খোলসে বন্দী

বরং শামুকের খোলসে আটকে থেকেও দম-বন্ধ লাগেনি।
খোলস ভেঙ্গে মুক্ত হবার পরেই মনে হয়েছে-
আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ইনহেলার লাগবে।
আসেনি কেউ মুঠো ভরে মুক্ত বাতাস নিয়ে।
হয়তো, আমি চাইনি দেখেই কেউ এগিয়ে আসেনি।
এতে আমি দোষ দেইনা কারো…
তবে আমারও তো শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণা হয়,
বাকরুদ্ধতার অসংলগ্নতায় ছেয়ে যায় পুরোটা মগজ।

ছাইপাঁশ কিছু কবিতা অথবা অকবিতা লিখে হতাশা ঝেড়েছি বটে
তবে কেউ পড়ে মূল্য দেবে তার, এসে জিগ্যেস করবে-
এটা এমন অর্থহীন কেন, ওটা অমন দুর্বোধ্য কেন;
প্রশ্ন করে জ্বালিয়ে মারবে, মিস্ট্রি-হিস্ট্রির বই ভাঁজবে;
এমনটাও তো আশা করিনি, এমনকি করিও না।
তারপরও মাঝেমধ্যেই মনে হয়, হেঁটে যাই কারো সাথে
দিক্বিদিক শামুক গতিতে, প্রেমের খোলসে মন্থর সময়ে
প্রশ্নোত্তরহীন সময়ের অলস এবং মিষ্টি এক কথোপকথনে।

প্রেমের কবিতা লিখতে না জানলে লোকে তাকে কবি বলেনা
এমনকি প্রেমিকও বলেনা, হয়তো এটাও একটা কারণ-
অকবি এবং অপ্রেমিকরূপে কয়েকটা আধাখেঁচড়া জীবন কাটানোর।
তবে প্রেম, বিদ্রোহ এবং পিএইচডি শুরু করতে দেরি বলে কিছু নেই।
শুরু করলেই শুরু হয়ে যায়, এমনটাই শুনে আসছি প্রবীণদের মুখে।
তাই চিন্তা করেছি, গোলাপ, চকোলেট, চুম্বনের দিনগুলো যাচ্ছে যাক,
এসবের তোয়াক্কা না করে এবারে উদ্ভ্রান্তের মত রাস্তায় বেরবো বরং,
কবিতার বইয়ের মতো শহরের যে বাড়িটার সামনে বাগানবিলাস চমকাবে
তার সামনে গিয়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মত ডাক দিয়ে বসবো-
“অবনী বাড়ি আছো?”

কমেন্ট করুন

সাকিব ইবনে সালাম

সেশন - ২০১১ - ২০১২

0