সেপ্টেম্বর 23, 2026

আমেরিকার মাটিতে গরু খোঁজা

কোনো এক শীতের সন্ধ্যায়। মসজিদে মাগরিবের নামাজ চলছে। মসজিদের পাশেই বড় উন্মুক্ত মাঠ। আমরা কয়েকজন মিলে কোনো মতে একটা ক্রিকেট পিচ বানিয়েছি। দুপুরের খাবার শেষ হলেই মাঠে হাজির। বাউন্ডারির কিছুটা দূরে খড়কুটোর স্তুপ। কৃষকরা ধান ঘরে তুলেছে। আর খড়কুটোগুলো এখানে রাখা। খেলা শুরুর আগে সেই খড়কুটোর উপর বসে কিছুক্ষণ আড্ডা দিতাম। আর অন্যদের জন্য অপেক্ষা করতাম। তারপর সারা বিকেল জুড়ে খেলা-ধুলা করে, সন্ধ্যায় ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ঘরে ফিরছিলাম। এমন সময় দেখি আমার বন্ধু রাফি উল্টোদিকে আসছে।

—আব্বাস, আমার সাথে একটু কোলায় (মাঠে) যাবি?

—কেন? সবাই তো চলে গেছে। খেলা তো শেষ। তুই তো শেষে ফিল্ডিং না দিয়েই চলে আসছিস।

—না, না। এমনেতেই আসিনি।

—তাহলে?

—আজ বাড়িতে দাদাও নাই, বাবাও নাই। আমি তো মাঠে ছিলাম। মা সব গরু-বাছুর গোয়াল ঘরে নিয়ে গেছে। এখন গুনে (গণনা করে) দেখে আমাদের লাল বাছুরটা নাই। আমাকে পাঠিয়েছে খুঁজে নিয়ে আসতে। চল না, আমার সাথে!

—ওহ। চল, তাহলে।

ক্রিকেট খেলার পিচ পার হয়েই রাফি ডাকতে লাগল—”হাম্বা, হাম্বা। আমার লাল চাঁন কই? হাম্বা, হাম্বা।” কোথাও কোনো সাড়া নেই। শীতের সন্ধ্যা। কুয়াশা পড়া শুরু হয়েছে। শীতে কিছুটা কাঁপছি। তবে সে কম্পন চোখে দেখা যাবে না। শরীর ছুঁয়ে দেখলে বোঝা যাবে। শরীরের সব লোম দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা ভয়ও পাচ্ছি। খালপাড়ে একটু একটু করে শিয়ালের ডাক শুরু হয়েছে—”হুক্কা, হু হুয়াআআ।” তবে কিছু সাহস পাচ্ছি। ফকফকা চাঁদের আলো চারপাশে ছড়িয়ে আছে।

—আব্বাস, তুইও ডাক।

—আচ্ছা। হাম্বাআআ, হাম্বাআআ। লাল চাঁন, হাম্বাআআ।

আমিও ডাকতে লাগলাম। দুজন মিলে ডাকছিলাম। কিছুক্ষণ ডাকতে ডাকতে হঠাৎ শুনতে পেলাম—

“হাম্বাআআআআ।”

রাফি শব্দের দিকে ছুটে গেল। বাছুরটাকে দেখে আমাদের দুজনেরই খুব আনন্দ হলো। ভালোবেসে কোনো কিছু খোঁজার পরে যখন সেটা পাওয়া যায়, তখনকার সেই মুহূর্তের অনুভূতি সত্যিই অনেক সুন্দর।

লাল চাঁন একা একা ঘাস খাচ্ছে। মনে হলো, সারাদিন অন্য গরুগুলোর কারণে ঘাস খেতে পারেনি। ঘাসের তুলনায় গরু বেশি। আবার তাদের লাল বাছুরটা খুবই ভদ্র। কারো সাথে ঝামেলা করে না। শিং আছে, অন্যান্য বাছুরের থেকে বড় শিং, তবুও কারো সাথে ঝগড়া করে না। যাইহোক, বেচারা ক্ষুধার জ্বালায় এই সন্ধ্যা রাতেও একা একা ঘাস খাচ্ছে। ও জানে, এরাতে শিয়ালের দল তাড়া করতে পারে। তবুও ভয়কে উপেক্ষা করে মাঠেই রয়ে গেল। “ঠিক যেন ফিলিস্তিনের শিশুদের মতো। বোমা-বারুদের সামনে গিয়েও দাঁড়ায়, শুধু এক লোকমা খাবারের জন্য।”

সেই যে ২০১২ বা ১৩ সালের দিকে গরু খুঁজছিলাম, তারপর আর কখনো গরু খোঁজা হয়নি। ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলাম। ছোটবেলার সব সুখগুলো কোথায় যেন শীতের কুয়াশার মাঝে হারিয়ে গেল। ইচ্ছা, শখ, চাহিদা, সুখ—সবকিছু বদলাতে লাগল। এখনো মন চায়, একটু যদি সুযোগ হতো গরু খোঁজার। শীতের সন্ধ্যার কুয়াশা, চাঁদের আলো, হালকা শিয়ালের ডাক—সবকিছুকে সাথে নিয়ে গরু খোঁজা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরে মনে হলো, হয়তো আবার ছোটবেলার মতো গরু খোঁজার সুযোগ হবে। হয়তো সেটা বাংলার মাটিতে হয়ে উঠবে না—আমেরিকা কিংবা অন্য কোনো ভিনদেশের মাটিতে। তবে আমার মনের দৃঢ় ইচ্ছা, একদিন আমাদের দেশের সন্তানেরা নিজের দেশের মাটিতেই গরু খোঁজার আনন্দ নেবে। হয়তো বিদেশ থেকেও কেউ আসবে আমাদের থেকে গরু খোঁজার আনন্দ নিতে।

এদেশের সুযোগ্য সন্তান ড. জামাল নজরুল ইসলাম স্যার, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, কাজী মোতাহার হোসেনসহ আরও অনেকে করেছিলেন বিশ্বমানের গবেষণা (গো+ এষণা= “গরু খোঁজা”)। এই মাটিতে হয়তো আবারও কোনো বোস, মোতাহার, জামাল কিংবা আর বড় কেউ গরু খোঁজার (গবেষণার) জন্য বিশ্বের দরবারে সম্মানিত হবেন। দেশের মেধা-সম্পদকে কাজে লাগিয়ে, দেশের সুনাম অর্জনের জন্য আমার পরিসংখ্যান বিভাগ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সেসব উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম একটা উদ্যোগ ছিল ৫ সেপ্টেম্বরের ফেসবুক লাইভ সেশনটি। 

টপিক ছিলো: “Dream to Destination: Roadmap to Graduate Admission in the USA”. সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমাদের ড. মোঃ এরশাদুল হক স্যার, মোঃ গোলাম রব্বানী স্যার, আহসান রহমান জামী স্যার, বিকাশ পাল স্যার, মাকসুদা আক্তার তমা আপু, সিরাজুম মুনিরা আপু, তাসমিয়াহ্ সাদ সুতপা ম্যাডাম। প্রকৃত অর্থেই আমি তাদের সকলের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞ, এত সুন্দর একটি দিকনির্দেশনামূলক লাইভ সেশন উপহার দেওয়া জন্য।

আমি পুরো সেশনটার একটা সারাংশ নিজের মতো করে উপস্থাপন করছি। সুবিধার জন্য পুরো আলোচনাকে ৫ টি পয়েন্টে ভাগ করে নিচ্ছি। শুরু করি তাহলে-

১। মাস্টার্স করা/না করা:

যদি মাস্টার্স করা যায় বা থিসিস করা যায় এবং সাথে সাথে বাহিরের যাবার সব প্রস্তুতি সমান্তরালে নেওয়া যায়। তবে ভালো। এটা মন্দ না। ডিগ্রিও থাকলো, আর পড়াশুনার কোনো গ্যাপ তৈরি হলো না। যদি থিসিস করাই হয়, তবে থিসিসে বেশি ফোকাস দেওয়া উচিত(হিয়া আপুর মতে)। কেননা, অনেক সময় দেখা যায় এ বছর ফান্ড পেলাম না। তখন মাস্টার্সের ভালো একটা ওয়েট নিয়ে পরের বার আবার আবেদনের সুযোগ থাকে। তাছাড়া, মাস্টার্স করে গেলে ওখানে তুলনা মূলক কম ক্রেডিট (যেমনঃ৫৪) করতে হয়। আর না করে গেলে একটু বেশি (যেমনঃ৭৪) ক্রেডিট করতে হয়। হিয়া আপু যেটা করেছে, শুধু IELTS দিয়ে মাস্টার্সে ফোকাস করছে। যদি মিস হতো, পরের বছর GRE ভালো করে দিয়ে আবার আবেদনের সুযোগ থাকবে, সাথে মাস্টার্সের একটা ডিগ্রিও। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তার প্রথমবারই সুযোগ হয়ে গেছে।

২.ক) আইএলটিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে কিছু পরামর্শ:

প্রথমেই যাঁরা সিনিয়র আছেন এবং আইএলটিএস দিয়েছেন, তাদের সাথে কথা বলে নিলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। প্রস্তুতির মূল বিষয় হলো ইংরেজি ভাষার সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করা। এজন্য নিজের চারপাশে ইংরেজির পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

দৈনিক অনুশীলন: প্রতিদিন অন্তত ৫–১০ মিনিট হলেও ইংরেজিতে কথা বলা, শোনা ও পড়ার অভ্যাস করা জরুরি।

লিসেনিং অনুশীলন: ইউটিউবে বিভিন্ন নেটিভ স্পিকারদের পডকাস্ট শোনা, অথবা নিউজ দেখা অনেক কাজে দেয়।

স্পিকিং অনুশীলন: বিকাশ স্যার একটি দারুণ কৌশল ব্যবহার করতেন—ডিপার্টমেন্ট থেকে বাসায় ফেরার পথে যা দেখতেন, তা ইংরেজিতে বলার চেষ্টা করতেন। কোথাও আটকে গেলে বাসায় এসে ChatGPT ব্যবহার করতেন এবং ভুলগুলো নোট করে রাখতেন। পরে সেই নোটগুলো রিভিশন করতেন।

মূল কথা হলো—নিজেকে সবসময় একটি লার্নিং প্রসেসের ভেতরে রাখতে হবে।

স্কোর: সাধারণভাবে ন্যূনতম ৭.৫ বা ৭ স্কোর প্রয়োজন হয়। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ৬.৫ বা ৬ স্কোরেও ভর্তি নেয়।

বিশেষ করে স্পিকিং স্কোর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

আবার কখনো আইএলটিএস স্কোর কিছুটা কম হলেও যদি ভালো একাডেমিক রেকর্ড, পাবলিকেশন বা রিসার্চ পেপার থাকে, তবে অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি দিয়ে দেয়।

এমনকি কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশে নেওয়ার পর ইংরেজির জন্য আলাদা কোর্সও করিয়ে নেয়।

সময়সীমা ও পরিকল্পনা: সর্বোচ্চ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সব ডকুমেন্ট ও প্রোফাইল প্রস্তুত রাখা উচিত।

আইএলটিএস এবং জিআরই (GRE) অক্টোবরের মধ্যেই শেষ করে ফেলা ভালো।

যেহেতু GRE তুলনামূলক কঠিন, তাই আগে GRE দিয়ে, তারপর আইএলটিএস দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কারো জন্য উল্টো ক্রমও কার্যকর হতে পারে—যার যেভাবে সুবিধা হয়।

২.খ) GRE ও WES সম্পর্কিত কিছু পরামর্শঃ

অনেকে শুধু আইএলটিএস (IELTS) দিয়েই ভর্তি হয়েছেন, তবে যাদের GRE স্কোর ভালো থাকে, তারা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকেন।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় GRE বাধ্যতামূলক করেছে, সেখানে শুধু IELTS দিয়ে ভর্তি সম্ভব নয়।

আবার যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে GRE অপশনাল, সেখানে শুধুমাত্র IELTS স্কোরের ভিত্তিতে আবেদন করা গেলেও, GRE স্কোর থাকা প্রার্থীরা বেশি অগ্রাধিকার পান।

GRE সর্বোচ্চ সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে দিয়ে ফেলা ভালো।

প্রস্তুতি মোটামুটি থাকলেও GRE দিয়ে দেওয়া উচিত।

ন্যূনতম ৩০৫–৩১০ স্কোর থাকলে সেটা সিভি-তে সংযোগ করা উচিত।

যদি খুব খারাপ স্কোর আসে, তবে দেখানোর দরকার নাই।

যারা স্ট্যাটিসটিকস (Statistics) পড়তে চান, তাঁদের জন্য কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ১৬০/১৭০ মার্ক রাখার চেষ্টা করা উচিত।

যারা স্ট্যাটিসটিকসে ভর্তি হবেন, তাদের জন্য GRE অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষ পরামর্শ হলো, GRE ফলাফল ৫ বছর পর্যন্ত ভেলিড থাকে। তাই সম্ভব হলে আগেই প্লান করে একটু একটু করে প্রস্তুতি নিয়ে  যেকোনো বন্ধের মাঝে সুযোগ বুঝে দিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে একাডেমিক চাপও থাকবে না তেমন।

অন্যদিকে যারা বায়োস্ট্যাটিস্টিকসে ভর্তি হবেন, তাঁদের জন্য WES Evaluation Report বিশেষভাবে প্রয়োজন।

WES স্কোর বলতে আসলে WES (World Education Services) এর দেওয়া Credential Evaluation Report বোঝায়। অর্থাৎ WES একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যারা আপনার দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্র/কানাডার সমমানের ডিগ্রি ও GPA স্কোরে রূপান্তর করে। তবে বর্তমানে বায়োস্টাটের থেকে স্টাটে ফান্ড ভালো। স্টাটের জন্য এক্সট্রা WES ও করতে হয় না।

৩। যেগুলো সকলেরর জন্য জরুরী

  •  LOR, SOP, CV, Academic transcript:

লেটার অফ রিকমেন্ডেশন (Letter of Recommendation বা LOR) হলো একটি সুপারিশপত্র, যা সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, অথবা কর্মক্ষেত্রের সুপারভাইজার লিখে দেন। LOR এর মাধ্যমে তারা আমার সম্পর্কে জানতে পারবে, আমি কেমন, দক্ষতা কেমন,একাডেমিক যোগ্যতা কেমন, গবেষণা বা পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ কেমন, অন্যান্য যোগ্যতা কেমন ইত্যাদি।

LOR সাধারনত ২/৩ টি নিতে হয়। এর বেশি দরকার পরে না। যাদের থেকে নিতে পারি:

-প্রজেক্ট সুপারভাইজার (ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্টের স্যার)

-থিসিস সুপারভাইজার।

-এমন কোনো শিক্ষক যিনি আমাকে ভালোভাবে চেনেন এবং আমার শক্ত দিকগুলো তুলে ধরতে পারবেন। কিংবা যেকোনো সিনিয়র শিক্ষকের থেকে।

মনে রাখতে হবে, যাঁরা আমাকে সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন এবং আমার যোগ্যতা সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, তাঁদের কাছ থেকেই LOR নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

  •  SOP, CV:

SOP (Statement of Purpose):

এটা হলো একটি ব্যক্তিগত রচনা, যেখানে লিখতে হয় কেন আমি বিদেশে পড়তে চাই, কেন ওই কোর্স/ইউনিভার্সিটি বেছে নিয়েছি, আমার আগ্রহ, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। SOP থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বোঝে আমি কতটা মোটিভেটেড এবং উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সিনিয়রদের SOP দেখে ধারণা নেওয়া যায়, তবে নিজেরটা ইউনিকভাবে লিখতে হবে।SOP এটা একটা গল্পের মতোও ভাবতে পারে। এখানে আমার যাওয়ার কারন, কোর্স পছন্দ করার কারন, গবেষানর প্রতি আগ্রহ, রেজাল্ট, অতীত চলমান সব রকম কাজকে গল্পে এমন ভাবে ফুটিয়ে তোলা যেন তাদের বুঝাতে সক্ষম হই যে-আমি আসলেই আগ্রহী, আমি যোগ্য। এটা কিন্তু হঠাৎ ২/১ দিনে লিখা যায় না। ভেবে-চিন্তে একটার সাথে আরেকটা রিলেট করে গল্পাকারে লিখতে হয়। তাই হাতে (২/১ মাস) সময়  রেখে একটু আকটু করি লিখা গুছিয়ে নিতে হয়। 

CV:

আর CV তো আমরা বুঝি, আমার যোগ্যতার একরকম তালিকা বলা যায়। আর লিখার পর SOP, CV অবশ্যই স্যারদের দেখানো উচিত। এতে তারা কোনো সংযোজন বা বিয়োজন দরকার পরলে বলে দিতে পারে।

  •  আর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। রেজিস্টার বিল্ডিং এর ৩০৯ নং রুমের সামনে সব নিয়মাবলি দিয়ে দেওয়া আছে। এটা সাধারনত আবেদন করার ১ সপ্তাহের মধ্যেই পাওয়া যায়।

৪। ইউনিভার্সিটি সিলেকশন:

ইউনিভার্সিটি সিলেকশনের সময় দেখতে হবে আমার যে প্রফাইল, তার জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় সুইটেবল। নিজের GRE, IELTS, CV, CG ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে ইউনিভার্সিটির একটা লিস্ট করে নেওয়া যেতে পারে।  যেখানে কিছু থাকবে টপ লেভেলের ইউনিভার্সিটি, কিছু মিডেল, কিছু লো (মানে আমার এডমিশন সিওর করার জন্য সেসব সুবিধা, মানে আমি বুঝতেছি এখানে দিলে চান্স অনেক বেশি।)

U.S. News Ranking দেখে লিস্ট করা যেতে পারে।

(US News Ranking হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিক্ষামূলক আর ranking ব্যবস্থা।)

প্রতিটি প্রগ্রামের জন্য ১ জন প্রগ্রামক ডিরেক্টর থাকে (প্রফেসর লেভেলের)। তাকে জানানোর জন্য একটা মেইল করা যেতে পারে (নিজের প্রফাইল, সিভি…সংযুক্ত করে) যে আমি এই এই প্রগ্রামে আগ্রহী, আমার সুযোগ কেমন? তারা অবশ্যই রিপ্লাই দিবে। সেখান থেকে ধারনা নেওয়া যাবে যে, এখানে আবেদন করা আমার জন্য কতটুকু যৌক্তিক। এতে ভুল জায়গায় আবেদন করে টাকা লস হবার থেকে বাঁচা যাবে।

আগে থেকে একটু খোঁজ খবর নেওয়া। যেখানে আবেদন করবো, সেখানে কোনো সিনিয়র থাকলে যোগাযোগ করে নেওয়া।

আমি যেখানে এডমিশন নিতে যাচ্ছি সেখানের পরিবেশ (গরম, ঠান্ডা, গ্রাম, শহর, জীবনযাত্রা, চুরি/ছিনতাই… ইত্যাদি) কেমন? আমার সাথে কতটুকু যায়? TA/RA সেলারি কেমন? এক্ষেত্রে আমাদের QMH ক্লাব দ্রুতই একটা পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। যেমন: আমরা এই QMH ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এলামনাইদের থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে নির্ভুল তথ্য পেয়ে উপকৃত হতে পারি।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য free Waiver দেয়, তখন আবেদন করলে ফী কম থাকে বা দরকার পরে না, তবে প্রতিযোগীতা বেশি। তাই আগে থেকে একটু খোঁজ খবর রাখা।

৫৷ খরচ (আনুমানিক হিসেব):

এককথায় স্টুডেন্টদের জন্য কমপক্ষে ৫ লাক্ষ টাকা হাতে নিয়ে শুরু করা। তবে সুবিধা হলো-এই খরচ একসাথে দরকার পরে না, ধাপে ধাপে দরকার পরে।

১টা IELTS এ গড়ে ২৫ হাজার GRE তে ২৫। মোট ৫০ হাজার। এখন ১ বার পরীক্ষা দিয়েই যে কেহ যথেস্ট ভালো স্কোর পাবে এমনটা খুব কম হয়। সে হিসেবে ২ বার দিলে মোট ১ লক্ষ টাকা।

প্রতিটি ভার্সিটিতে আবেদনের জন্য গড়ে ১০ হাজার টাকা। ১০ টা আবেদন করলে-১ লক্ষ। 

যত বেশি আবেদন, এডমিশনের চান্স তত বেড়ে যাবে (এটাতে না হলে ওটাতে)।

 ভিসা খরচ মোটামুটি ৬৫ হাজার টাকা।

প্লেনখরচ: আগস্টের আগে আগে কিংবা ছুটি দিনে একটু বেশি খরচ পরে। তাই উইক ডে তে  এবং দ্রুত কেটে নিলে- ১.৫ লক্ষ টাকায় হয়ে যাবে।

২/৩ বছর থাকতে হবে, সে হিসেবে শপিং খরচ-১ লক্ষ টাকা

এই মোটামুটি ৫ লক্ষ টাকা।

এছাড়া প্রথম মাস নিজের খরচে চলতে হবে। সেজন্য ৩ লাখ হাতে রাখতে হবে। 

সবমিলিয়ে কমপক্ষে ৮-১০ লক্ষ টাকা হাতে রাখা নিরাপদ।

তবে মনে রাখতে হবে এটা অনেক বড় একটা বিনিয়োগ। কারন ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে গেলে ১-১.৫ বছরে মধ্যে এই টাকা তুলে ফেলা সম্ভব। কারন মাসে আমাদের খরচের জন্য যে অর্থ দিবে তা দিয়ে (আমাদের লাইফস্টাইল হিসেবে) প্রতি মাসে সব  খরচ মেটানোর পরেও কিছু অংশ বেঁচেও থাকবে।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাপ্লিকেশন ফি মওকুফ (waiver) দেয়। এ ক্ষেত্রে আবেদন করার জন্য আলাদা ফি লাগে না, তবে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

যদি ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, তবে সাধারণত ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখানোর প্রয়োজন হয় না।

তবে কেউ যদি পরিবারসহ যেতে চান, যদি ফান্ডের পরিমান বেশি হয় তবে সমস্যা নাই। আর এক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়। সাধারণত এর পরিমাণ ৬-৮ হাজার ডলার। তবে ব্যাংকে এই টাকা স্থায়ীভাবে রাখতে হবে না—স্টেটমেন্ট দেখানোর পর চাইলে তা তুলে নেওয়া যায়।

★★★আরো কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়:

ক) মিড ক্যারিয়ারে: যারা মিড ক্যারিয়ারে এসে বাহিরে যেতে চান। সেক্ষেত্রে আবেদনের সময় লক্ষ রাখতে হবে বয়সের কোনো সীমা দেওয়া আছে কিনা। এবং এটা দেখাতে হবে যে, আমি এত বছর শুধু শুধু বসে ছিলাম না। পরিসংখ্যান, গবেষণার ইত্যাদি কাজের সাথে যুক্ত ছিলাম। স্যারের মতে, আপনাদের জন্য আমেরিকার থেকে অস্ট্রেলিয়া,ইংল্যান্ড, ইতালি,স্পেন এসব দেশ ভালো। কারন এরা গবেষণাকে বেশি ফোকাস করে। যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে দ্রুত যেতে হবে। দেশের মায়া ত্যাগ করে। এমনটা যেন না হয়, ওখানে কাজের চাপ বেশি হলে দেশে ছুটার পায়তারা করি। বেশি ভালো হয় ২/৩ টা প্রোজজেক্টকে পাবলিকেশনের পর্যায় নিয়ে যাওয়া। তাহলে আমেরিকায় গিয়েই NIW তে আবেদন করা যাবে। ৬ মাসের মধ্যে সিরিয়ল পেয়ে যাওয়া সম্ভব এবং সেখান থেকে ২-৩ বছরের মধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন। গ্রিন কার্ড পাওয়া মানে, আমেরিকার সরকার আপনার জন্য সব রকম সাহায্য করতে রাজি। ইন্টারনেশনাল স্টুডেন্ট হয়ে আমেরিকায় থাকার চেয়ে গ্রিনকার্ড নিয়ে থাকা বেস্ট। কারন নিরাপত্তা, চাকরি বাকরি সব দিক থেকে সুবিধা থাকবে। মনে রাখতে হবে, যারা পড়াশুনা করা অবস্থায় যায় তাদের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ। যারা একটু গ্যাপ নিয়ে যায়, তাদের জন্য একটু কষ্টকর হয়ে পরে। কারন ওখানে গিয়েও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, পড়াশুনা করতে হয়। তবে পরিসংখ্যান থেকে কেহ চেষ্টা করেছে কিন্তু যেতে পারে নি, এমন সংখ্যা নাই বললেই চলে। স্যারের জানা মতে এমন একজনও নাই।

খ) সিজি: সিজি ৩ এর নিচেও অনেক আছে। যারা বাহিরে ভালো জায়গায় আছে। সিজি/ রেজাল্টের থেকে GRE,ILTS এসব বেশি জরুরী। যদি কয়েকটা ভালো পেপার থাকে তবে তো সোনায় সোহাগা। 

গ) পেপার: থার্ড ইয়ারে কিছু মাথায় আসলে সেটা পরিচিত কোর্স টিচারের সাথে শেয়ারর করে পেপারের দিকে আগানো যেতে পারে। তাছাড়া ফোর্থ ইয়ারের প্রজেক্ট বা মাস্টার্সে থিসিসকে ভালো একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া (পেপার পাবলিশ করার জন্য)। মূলত ১ টা ভালো পেপার পাবলিশ করতে সাধারনত ৮মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যায়। একেকটা পেপার একেকটা সার্টিফিকেটের মতো কাজ করে।

ঘ) মেয়েদের সুযোগ-সুবিধা:

 তমা আপুর মতে, “মেয়েরা বাংলাদেশের থেকে আমেরিকায় বেশি নিরাপদ। সম্মানও বেশি। দেশে যেমন বাসে,রাস্তায় অনেকে খারাপ ভাবে তাকায়/সম্মান দেয় না। আমেরিকাতে সেটা নাই। চুরি-ছিনতাইয়ের ছোটখাটো যে সমস্যা। সেগুলো ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই সমান। মেয়ে বলে সমস্যা হবে এমনটা না।  কারো পার্টনার আগে চলে গেছে, সে চাইলেও যেতে পারে। বা এখন দুজন একত্রে যেতে চায়, তাও সম্ভব। বা নিজে একা স্বাধীন ভাবে যেতে চায় তাও সম্ভব। ওখানে নিজের সব কাজ (রান্না-বান্না..) নিজেকেই করে নিতে হয়।”

এই ছিলো, পুরো সারাংশ। নিজের মতো করে লিখার চেষ্টা করেছি।

জানি না, ছোট বেলার মতো ফের গরু খোঁজার আনন্দ নিতে পারব কি না। যদি পারি, তবে সত্যিই নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করব। এটা শুধু আনন্দ নয়, এটা আমার স্বপ্ন। কিন্তু যখনই ইসরায়েলি পশুগুলো (আমেরিকার অস্ত্র ব্যবহার করে) আমার ফিলিস্তিনের নিরীহ ভাইদের দেহকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, গর্ভবতী মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীর আলো-বাতাস না দেখা ফুলটির মাথা আলাদা করে ফেলা হয়, তখন মনে হয়—আমার স্বপ্ন আর আমার বিবেক নামক দুই হিমালয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আমার আপন সত্তা আমাকে ছোটবেলার সেই বাণীটি শোনাচ্ছে—

“দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।”

[ শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ:

ডক্টর মুহম্মদ এরশাদুল হক স্যার,

মো: গোলাম রব্বানী স্যার,

আহসান রহমান জামী স্যার,

বিকাশ পাল স্যার,

তাসমিয়াহ্ সাদ সুতপা ম্যাডাম ]

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp