সেপ্টেম্বর 9, 2026

উপসম্পাদকীয় – নভেম্বর ২০২৫

আমাদের রাজনীতিতে এখন ‘পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস’ নামের যে অদৃশ্য দেয়াল, তা এতই দুর্ভেদ্য যে সেখানে কোনো সংলাপ বা ঐকমত্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। এক পক্ষ মনে করে প্রতিপক্ষের সম্পূর্ণ বিলুপ্তিই তার বিজয় নিশ্চিত করবে। এই ‘শূন্য-যোগফল’ খেলার (Zero-Sum Game) মানসিকতা যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে দেয়।

ইতিমধ্যেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিভিন্ন পক্ষগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে ক্ষমতা অর্জনের নিবিড় লড়াই। চলছে নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা। ফলশ্রুতিতে সেই পুরোনো ধাঁচেই যানবাহনের উপর অগ্নিসংযোগ। বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক জব্দের মতো ঘটনা। যেখানে মুখ্য হয়ে থাকে গদির লড়াই আর গৌণ হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন, আর্থিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের উন্নয়ন।

অথচ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তুমি জিতলে আমি নির্বাসনে- এহেন সংস্কৃতি থাকার কথা ছিল না। ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে নিয়ে উন্নয়নের নামে নিজের আখের গোছানোর কথা ছিলো না। প্রশাসন, পুলিশ এমনকি বিচারব্যবস্থাকেও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার কথাও ছিলো না। যে কারণে এদেশের গণতন্ত্র কখনো মুক্তি পায় নি। যে মানসিকতার কারণেই ক্ষমতার বদল হলেই বদলে গিয়েছে আমাদের রাষ্ট্রনায়ক ও তার ভূমিকা।

যদি আগামী নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায় এবং এই সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ উভয়ই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ব্যর্থ হবে জুলাই-গণ অভ্যুত্থানের রক্তক্ষয়ী অর্জন। সরকারের উচিত দ্রুত এই রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের লাগাম টেনে ধরে, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া।

​অন্যথায় শূন্যের বৃত্তে চিরতরে হারাবে দেশের স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও মুক্তি।

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৬-২০১৭

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ