প্রথম বাজেট ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় শিক্ষাখাতকে অধিক প্রাধান্য দেয়া হয়। শিক্ষার মান উন্নয়নে ও অর্জিত শিক্ষা সমাজে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বেশকিছু কৌশলের উল্লেখ করা হয় –

১. অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, প্রয়োজনে শিক্ষালয়গুলোতে দু’শিফটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে।

২. বিজ্ঞান শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

৩. স্কুল সংলগ্ন ল্যাবরেটরি এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠার সংলগ্ন ওয়ার্কশপে বয়সভেদে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নানামুখী প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

৪. মেধা যোগ্যতার ভিত্তিতে মনোনীত শিক্ষার্থীরাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ তৈরি করবে।

৫. বয়স্ক শিক্ষা প্রসারে রেডিও, টেলিভিশন, মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার্থীদের কাজে লাগাতে হবে।

৬. প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহ পাঠক্রমিক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে প্রসার করে শিক্ষালয়ের অভ্যন্তরে ও বাহিরে খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও সংস্কৃতি কর্মকাণ্ডে উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

৭. মেয়েদের শিক্ষা প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষা পুনর্বাসনের লক্ষ্যে, ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি ৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় বঙ্গবন্ধু সরকার। জাতির পিতা শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন তার অন্যতম উদাহরণ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের চেয়ে শিক্ষা খাতে প্রায় ৭% বেশি বরাদ্দ রাখা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা, সকল স্তরকে গুরুত্বসহ বিবেচনায় আনা হয়।

নিরক্ষরতা দূরীকরণে ১৯৭২ সালেই সরকার গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ইউসুফ আলী, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দেয়া শুরু হয়। সারা দেশে  ২৮,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই দিয়ে এর উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৪০ ভাগ কম মূল্যে বই সরবরাহ করা হয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বেতন মওকুফ করা হয়। ১৯৭২-৭৩ সালে ৩৬,১৬৬ স্কুল সরকারিকরণ করা হয়, ৯০০ কলেজ ভবন এবং ৪০০ বিদ্যালয় পুনঃনির্মাণ করা হয়। একই বছর ১,৫৭,৭৪২ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারি করা হয়।

শিক্ষাখাতে আরও কী কী অগ্রগতি প্রয়োজন তা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে, বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ ‍কুদরত-ই-খুদাকে সভাপতি করে ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর (১৯৭২) বঙ্গবন্ধু উক্ত শিক্ষা কমিশনের উদ্বোধন করেন। নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে, ১৯৭৪ সালের ৩১ মে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশন সরকারের কাছে জমা দেয়-

১. শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধান প্রধান সমস্যার সমাধান করতে হবে।

২. শিক্ষা কমিশন যেসব বিষয় গুরুত্ব আরোপ করেছে সেগুলো হলো-

ক) শিক্ষার সর্বস্তরে জাতীয়করণ মূলনীতি চতুষ্টয়ের স্বার্থক প্রতিফলন সুনিশ্চিত করতে হবে।

খ) সর্বস্তরে বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যমরুপে ব্যবহার করতে হবে।

গ) প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে এবং তাকে সর্বজনীন করতে হবে। ১৯৮০ সালের মধ্যে পঞ্চম শ্রেণি এবং ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করতে হবে।

ঘ) প্রাথমিক স্তর থেকেই বিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষাকে বিশেষ স্থান দিতে হবে।

ঙ) মাধ্যমিক স্তরে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

চ) সর্বস্তরে কর্মকেন্দ্রিক-শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন করা।

ছ) ১৯৮০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরতা মুক্ত করতে হবে।

জ) পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার সাধন করতে হবে।

ঝ) সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষায়তনগুলোর মধ্যে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে হবে।

ঞ) শিক্ষাকে সম্পদ সৃষ্টির উপায় হিসেবে গণ্য করতে হবে।

৩. শিক্ষার লক্ষ্য

ক) শিক্ষা ব্যবস্থা একটি জাতির আশা-আকাঙখা রুপায়নের ও ভবিষ্যৎ সমাজ নির্মানের হাতিয়ার।

খ) দেশের সকল শ্রেণির জনগনের জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের উপলদ্ধি জাগানো।

গ) নানাবিধ সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা অর্জন।

ঘ) সমাজতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টির প্রেরণা সঞ্চার শিক্ষানীতির প্রধান দায়িত্ব ও লক্ষ্য

ঙ) শিক্ষার সর্বস্তরে জাতীয় নীতি চতুষ্ঠয়ের স্বার্থক প্রতিফলন সুনিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্দ্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, দেশে সুনাগরিক, মানবতার বিশ্বনাগরিকত্ব, নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক রূপান্তরের হাতিয়াররুপে শিক্ষক, প্রয়োগমুখী, সৃজনশীলতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনুকূলে শিক্ষা, কায়িকশ্রমের মর্যাদা দান, নেতৃত্ব সংগঠনের গুনাবলি, সৃজনশীলতা ও গবেষণা এবং সমন্বিত অগ্রগতি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে শিক্ষা, সরকারি পর্যায়ে বাংলা প্রচলন কমিটি গঠন।

শিক্ষা কমিশনের দেয়া এই প্রতিবেদনকে বিবেচনায় এনে সমগ্র দেশে, বঙ্গবন্ধুর তত্ত্বাবধানে এর প্রয়োগ শুরু করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। তার সুফল পেতে শুরু করে পুরো দেশ।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং উভয়ই বাঙালির গর্বের বিষয়। ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন শেখ মুজিব। সংযুক্ত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে। পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন, কর্মচারী ধর্মঘটসহ বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ফলে তাঁকে বারবার কারাবাস করতে হয়। সবশেষে ছাত্রত্ব বাতিল করা হয় তাঁর।

১৯৭২ সালের ৬ মে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কলাভবনের সামনে বটতলায় সংবর্ধনা দেয় হয়। তাঁর ছাত্রত্ব বাতিলের আদেশের কপি ছিঁড়ে ফেলা হয়।

১৯৬১ সালে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার খর্ব করে পাকিস্তান সরকার বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা আইন প্রণয়ন করে। পাক-সরকার একাডেমিক কর্মকাণ্ডকে স্বাধীনভাবে চলতে না দিয়ে সরাসরি অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। এটি তৎকালীন সময়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় কালাকানুন’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

স্বাধীনতার পর মুজিব সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩) জারি করে। যার ফলশ্রুতিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর সর্বপ্রথম স্বায়ত্তশাসন লাভ করে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কেও স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়। ফলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্তিবুদ্ধি চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর গঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও বিকাশ ঘটানো। এর ফলে ছাত্র-শিক্ষকরা অধিকতর ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে এটি যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্বাধীনতার পর দেশে চরম খাদ্য সংকট চলাকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলে দুইবেলা ভাতের দাবীতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুজাফফর আহমেদ চৌধুরীকে ঘেরাও করলে বঙ্গবন্ধু তৎক্ষণাৎ কোনো প্রটোকল ছাড়াই উপাচার্যের বাসভবনে আসেন এবং ছাত্রদের হলে দুইবেলা ভাতের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। ১৯৭২ সালের শেষভাগে ছাত্ররা অটোপ্রমোশনের জন্য আন্দোলন করলে, বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলে সমস্যার সমাধান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম সমাবর্তন (স্বাধীনতার পর প্রথম সমাবর্তন) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবার কথা ছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য রাস্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, কিন্তু সেদিন ভোর রাতেই ঘটে যায় ইতিহাস কলংকিত সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সপরিবারে নিহত হন জাতির পিতা।

২০১০ সালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে একটি মানপত্র তুলে দেয়া হয় ঐ একই বছরে যেটি দেয়ার কথা ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। বেশ কিছু বছর বাদে হলেও সমাপ্তি ঘটে এক লজ্জাজনক কালো অধ্যায়ের।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন:

জাতির পিতার শিক্ষা দর্শন ছিল গণমুখী ও সর্বজনীন। শিক্ষার গুরুত্ব উপলদ্ধি করে তিনি বলেছিলেন, “শিক্ষাকেই হবে মুক্তির হাতিয়ার। সেই মুক্তি হবে সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি। এই মুক্তি হলো দারিদ্র্য শোষিত জনগণের মুক্তি, এই মুক্তি হলো দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি।”

উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আগামীর বাংলাদেশ যে শিক্ষা ছাড়া গড়ে তোলা একেবারেই সম্ভব নয় তা তিনি বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাইতো তিনি অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার পাশাপাশি শিক্ষাকেও জনগনের মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে সংযোজিত করেন।

বঙ্গবন্ধু সেই সময়েই বুঝতে পেরেছিলেন যে, গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রায়োগিক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার অধিক প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন।

“শুধু বি.এ, এম.এ. পাশ করে লাভ নাই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। স্কুলে যাতে সত্যিকার মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে। কেরানী পয়দা করে একেবারে ইংরেজ শেষ করে গেছে। তোমাদের মানুষ হতে হবে।”

শিক্ষকদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অপার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। স্বাধীন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর ও শিক্ষা সচিব ছিলেন শিক্ষক। এ সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায় – ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু নোয়াখালিতে একটি জনসভায় গিয়েছিলেন। সেখানে সার্কিট হাউসে অবস্থানরত অবস্থায় একজন বৃদ্ধ, শিক্ষক পরিচয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জাতির জনকের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করেন। বঙ্গবন্ধু বিষয়টি জানামাত্র উক্ত শিক্ষককে তাঁর কাছে নিয়ে আসেন এবং রাতে তার সঙ্গে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আগামী প্রজন্মের ভাগ্য শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে। শিশুদের যথাযথ শিক্ষার ব্যত্যয় ঘটলে কষ্টার্জিত স্বাধীনতা অর্থহীন হবে।”

জাতির জনক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের পাশাাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার উপরেও জোর প্রদান করেন। তিনি বলেছিলেন, “আমলা নয়, মানুষ সৃষ্টি করুন।”

১৯৭৩ সালে ১৮ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া এক ভাষনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জাতির পিতা বলেছিলেন, “ছাত্র ভাইয়েরা, লেখাপড়া করেন। ডিগ্রি নিয়ে লাভ হবে না। ডিগ্রি নিয়ে মানুষ হওয়া যায় না। ডিগ্রি নিয়ে নিজের আত্মাকে ধোঁকা দেওয়া যায়। মানুষ হতে হলে লেখাপড়া করতে হবে।”

উপসংহার:

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র একজন অসাধারণ বক্তা ও অনন্য রাজনীতিবিদই নন, একজন শিক্ষা-চিন্তক ও শিক্ষা দার্শনিকও বটে। জাতির দুর্ভাগ্য তাঁর চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটবার পূর্বেই তিনি বর্বরতার শিকার হন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর শিক্ষাদর্শন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। সেদিক থেকে আমরা পুরোটাই পিছিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী চাকরি না পেয়ে হতাশায় আত্মহত্যা করছে। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিবর্গ ভয়াবহ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে যা খুবই উদ্বেগজনক। হতাশাজনক এই অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয়। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ‍জি.পি.এ-৫.০০ না পেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এই সব সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে উচ্চতর গবেষণা, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও প্রাপ্ত ফলাফল যথোপযুক্তভাবে কাজে লাগানো।

আশার কথা, বাজেটে শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রায়োগিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি, ব্যবহারিক ও জীবনমুখী শিক্ষায় এগিয়ে যাবে এবং দেশে একটি শক্তিশালী ও টেকসই শিক্ষাপদ্ধতির প্রবর্তন হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি ও তথ্যসূত্র:

১.ড. ডি. এম. ফিরোজ শাহ্, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন, আগামী প্রকাশনী (ঢাকা, ২০২০)
২.সিরাজ উদদীন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ইসলামী ফাউন্ডেশন (ঢাকা, ২০০১)
৩.শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড, (ঢাকা, ২০১২)
৪.শেখ মুজিবুর রহমান, কারাগারের রোজনামচা, বাংলা একাডেমি, (ঢাকা, ২০১৭)
৫.ড. আবু মোঃ দেলোয়ার হোসেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতহাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনী (ঢাকা, ২০১৪)
৬.তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ (প্রথম বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২, পৃ. ৯৫
৭.অধ্যাপক মোঃ রশীদুল হাসান, বঙ্গবন্ধুর গনমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষা দর্শন: সামাজিক ও রাজনৈতিক সনদ (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০)
৮.মোঃ আশরাফুজ্জামান, বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন: দিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, The Ray, Prime University Magazine, 2019
৯.মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান (দৈনিক যুগান্তর, ২১ মার্চ, ২০২০)
১০.অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম, বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, একাত্তর প্রকাশনী (ঢাকা, ২০২০)
১১.সাদি ইসলাম জয়, বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা টাইমস, ২ জুলাই, ২০২০)
১২.দৈনিক আজাদ (৪ অক্টোবর, ১৯৫৬)
১৩.The Daily Campus (১৭ মার্চ, ২০২০)

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে পরিসংখ্যান বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকারী
হরিপদ শীল (সেশন: ২০১৬-১৭)

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৬-১৭

হরিপদ শীল

সেশনঃ ২০১৬-১৭

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.