ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে যুক্ত হলো ইতিহাসের এক গর্বিত অধ্যায়। শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভাগের নবনির্মিত এক্সটেনশন পার্টের উদ্বোধনের মাধ্যমে পরিসংখ্যান বিভাগে সূচিত হলো অগ্রযাত্রার এক নতুন দিগন্ত। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ বর্ধিতাংশটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়— এটি বিভাগ ও অ্যালামনাইদের মধ্যকার গভীর বন্ধন, দায়বদ্ধতা এবং গর্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
এই উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক মর্যাদাপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজনে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত, সুশৃঙ্খল এবং অর্থবহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান , বিজ্ঞান অনুষদের সম্মানিত ডিন মহোদয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ও বিভাগের প্রাণপ্রিয় শিক্ষক লুৎফর রহমান স্যার, বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান, ড. জাফর আহমেদ খান স্যার এবং বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা একসাথে নবনির্মিত এক্সটেনশন পার্টটির উদ্বোধন করেন। এই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ পুরো মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর এবং গর্বোজ্জ্বল আবহ তৈরি করে, যা অনুষ্ঠানের সেরা মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকে।
উদ্বোধনের পর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানান, যা অনুষ্ঠানকে করে তোলে উষ্ণ ও মার্জিত।
অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক এবং বর্ধিতাংশের নির্মাণকাজ তদারকি কমিটির কনভেনর সায়েমা শারমিন ম্যাডাম। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা, দক্ষ নেতৃত্ব, আন্তরিক সমন্বয় ও নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই স্বপ্নের প্রকল্পটি বাস্তব রূপ লাভ করে। বক্তব্যে তিনি বর্ধিতাংশটির নির্মাণের পেছনের ভাবনা, অ্যালামনাইদের সহযোগিতা এবং বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া সংক্ষেপে তুলে ধরেন।
এরপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান । তিনি অ্যালামনাইদের নিজস্ব অর্থায়নে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই এক্সটেনশনটি পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
এরপর শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে দেশাত্মবোধক গান। সেই সুরে মিলেমিশে যায় গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও ঐক্যের অনুভব, যা পুরো অনুষ্ঠানে যোগ করে এক অনন্য আবেশ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. বশিরুদ্দিন আহমেদের বক্তব্য। তিনি এক্সটেনশন পার্টের একটি সম্পূর্ণ কক্ষের যাবতীয় নির্মাণ ব্যয় বহন করে অ্যালামনাইদের দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বক্তব্যে তিনি এই উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে বিভাগের আরও উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এরপর বক্তব্য প্রদান করেন ড. আহমেদ মোশতাক রাজা চৌধুরী। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের একাডেমিক গুরুত্ব ও গবেষণায় অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, আধুনিক ও উন্নত অবকাঠামোই মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম ভিত্তি।
বক্তব্য রাখেন এ বিভাগেরই প্রাক্তন চেয়ারম্যান শাহাদাৎ আলী মল্লিক স্যার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে এই বহুল প্রতিক্ষীত এক্সটেনশনটির। কীভাবে সময়ের পরিক্রমায়, শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে প্রয়োজনীয় এক চাহিদা হয়ে উঠেছিল এই এক্সটেনশন তা উঠে আসে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-উপাচার্য এবং পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাণপ্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্যার। তিনি এক্সটেনশনটি নির্মাণের পথে অতিক্রান্ত বিভিন্ন বাধা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ঐতিহ্য, অবদান ও সুনামের কথা উল্লেখ করে অ্যালামনাইদের এই উদ্যোগকে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সবশেষে সমাপনী বক্তব্যে পরিসংখ্যান বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জাফর আহমেদ খান স্যার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে সায়েমা শারমিন ম্যাডামের উদ্যোগ ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ ও নিষ্ঠার ফলে পুরো আয়োজনটি আরও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠেছে— বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এ আশা ব্যক্ত করেন যে, এই এক্সটেনশন পার্টটি ভবিষ্যতে বিভাগের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলবে। চেয়ারম্যান স্যারের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলতার সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।
প্রতিবেদক
সুমাইয়া জাহান (সেশন: ২০২৩-২৪)





