মিস্টার বেকার আজ ভাইবা দিবেন। “মিস্টার বেকার” নামটা তার বাবা মায়ের রাখা নাম না। মানুষের কিছু আলাদা নাম থাকে যেগুলো আকিকা দিয়ে রাখা হয় না। “মিস্টার বেকার” নামটাও ঠিক তেমন। এই নামটা তার নিজেরই দেয়া। এ যাবৎ মোট ৯৯টি ভাইবায় অংশ নিয়ে কোনো চাকরির চিঠির দেখা না পেয়ে, নিজেই নিজের এমন নাম ঠিক করলেন। আজকেরটা হবে তার জীবনের ১০০তম ভাইবা। এতগুলো ভাইবায় অংশগ্রহন নেবার পরে তার মতামত হলো, “ভাইবার প্রশ্নগুলো খুবই উদ্ভট। আর যারা ভাইবা নেন, তারা একরকম ছোটখাটো জোকার।”
মিস্টার বেকার প্রতিজ্ঞা করেছেন আজকেই শেষ। যদি চাকরি হয়, তো হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি একটা বই লিখবেন। বইয়ের নাম দিবেন “100 Vivas”। তার বিশ্বাস, বইটা দেশের বাজারে ভালোই হিট হবে।
ভাইবা শুরু হলো। মিস্টার বেকারকে প্রশ্ন করা হলো, “আচ্ছা, বলেন তো, পরিসংখ্যান কলা নাকি বিজ্ঞান?”
ডাটা সাইন্সের যুগে এসে ভাইবাতে এমন প্রশ্ন শুনে মিস্টার বেকার আবারও হতাশ। তবুও শেষ ভাইবা। তাই নিজেকে শান্ত রাখলেন।
মিস্টার বেকার : স্যার, পরিসংখ্যান হলো বিজ্ঞানের বিজ্ঞান।
এটা শুনেই সকলে থ’ হয়ে গেলেন। তারা আশা করছিলেন সহজে উত্তর দিবেন, পরিসংখ্যান হলো কলা। কিন্তু এ কি বললো! কলা তো বহুদূর, বিজ্ঞানও না, বিজ্ঞানের বিজ্ঞান! মিস্টার জোকারদের হাবভাব দেখে মিস্টার বেকার নিজে থেকেই শুরু করলেন। আজ শেষ ভাইবা, তাকে বলে যেতেই হবে।
“জ্বী স্যার, এটা এক বিষ্ময়কর সত্য। ব্যাপারটা বুঝতে হলে আমাদেরকে তিনটা বিষয় ভালোভাবে বুঝতে হবে। এক. পরিসংখ্যান, দুই. কলা, তিন. বিজ্ঞান।
স্যার, পরিসংখ্যানকে একটু ভেঙ্গে লিখলে দাঁড়ায়, পরি+সংখ্যান। “পরি” মানে চারদিক (এখানে অর্থ বিস্তারিত ভাবে)। আর “সংখ্যান” দিয়ে সংখ্যা বা গণনা বোঝায়। তার মানে পরিসংখ্যান অর্থ দাঁড়ায় বিস্তারিত ভাবে গণনা করা। কিন্তু কলা হলো মানুষের আবেগ-অনুভূতি এবং সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ।
অপরদিকে বিজ্ঞান হলো এমন বিশেষ জ্ঞান যা প্রকৃতির সত্যকে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভাবন করার চেষ্টা করে। আর পরিসংখ্যান কী করে? পরিসংখ্যান যেকোনো ঘটনা বা তথ্যকে প্রথমে সংখ্যায় রূপান্তর করে। তারপর সেটার ভিতর লুকানো সত্যকে বের করে আনার চেষ্টা করে। যেটা বিজ্ঞানের প্রধান কাজ।”
মিস্টার বেকারকে পাল্টা প্রশ্ন করা হলো, “তাহলে বিজ্ঞান বলা যেতে পারে, কিন্তু আপনি তো বলেছেন বিজ্ঞানের বিজ্ঞান…।”
—“স্যার ধরেন, পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞান নতুন কিছু একটা বের করলো বা নতুন কোনো তথ্য দিলো! পরিসংখ্যান কী করে? পরিসংখ্যান বের করে এই প্রদত্ত বিজ্ঞানের ভিতর কতটুকু সত্যতা আছে। মানে বিজ্ঞান যেটা বলতেছে সেটা বাস্তবতার সাথে কতটা ভালোভাবে ফিট করে। মানে পরিসংখ্যান বিজ্ঞানকেও পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করে এবং এর সত্যতা যাচাই করে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান হলো বিজ্ঞানের বিজ্ঞান।”
— “বুঝেছি আপনি পরিসংখ্যানকে কলা বলতে অস্বীকার করেন। সমস্যা নাই করতেই পারেন। কিন্তু তাই বলে বিজ্ঞানকেও ছাড়িয়ে যাবেন, এটা তো হতে পারে না,তাই না? আপনি চাইলে বড়জোড় বিজ্ঞান পর্যন্ত প্রমাণ করেন।”
— “ স্যার এটা তো অতিসহজ।”
— “কিভাবে?”
— “ স্যার ধরেন, পৃথিবীর বাইরে এমন একটা গ্রহ আছে। যেখানে এলিয়েনদের শুধু বাবাই থাকে, মা থাকে না।”
ভাইবা বোর্ডের তিনজনই বেশ অবাক হয়ে বললেন, “মা থাকে না!”। “এলিয়েন তো, ধরেন থাকে না।”
— “আচ্ছা ধরে নিলাম যে, ঐ গ্রহে মা ছাড়াই সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু তারপর?”
— “এখন কোনো শিশু এলিয়েনের বাবা যদি “পাল” বংশের হয় তবে শিশুটার বংশও তো “পাল” হওয়ার কথা, তাই না স্যার?”
— হ্যাঁ। “পাল”- ই তো হবার কথা।
হ্যাঁ উত্তর শুনেই স্যারদের মুখ থেকে কথা টেনে নিয়ে মিস্টার বেকার শুরু করলেন।
— “ এক্সাক্টলি স্যার। তাহলে দেখেন পরিসংখ্যানের জনক কে? আর. এ. ফিশার। ফিশার সাহেব কাজ করতেন কী নিয়ে? বংশগতি বা প্রজননবিজ্ঞান নিয়ে। তারমানে কি দাঁড়ালো? মানে ফিশার সাহেব বিজ্ঞানের লোক। আর বাবা যেহেতু বিজ্ঞানের আপনার উত্তর মতে সন্তানও বিজ্ঞানের। অর্থাৎ, পরিসংখ্যানও বিজ্ঞান। প্রমানিত, স্যার!”
— “ধন্যবাদ। আপনি এখন আসতে পারেন।”
মিস্টার বেকার ধরেই নিলেন, চাকরিটা তার হবে না। তাই বের হতে হতে বললেন, “আচ্ছা স্যার, আপনারা যদি নরমাল ডিসট্রিবিউশনের ডেনসিটি ফাংশন থেকে এর মিন যে মিউ সেটা প্রমান করতে পারেন, তবে আমি মেনে নিবো পরিসংখ্যান আসলেই কলা।”
এরকম একটা ভাইবা দেবার পর যে কারো মন খারাপ থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু মন হলো তরঙ্গ, দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না। তবে এর অবস্থা বুঝা যায়। মন ভালো বা খারাপ থাকলে পজেটিভ বা নেগেটিভ তরঙ্গটা সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পরে। আর সেটা মানুষের চোখে মুখে ভেসে উঠে। সেটা দেখে মনের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। কিন্তু মিস্টার বেকারের চেহারায় তেমন কিছুর লক্ষণ নাই। সে স্বাভাবিক গতিতেই হাঁটছে। রিক্সা নেওয়ার টাকা নাই। আর বাসেও যাওয়া যাবে না। বাসে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অক্সিজেনের পরিমান অনেক কম। হাঁটাই বেস্ট অপশন। হাঁটতে হাঁটতে ভাবতে লাগলেন,
শেষ সুযোগটাও হাত ছাড়া হলো। চাকরি আমার কপালে নাই, আগেই জানতাম। কিন্তু পরিসংখ্যান কি আসলেই কলা? নাকি বিজ্ঞান? না না পরিসংখ্যান কলা হতেই পারে না। পরিসংখ্যান যে আসলে কি সেটা নির্ভর করে আমার চাকরি পাওয়া না পাওয়ার উপর। যদি কোনো মতে এই চাকরিটা হয়ে যায়, তবে পরিসংখ্যান হলো “বিজ্ঞান”। আর যদি চাকরিটা না হয়, তবে পরিসংখ্যান বিজ্ঞানও না কলাও না, ডিরেক্ট “বাঁশ”!
- মো: আব্বাস উদ্দিনhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 13, 2022
- মো: আব্বাস উদ্দিনhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 10, 2022
- মো: আব্বাস উদ্দিনhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 8, 2022
- মো: আব্বাস উদ্দিনhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি 9, 2023
- মো: আব্বাস উদ্দিনhttps://www.thepapyrus.org/author/%e0%a6%ae%e0%a7%8b-%e0%a6%86%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8/বৃহস্পতিবার, মার্চ 9, 2023












