সেপ্টেম্বর 23, 2026

হিমেল হাওয়ার ছোয়াঁয় গুচ্ছ গ্রামের মানুষের নীরব আর্তি

শীত কখনো কারো কাছে আশীর্বাদ, আবার কারো কাছে হাহাকার। গুচ্ছ গ্রামে শীতের আরও করুণ রূপ দেখা যায়। কনকনে হিমেল হাওয়ায় কাঁপতে থাকা গ্রামগুলোতে কোনো পরিকল্পিত ঘরবাড়ি নেই, নেই সুরক্ষার ব্যবস্থা। ঘরের চাল যেন ভেঙে পড়তে বসেছে। শীত যেন ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে অনায়াসে ঘরে ঢুকে পড়ে। সেই ক্লান্ত, দুঃখী মুখগুলো যেন একটু উষ্ণতার স্পর্শ চায়। নেই সবার সুন্দর ঘর, কম্বল ও কাঁথা; আছে শুধু বেঁচে থাকার আকুতি আর সংগ্রাম। শীতের রাতে শিশুরা কাঁপতে কাঁপতে বড়দের কোলে এসে লুকায়। বৃদ্ধরা শীতের দংশনে ঘুমাতে না পেরে রাতভর জেগে থাকে, রাতশেষের প্রহর গুনে। অনেকের নেই কাঠ বা খরকুটো জ্বালানোর সামর্থ্য। শীত যেন তাদের জীবনে ভবিষ্যতের জমে থাকা অভাবের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

তাদের মনে প্রশ্ন জাগে– এত মানুষ আসে, ভিডিও করে, রিপোর্ট লিখে; কিন্তু আমাদের জন্য কী বদলায়? সরকার কি সত্যিই আমাদের কথা শুনছে? আমরা কি সাহায্য পাবো? খাবার যখন নেই, তখন শিক্ষা কোথায়? মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কী– তা জানারও সুযোগ নেই।

এগুলো কেবল অভিযোগ বা আবেগ নয়; এগুলো বেঁচে থাকার যন্ত্রণাদায়ক আকুতি। তাদের ব্যথা যেন শীতের কনকনে ব্যথার থেকেও গভীর ও তীব্র। তাদের শীত যেন হাড়ে নয়, হৃদয়ে গেঁথে আছে। আহ, তাদের কী অদৃশ্য আকুতি– যার শেষ নেই। 

তবে এই কষ্টের মাঝেও কিছু আলোর ঝলক দেখা যায়, বসন্তের ফুলের গন্ধের মতো। স্থানীয় কিছু মানুষ, তরুণ-স্বেচ্ছাসেবীরা মাঝে মাঝে কম্বল বিতরণ করে, শিশুদের জন্য গরম কাপড় নিয়ে আসে। তাদের এই ক্ষুদ্র সহযোগিতা তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জাগায়। 

সমাধান কেবল সহানুভূতি নয়; তাদের প্রয়োজন পরিকল্পিত ঘর, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা। তাহলে বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত হবে। একটি জাতি তার অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীকে উপরে তুলতে ব্যর্থ হলে সে জাতি কখনো সত্যিকারের উন্নতি করতে পারে না।

শীত সবার জন্য সুখ নিয়ে আসে না– গুচ্ছ গ্রাম তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত। যদি আমরা সবাই একসাথে হাত বাড়িয়ে দেই, তাহলে হয়তো এই আর্তনাদ শীতের দংশন হয়ে না থেকে, বসন্তের ফুলের মতো ফুটে উঠবে।

শিক্ষার্থী | ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Facebook
Threads
LinkedIn
Telegram
X
Reddit
Email
WhatsApp