একটি গাছের আত্মপীড়ন

আমি থাকি হ্যাম্পশায়ারে। দ্বিপদ প্রাণীগুলো আমাকে “ওক” বলেই ডাকে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠাও এই বরফ আচ্ছাদিত এলাকায়। দ্বিপদ প্রাণীগুলো এগুলোকে আদর করে “আইস” বলে ডাকে। কিন্তু আমার কাছে এটা তীব্র বেদনার বেপার। সূর্যের বাড়ি থেকে এটা অনবরত রাত নেই, দিন নেই পড়তেই থাকে। আর আবৃত করে রাখে আমার রান্নাঘর। সূর্য থেকে বছরে যে কয়েকটা মাস কাঁচামাল পাই তাও বিঘ্নিত হয় ওর কারণে। কথা বলতে পারি না তাই রাগ হয় প্রচুর। ওরা যে বলতে পারে তাও ঠিক নয়। আমরা সমগোত্র। বধির! শুধুমাত্র ঐ দ্বিপদীগুলোই ওদের গর্ত থেকে অনর্গল কী যে শব্দ করে। অনেক সময় শব্দের সাথে ওদের সামনে সুন্দর দুইটা ছোট গর্ত থেকে জলও বের হয়। তখন ওদের দেখলে খুবই অসহায় মনে হয়। সে যাইহোক, আমার জন্মের ১/২ বছর পর ঐ দ্বিপদ প্রাণীদের একজন আমাকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যায়, অনেক কেদে কেঁদে অনুরোধ করেছি। শোনে নি ঐ জন্তুগুলো। ওরা আমাকে একটা ছোট পাত্রে আটকে রাখে। যখন নিয়ে যাচ্ছিল তখন শুধু তাকিয়ে ছিলাম নিজের আত্মীয় স্বজনদের দিকে। অসহায় তাই কিছু করতে পারিনি তাকিয়ে থাকা ছাড়া। যাইহোক সেখান থেকে দেখলাম একটা দ্বিপদ কিছু ছোট কাগজ ওর কাছে দিল, অমনি দেখি ও আমাকে নতুন দ্বিপদ প্রাণীটার হাতে তুলে দিলো! কী অদ্ভুত! ওরা কাগজের বিনিময়ে জীবন কেনা নেয়া করে! যাইহোক, এভাবে ধীরে ধীরে আমার শেষ পরিণতি হয় একটা কাচের বাক্সে! এসে দেখি ইতিমধ্যে আমার অনেক সমজাতীয় এখানে আছে। নতুন পরিবেশ। আইস আর আমার কাছে আসতে পারে না। কোনো চঞ্চুওয়ালা প্রাণীও আমাকে ঠুকরিয়ে কষ্ট দেয় না। ভালোই চলছিল তবে মুক্ত হাওয়া আর চারপাশটা থেকে যেন আমাদের নতুন পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে। কিছু দিন যেতে বুঝতে পারলাম এখানে গরম খুব বেশি আর ঠান্ডা বাতাসও নেই। তাই খুব কষ্ট হতো। একসময় সব মানিয়ে নিলাম। দিন কাটছে আর দেখছি ঔ দ্বিপদ প্রাণীগুলোর পৈশাচিকতা। আমার  অঙ্গচ্ছেদ করছে যখনি একটু বড় হচ্ছি। খুব ব্যথা পাই সেটা আমি বোঝাতে পারি না। আর ওদের তো আবার রক্তের রং লাল না হলে চোখেই পড়েনা। এরাই নাকি শ্রেষ্ঠ!

কমেন্ট করুন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট

0