প্রয়োজনীয় দুঃখবোধ

এখন পর্যন্ত রেইল ভ্রমণ আমার পছন্দের।
সামনে কখনো যদি স্পেস শাটলে চড়ে ভালো লেগে যায়
তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবো।
রেইল ভ্রমণ এইজন্য পছন্দ না যে এটা আরামদায়ক।
বরং, এই রেইল ভ্রমণ আমার কৈশোর থেকে নিত্যদিনের প্রয়োজন ছিল, তাই।
আরামের কথা উঠলেই রেইল ভ্রমণই যে সেরা হবে
এতেও কোনো সন্দেহ নেই।
জনলা দিয়ে স্মিত ঘুরতে থাকা হরাইজন দেখতে দেখতে
ধুমপান আর  কোথাও করা যায় বলেতো জানিনা।
এর থেকে বেশি আরাম আর কীভাবে সম্ভব!

আমার মা আমাকে চলমান জীবনপ্রবাহকে ভালোবাসতে বলেছেন,
তাই অন্য আর দশটা নিত্য জীবনের ঘটনার মতোই আমি রেইল ভ্রমণ পছন্দ করি।
যেভাবে পছন্দ করে আসছি খুব নিয়ম করে জন্ম নেয়া দুঃখবোধকে।

বছর কয়েক আগে গভীর রাতের ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে আবিষ্কার করলাম,
বাঙালি মাত্রই দুঃখবিলাসী।
নিজেকেই যেন সেদিন আবিষ্কার করেছিলাম।
আনন্দ পেয়েছিলাম এই আবিষ্কারে।
যেকোন বিলাসে আনন্দ থাকে।
দুঃখবিলাসে সেটার অনুপস্থিতি থাকলে কথাটার এতো গুরুত্ব আমার কাছে থাকতো না।
যেহেতু দুঃখবিলাসের গুরুত্ব আমার কাছে প্রচণ্ড রকমের বেশি,
সুতরাং আমি দুঃখে আনন্দ পাই।
আমার সবচেয়ে আপন অনুভূতি হলো-
দুঃখবোধ!

যে রমণীর চোখে দুঃখ দেখিনা,
তাদেরকে কীভাবে ভালোবাসতে পারবো
এই শ্বাপদসমাকীর্ণ প্রশ্নের মাঝেই ঘুরপাক খেয়ে যাই অনেকসময়।
তখন চড়ে বসি আমার দুঃখভরা ট্রেইনের বগিতে।
আমার চোখে ট্রেইন কখনই সাপের মতো নয়,
বরং কেঁচোর মতো।
অথবা সারিবদ্ধ পিঁপড়ের দলের মতো।
ধীর গতিতে পিলপিল করে এগিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যের দিকে–
এক বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার হুইসেল বাজিয়ে।

কমেন্ট করুন

সাকিব ইবনে সালাম

সেশন - ২০১১ - ২০১২

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.