ফিলিস্তিনের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব

পৃথিবীতে এত ভূখণ্ড থাকতে ফিলিস্তিন নিয়ে কেন এত লড়াই? কেন জায়নবাদীরা এখানেই তাদের ইহুদিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য খড়গহস্ত। যেখানে বেলফোরর ঘোষণার সময়ও ফিলিস্তিনের মোট জনসংখ্যার ৯২% মুসলমান ও মাত্র ৮% (৫% অবৈধ) ইহুদি ছিলো? এ লড়াই কি শুধুই ধর্মীয় কারণে? নাকি এর পেছনে কোন ভূ রাজনৈতিক কারণ নিহিত?

এ আলোচনায় যাবার আগে আমি ভূ রাজনীতি বলতে কী বোঝায় তা সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

ভূ-রাজনীতি হচ্ছে স্থান(ভূখণ্ড) ও রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী বিজ্ঞান। মূলত এটি একটি ভূখন্ডের ইতিহাস,অর্থনীতি,রাজনীতি,ভূগোল,সমাজবিজ্ঞান সবগুলো বিষয়কে একীভূত করে। ভূ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ফিলিস্তিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমি।।

ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণাংশের একটি ভূখণ্ড, যা ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মাঝে অবস্থিত (যেখানে বর্তমান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড অবস্থিত)। লোহিত সাগরও এর খুব কাছাকাছি। ফিলিস্তিন এর চারপাশে আছে মিশর, তুরস্ক, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, সাইপ্রাস এই রাষ্ট্রগুলো। এই ভূখণ্ডটি বিপুল পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ। এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এই তিন মহাদেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে ফিলিস্তিন। এর উত্তরে ইউরোপ, দক্ষিণে আফ্রিকা পূর্বে এশিয়া মহাদেশ। এছাড়াও পশ্চিমে আছে ভূমধ্যসাগর। কাজেই ফিলিস্তিন যদিও এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত, এটি তিনটি মহাদেশের সংযোগস্থল। ফলে সামরিক যোগাযোগের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বরং বিশ্বকে সামরিক নেতৃত্ব দেয়ার জন্য এটি অপরিহার্য ভূমি। পাশাপাশি এটি খনিজ তেলসমৃদ্ধ সুয়েজ উপসাগরের সাথে যুক্ত। ভারত মহাসগর থেকে লোহিত সাগর হয়ে জাহাজগুলো সুয়েজ উপসাগরেরর মাধ্যমেই সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করে। ফলে এই উপসাগরটি সুয়েজ খালের সঙ্গে লোহিত সাগরে প্রবেশের প্রধান ও একমাত্র পথ। ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের যোগাযোগের পথ এটি।

এছাড়াও আমরা জানি এখানে আছে পবিত্র শহর জেরুজালেম। যা ইহুদি,খ্রীস্টান ও মুসলমান তিন ধর্মের লোকের কাছেই পবিত্র বলে বিবেচিত।

তবে (১৯৩৭ সালে মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত ইহুদি কংগ্রেসে কংগ্রেসের সভাপতি নাহুম গোল্ডম্যান বলেন, “ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ইহুদিরা উগান্ডা,মাদাগাস্কার কিংবা অন্য কোন স্থান গ্রহণ করতে পারতো। কিন্তু তারা ফিলিস্তিন ব্যতিত অন্য কোন স্থান কোন মতেই চায় না। ফিলিস্তিন বাইবেলে উল্লেখিত ধর্মীয় তাৎপর্যের জন্য নয়। মরু সাগরের পানি বাষ্পীভবন করে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের ধাতুচূর্ণ পাওয়া যাবে তার জন্য নয়, দুই আমেরিকার মজুদ পেট্রোলিয়াম অপেক্ষা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে বিশগুণ বেশি পেট্রোলিয়াম পাওয়া যাবে তার জন্যও নয়। কিন্তু যেহেতু ফিলিস্তিন ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত তার জন্যই।)তার বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বিশ্বকে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেয়াই ছিলো জায়নবাদীদের ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে মুখ্য উদ্দেশ্য।

১- The Balfour Declaration (বেলফোর প্রতিশ্রুতি) ছিলো ১৯১৭ সালে ব্রিটেন কর্তৃক নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুত ঘোষণা, ইহুদীদের জন্য ইহুদী রাষ্ট্র তৈরির ঘোষণা।

২- বই: ফিলিস্তিন-শতাব্দীর ট্রাজেডী (কাজী আবু মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ)

কমেন্ট করুন
শিক্ষার্থী | পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১৭-১৮

নাজিয়া তাসনিম

সেশনঃ ২০১৭-১৮

0