সেপ্টেম্বর 23, 2026

ডিসেম্বরের শীতল বাতাসে যখন প্রকৃতি পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নতুন বছরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন স্বভাবতই মন ফিরে তাকায় ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে। ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে বিদায় নিচ্ছে ২০২৫। আরেকটি বছরের শেষ। ক্যালেন্ডারের পাতায় যতই সংখ্যার বদল আসুক, প্রতিটি ডিসেম্বরে ফিরে তাকালে আমরা আসলে নিজেদের পথচলাই দেখতে পাই কখনো আলো, কখনো অন্ধকার, কখনো প্রাপ্তির ঝিলিক, কখনো অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস।

২০২৫-ও তার ব্যতিক্রম নয়।

এই বছর পৃথিবী যেন আবারও আমাদের শিখিয়ে দিল পরিবর্তনের অনিবার্যতা— যেমন: প্রযুক্তির দ্রুত উত্থান, পরিবেশের নীরব আর্তনাদ, যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া, আর মানুষের ভিতরকার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভয়। একই সঙ্গে ছিল জন্মানো নতুন আশার বীজ; গবেষণায় সাফল্য, তরুণদের নতুন স্বপ্ন দেখা, সাহিত্য-সংস্কৃতির উত্থান, আর ছোট ছোট মানবিকতার গল্প। ২০২৫-কে যদি একটি একক শব্দের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করতে বলা হয়, তবে তা হবে ‘দ্বিধা-দ্বন্দ্ব’।

আমাদের ব্যক্তিগত জীবনও এই বছরের মতোই-কখনো ছুটে চলা, কখনো থেমে দাঁড়ানো। কেউ শিক্ষাজীবন শেষ করেছে, কেউ নতুন পথে হাঁটা শুরু করেছে, কেউ হারিয়েছে কাছের মানুষ, কেউ আবার নতুন মানুষকে জীবনে স্বাগত জানিয়েছে। এক বছরে এতসব বদলে যায়, এটাই সময়ের সৌন্দর্য এবং নির্মমতা।

ডিসেম্বরের নরম হাওয়া তাই শুধু শীতই আনে না, আনে চিন্তার মুহূর্ত।

আমরা কি এতদিন যা করেছি, তার সবটুকুই যথাযথ ছিল?

যে স্বপ্নগুলো বছরের শুরুতে লিখে রেখেছিলাম, তার কতগুলো পূরণ হলো?আর যত অপূর্ণতা রয়ে গেল, তার দায় কি শুধু সময়ের, নাকি আমাদের নিজেদেরও?

২০২৫ আমাদের ফিরিয়ে দিল একটি সহজ শিক্ষা-জীবন সবসময় সামনে এগিয়ে যায়। ২০২৬-এর দুয়ারে দাঁড়িয়ে তাই একটাই প্রার্থনা-

মানুষের মধ্যে যেন সংহতি বাড়ে, সংঘাত কমে; আমাদের মন যেন বড় হয়, স্বপ্ন যেন উঁচু হয়; আর আমরা যেন এই পৃথিবীকে সকলের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে পারি।

শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন: ২০১৯-২০

Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp

আরও লেখা সমূহ