উপলব্ধি

আজকের সন্ধ্যাটা মনে হচ্ছে
অনেক কালের পুরানো হিসাব মিলাতে নেমেছে।
বিদ্যুতের বিচ্ছেদে নিশ্ছিদ্র কালো চাদর দিয়ে
কে যেন মুড়ে দিয়েছে বিস্তীর্ন জনপদকে।
পথিকহীন পিচ ঢালা রাস্তাটাও
জনশূন্য নিশুতি রাতের অপেক্ষায় বসে আছে।
দু’ধারের লম্বা গাছগুলো অন্ধকার রাস্তায়
নিশ্চুপ প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
তবে ওদের দৃষ্টিতে কাকে ধরে আছে
সেটা এই কালো চাদর ভেদ করে বোঝা মুশকিল।
ঝিঁঝিগুলোর কাছে এটা হয়ত একটা আরব্য রজনীর মতোই আকাঙ্খিত সময়।
নিরবতার পর্দাকে ছেদ করে ওদের তোপধ্বনি
চারদিকে প্রকম্পিত হচ্ছে তীক্ষ্ণতার সাথেই।
আর এই মুহূর্তে নিশ্চুপ এই জনপদে
ওদের এই শব্দই প্রানের স্পন্দনকে ধরে রেখেছে।
কালো চাদরের বুক চিরে তারা গুলো লুকোচুরি খেলছে।
তবে এদের সংখ্যা অগনিত নয় বরং হাতেই গোনা যায়।
সেগুলোও হয়তো একটুপর হারিয়ে যাবে
রাতের আকাশকে নিঃসঙ্গ করে।
এই অন্ধকার রজনী তখন ব্যাতিব্যস্ত হয়ে আস্ফালন তুলবে
দীর্ঘ রজনীর যবনিকাপাতের দিক চেয়ে।
এই রাত গুলো পথিককে পুরানো পথের কথা মনে করায়
পুরাতনের নিংড়ানো রসের স্রোতধারায়,
আলো পৌছানোর সাথেই যার অন্ত মিলবে।
সব অন্ধকারই কালো নয়!
বরং এমন কিছু অন্ধকার ফ্
লাডলাইট এর আলোক তীব্রতাকেও কুপোকাত করে
জিইয়ে থাকে অস্তিত্বের অনাদি কালে
আর ভেসে চলে আগত দিনের সমান্তরালে ; অন্তরালে।

কমেন্ট করুন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.