জলঙ্গা

রেললাইনের পাশের মাইট্টা রাস্তাডা দিয়া হাঁইটা যাইতে যাইতে বিষ্টি আর ভিজা হাওয়ার ধাক্কায় শিরশিরানি কাঁপন ধরছে জলঙ্গার বার বছর বয়সী শইলডাত। আইজ তিন দিন হয় আসমানে বেলা দ্যাহন যায় নাই। ‘সুরুজ মিয়া’ যে মুখ ঢাকছে কালা মেঘের মইদ্যে হেই মুখ আর বাইর হয়নি এই কয় দিনে। এই কয়দিনের টানা বিষ্টিতে পানি বাইড়া সোহাগীর ঘাটের কিনারায় ছয় লম্বর সিঁড়িডা ছুওনের অবস্থা দাঁড়াইছে। জলঙ্গার দাদায় কইতো, “সোহাগীর ঘাটের চাইর লম্বর সিঁড়ি পানিত ডুবছে মানে হইলো বানে ডাক দিছে।” হেইবার – যেই বৎসর  পয়দা হইছে – সোহাগীর ঘাট নাকি তলায় গেছিলো বানের পানিতে। বানের সময় নাউ-ই আছিলো মাইনষের একমাত্র ভরসা। দাদা মরছে গেলো বৎসরের আগের বৎসর, কিন্তু দাদার দ্যাহায় যাওয়া চাইর লম্বর সিঁড়িডা জলঙ্গার মনের মইদ্যে গাইথা রইছে।

 প্রত্যেক বছরের বিষ্টিতেই ঐ চাইর লম্বর সিঁড়িডা ডুবছে নি দ্যাহে।  ভাইবা রাখছে ওই সিঁড়িডা ডুবছে এইডা দ্যাহনের লগে লগে গেরামে দৌঁড় দিয়া চিক্কুর দিয়া সক্কলরে জানান দিবো – “বান আইতাছে, বান আইতাছে“। এই চিক্কুর দেওন আর জলঙ্গার হইল না। গেলো বৎসর বিষ্টি হয় নাই। হের আগের বৎসর  যেই বৎসর আষাঢ় মাসে সোহাগীর ঘাটে পিছল খাইয়া পইড়া দাদায় মরলো, হেই বৎসর খু-উ-ব বিষ্টী হইছিল; পানি বাইড়া পাঁচ লম্বর সিঁড়িডা ডুইবা বইছিলো। তহন একদিন সোহাগীর ঘাটে খাড়ায়া চাইর লম্বর সিঁড়িডা দ্যাহায় দাদা রে কইলো, “ও দাদা ভাই, দ্যাহতো চাইর লম্বর সিঁড়িডা ডুবছেনি; ডুবলে কইতাম বুঝতে হইবো বান আইতাছে”। হেই বৎসর আকাশ যেন ভাইঙ্গা পড়ছিলো বিষ্টিতে। বিষ্টি কইমা যেই দিন বিয়ানে আসমান এট্টু ফকফকা হইয়া আইছিলো, হেই দিন ফজর ওয়াক্তে  ওজু করতে গিয়া দাদা পিছল খাইয়া পড়লো সোহাগীর ঘাটে। পাশে আছিল মোল্লা বাড়ির ফজলে মুন্সী। দৌঁড়ায় আইসা ধইরা যহন ঘাটের উপর তুলছে তহন দাদায় খালি কইছে, “ও মুন্সী, আসমান ভাইঙ্গা বান নামছে গো!” হের পর আর কুনু কথা নাই; সব শ্যাষ। হের পর থেইক্যা বিষ্টি হইলেই সোহাগীর ঘাটের চাইর লম্বর সিঁড়িডা ডুবছে নি তা দেইখ্যা যায়।

  সোহাগীর ঘাটের চাইর লম্বর সিঁড়ি দেইখ্যা ঘাট  ফালাইয়া হাঁটা দিছে রেল লাইনের লোহার পুলডার দিকে। ঘাটের পাশের হিজল গাছের গোড়া থেইক্যা মাইট্টা রাস্তা গ্যাছে পুলডার এই পাশের মাথা পর্যন্ত। আইজ তিনদিন হয় বিষ্টিত সব ভিজ্যা ত্যানা হইয়া গ্যাছে। এহন বিষ্টি থামলেও হাওয়া দিতাসে জোর। এই বেলা পড়নের আগে দিয়া হাওয়ার জোর বাড়ছে আরো। হাঁটতে গিয়া জলঙ্গার নীল তফন হাওয়ায় ফুইল্যা উঠতাছে, গায়ের পাতলা গেঞ্জিডাও ভিজা। জার করতাছে জবর। তাও রেল লাইনডা ধইরা সোহাগির ঘাট পিছনে ফালায়া পুলডার দিকে হাঁটা ধরছে জলঙ্গা। তিন দিন হয় পুলডার লগে জলঙ্গার দেখা নাই। রেল লাইনের এই পুলডা জলঙ্গার দোস্তের লাহান। রেল লাইনের পুলের কাঠের উপর দুই ঠ্যাং ঝুলাইয়া বইলে জলঙ্গার মনে হয় যেন পরানের দোস্তের পিঠে পিঠ লাগাইয়া বইস্যা রইছে।

এই লোহার পুলডার উপর দিয়া সারাদিন দুইবার রেলগাড়ি যায় – একবার বিয়ানে, আর একবার রাইতে। রেলগাড়ি যাওনের সময় পুলডা ঝমঝম কইরা হাইস্যা উঠে। এরপর আস্তে আস্তে চুপ মাইরা শুইয়া থাকে তিনডা খাম্বার উপরে। চুপ কইরা সব দ্যাহে। পুলের তল দিয়ে যেই পানি যায় হেই পানি কত মাইনষের  সুখ-দুঃখের কথা কয় পুলডারে – জলঙ্গা ভাবে। বিয়ানে আর রাইতে যহন রেলগাড়ি যায় পুলডার উপর দিয়া তহন যেন সারাদিনের খবর কইয়া যায় পুলডারে। পুলডাও যেন সবার সব কথা শুইনা বটতলা বাজারের বুইড়া মধু কবিরাজের লাহান খালি “হু হু” কইরা যায়।

রেল লাইনের এই লোহার পুলডার জন্য জলঙ্গার মন কান্দে। এই পুলডার উপর দুই ঠ্যাং ঝুলাইয়া পানির দিকে চাইয়া থাকলে জলঙ্গার পরাণডা জুড়ায় যায়। পুলডারে জলঙ্গার এত ভাল লাগে ক্যান? জলঙ্গা বুঝে না। জলঙ্গা খালি এট্টুক বুঝে মনডা খুইল্যা পুলডারে সব দ্যাহান যায়, কওন যায়। মনের মইদ্যে যেই প্রশ্নই থাউক, হেইডা জিগান যায় পুলডারে। লোহার পুলডার কাঠের উপর বইয়া বেলা ডুবন দেখতে দেখতে জলঙ্গার বুকটা কেমুন জানি মোচড় মাইরা উঠে। মনে লয় ঝপ কইরা পুল থাইক্যা পানির মইদ্যে ঝাপ দিয়া পড়ে। কিন্তু সোহাগীর ঘাটের হিজল গাছের ছাওয়াডা জলঙ্গার মনডারে বাইন্দা রাখছে। হিজল গাছের ছাওয়াডা দিনের শ্যাষ বেলায় সোহাগীর ঘাটে যহন লম্বা হইয়া পড়ে তহন জলঙ্গার মনে লয় ঘাটটার পানিত গলা ডুবাইয়া চউখ দুইডা বন্ধ কইরা ভাইস্যা যায়! পুলডার কাঠের উপর ঠ্যাং ঝুলাইয়া বওনের লগে লগে মনে হয় পুলডা চেতন হইছে। পুলডাত বইস্যা থাকতে থাকতে কত কথা যে জলঙ্গার মনের উপর দিয়া ভাইস্যা যায় তার শ্যাষ নাই। জলঙ্গা পুলডার লগে অনেক প্যাচাল পাড়ে। প্যাচাল যেন তার শ্যাষই হয়না। একদিন পুলডার উপর দিয়া পাড় হওনের সময় পূব পাড়ার মেহের গাজী জিগায়, “অই ছ্যাড়া, কার লগে কথা কস? পরী দেহসনি পানির মইদ্যে?”

জলঙ্গা কুনু জবাব দেয়না। আসলেই কি পরী আছে নি পানির মইদ্যে? জলঙ্গা ভাবে। দাদায় বাইচ্যা থাকলে জিগান যাইতো। দাদায় তো সব জানতো। জলঙ্গা ভাবছিল বাজানরে একবার জিগাইবো, কিন্তু বাজানের মিজাজের ঠিক নাই। এমনেই মায়ের সাথে মিজাজ করে পরায়ই। তার উপরে এই বৎসর বিষ্টিতে ধান নষ্ট হইছে আধান জমির। বাজানের মাথার ঠিক নাই। এইনার ধান না পাইলে ঘরের চাউল কিনন লাগবো। হেই দিন বিয়ানে মায় যহন কইল যে, এই বার ধান উঠলে বটতলায় মেলার থন জলঙ্গার লাগি একখান লাল তফন কিইন্যা দিতে হইবো, তহনই বাজান মিজাজ করছে, “জমিদারের পুত কি বিয়া বইতাছে, নয়া তফন লাগবো?”

মিজাজ কইরা বাইর হইয়া যাওনের পরে মায় যে হাইশেল পাড়ের ধুয়ায় ঘাম মুছনের সময়  চউখের পানিও মুছছে হেইডা জলঙ্গা ঠিকই দ্যাখছে। জলঙ্গার বুকটা তহনই মোচড় মাইরা উঠছিলো। বাজানের উপরে জলঙ্গার গোসসা হইছিলো মেলা – তফন কিইন্যা না দেউক, তয় মায়েরে এমন কইরা কইলো কেন বাজানে? ধান কি মায়ে নষ্ট করছে? বিষ্টি তো দিছে আল্লায়। আল্লা তো যা করে ভালোর জন্যই করে! এই কথা তো জলঙ্গা জুম্মাবারে মৌলবী সাবরে কইতে শুনছে। এর আগে চৈত মাসের শ্যাষে যহন ঝড়ে মন্ডলবাড়ীর বড় নারিকেল গাছ পাকঘরের উপরে পইরা মজু মণ্ডলের বুইড়া মা মরলো, তহনও তো মৌলবী সাব এই কথা কইছিলো জুম্মাবারে। হেইবার তো পরাণ কাকা গো ছনের চাইল ভাইঙ্গা পড়ছিল। পরাণ কাকার পোলা হারানের পোয়াতী বউ-এর হাত ভাঙ্গছিলো ঐ ভাঙ্গা চাইল পইড়া। জলঙ্গা গো বাড়ীর  একটা জাম গাছও ভাইঙ্গা পড়ছিলো ঐ ঝড়ে। ঐ ঝড়ে এত কিছু হওনের পর যহন মৌলবী সাব কইলো যে, আল্লার ইচ্ছাতে সব হয়, আল্লা না চাইলে গাছের পাতাডা পর্যন্ত নড়ানির ক্ষ্যামতা মাইনষের নাই; তহন ধান নষ্ট হইলে মায়ে কি করবো জলঙ্গা বুঝে না। কাঠের পুলে ঠ্যাং ঝুলাইয়া বইসা জলঙ্গা ভাবে আজ পুলেরে এই কথাডা জিগান লাগবো।

বাজানের বাগি নেওয়া জমির পানি বাইর করতে বাজান সহ হারুন চাচা, মফিজ চাচা আর বদি মিয়া গেছিলো মেম্বরের বাড়িতে। মেম্বর পানি বাইর করনের জন্যে নালা কাটতে রাজি হয় নাই। মেম্বরের পোলা সাইদ মিয়ার তিন নিঘার পুষ্কুনির পানি বাইর হইয়া যাইবো এতে। ঐ পানিত নাকি লাখ ট্যাকার মাছ আছে।  হেই মাছ ভাইস্যা গেলে নাকি মেম্বরের চলতো না।  মেম্বরের বাড়িত থেইক্যা ফিরা এইডা লইয়াও বাজন মিজাজ করছে। মেম্বরে কি কইলো হেই কথা যহন মায়ে জিগাইলো তহন পরথমে বাজান কুনু জবাব দেয় নাই। মায়ে যহন আবার জিগাইসে এই কথা, তহন বাজানে এক্কেবারে খেইপ্যা উঠছে। “অই বান্দীর ঘরে বান্দী, তুই জাইন্যা করবি কি এই কথা? মেম্বর কি তর আমার জন্য মেম্বর হইছে? নাকি তর বাপের খেদমত করতে ইলেকশন কইরা মেম্বর হইছে? শালা, জাউরা মেম্বর, কয় কি না তর বাপে দিবো মাছের ট্যাকা? হারামজাদা!”

 মুরুব্বী গো কথা জলঙ্গার বুঝে আসে না। ইলেকশনের সময় মেম্বরের পোলা আর তার লোকেরা  বাড়িত আইয়্যা বিড়ির প্যাকেট দিয়া গ্যাছে। ইলেকশনের আগের রাইতে ট্যাকাও দিছে। এতো মাইনষেরে যে বিড়ি খাওইয়াইতে পারে, ট্যাকা দিতে পারে, হ্যার কি ট্যাকার অভাব? হের পুষ্কুনির কয়ডা মাছ ভাইস্যা গেলে হে কি না খাইয়া মরবো? পুলডার কাঠের উপর বইস্যা লোহার পুলডারে জলঙ্গা জিগাইলো এই কথা।

আবার বিষ্টি শুরু হইছে, হাওয়াও দিতাছে। ভিজা তফন আর ভিজা গেঞ্জিতে ঠান্ডা হাওয়া লাইগা জার করতাসে জলঙ্গার। জারে ধরলেও জলঙ্গার উঠতে মন চাইতেছে না। পুলের তলের পানির তোরে আর শব্দে জলঙ্গার বুকের রক্ত তিরতির কইরা ছুইট্টা যাইতাছে যেন!  মনে হইতাছে জোর দম নিয়া ঠান্ডা বাতাসে যদি বুকটা ভইরা ফালান যাইতো! পুলের তলের পানির দিকে চাইয়া জলঙ্গার মনে হইলো যে, এই পানির কি মজা!  এহনকার পানি এট্টু পরেই আর এইখানে নাই, ছুইট্টা যাইতাছে দূরে। এর পর ভাইস্যা যাইতাছে কোন দ্যাশে কে যানে। জলঙ্গার যদি দুইডা পাখা থাকতো তাইলে এই পানির সাথে সাথে এর উপর দিয়া জলঙ্গা উইড়া যাইতো দূরের দ্যাশে।

আইচ্ছা পানির তলে কি আসলেই পরী আছে? পুলের উপর দুই ঠ্যাং ঝুলাইয়া বইসা জলঙ্গা ভাবে – হেই দিন যে মেহের গাজী কইলো।  তো পুলের উপর অনেক বারই বইছে, কুনু দিন তো দ্যাহে নাই। পরীরা পানির তলে কি করে? পানির তলে কি পরী গো দ্যাশ আছে? হেই দ্যাশেও কি এমন বিষ্টি হয়? কিন্তু পানির মইদ্যে বিষ্টি হয় কেমনে? পরী গো দ্যাশেও কি মেম্বর আছে? কিন্তু পরীরা তো মাইয়া, হেই দ্যাশে তাইলে মেম্বর থাকবো  কেমনে? পরীর দ্যাশে মনে হয় মেম্বর নাই ভাবে। পানির তলের পরীরা মনে হয় অনেক সোন্দর। একদিন বুড়ি জরিনা ভিক্ষা চাইতে আইলে  খাইতে দিছিলো। পানি খাইয়া র মাথায় হাত রাইখা দোয়া করছিলো, “তরে যেন আল্লইয় পরীর লাহান বউ দেয়”। হেই থেইক্যা  জানে যে পরীরা সোন্দর হয়।

পরীরা সোন্দর হইলেও একই রকম সোন্দর কি না এইডা অবশ্য  জানে না। হেই দিন বিকালে পশ্চিম পাড়ার নাসিমা বু’র লগে ইস্কুলের রাস্তা দিয়া যাওনের সময় হারুন মোল্লার পোলা রহিম যহন শীষ বাজাইয়া কইলো, “পরী নামছে গো আসমান থেইক্যা, কালা পরী নামছে”, তহন  অবাক হইয়া  এই দিক ওই দিক চাইয়া পরী খুজতাছিলো। এমন সময় নাসিমা বু চউথ মুছতে মুছতে র হাত ধইরা টান মাইরা যহন চইল্যা আসতাছে তহন  বুঝলো পরী নামে নাই আসমান থেইক্যা। এই কথা নাসিমা বুরে দেইখ্যা কইছে রহিমে। কিন্তু নাসিমা বু তো বেজাই কালা, আধারে খালি দাত দেহা যায়। তই হে পরী কইলো কেমনে?  পরীরা তো সোন্দর হয়? নাকি আসমানের পরীরা কালা হয়?  পুলডারে জিগায়, “ও পুল, কস না আসমানের পরীরা কি কালা?” পুলডা এই কথা শুইন্যা হো হো কইরা যেন হাইস্যা উঠলো।

পুলের উপর বইসা সোহাগীর ঘাটটার দিকে চাইয়া রইছে । ঘাটটা বিষ্টিত ভিইজ্যা চিক্ চিক্  করতাছে যেন এইমাত্র কাইন্দা গাল ভিজাইছে। ঘাটের পাশ দিয়া ছাতা মাথায় আবুল স্যাররে যাইতে দ্যাহা যাইতাছে।  আবুল স্যার এক্কেবারে মাথা নিচ কইরা হাইট্যা যাইতাছে। স্যারে রে দেইখ্যা র মনডা খারাপ হইয়া গেলো। আবুল স্যারের কি জানি হয়ছে। আরর একদিন বাজানের লগে হাট কইরা  ফিরানের পথে মায়ের ওষুদ লইতে বজলু মামার ফার্মেসিতে ঢুকলে পরে ঐ খানে বসা লোকজন আলাপ করতাছিলো আবুল মাস্টারের মাইয়ারে কারা জানি চিঠি দিছে, ঘরের থেইকা উঠায় নিবো। স্যারের জন্য র খুব মায়া হয়। স্যার কত সোন্দর সোন্দর কথা কয়, সোন্দর কইরা বুঝায় পড়ায়। আবুল স্যারেই তো কইছিলো, মাইনষের শইল্যের ভিতরে যেই মনডা থাকে তার চউথ কান হাজার হাজার। হাজার চউথ কান খুইল্যা রাখলে না কি চাইর দিকের হাজার রকমের দুনিয়ার মজা দ্যাহন যায়, শুনন যায়, বুঝন যায়।  হাজার চউথ-কান বুঝে না।  খালি বুঝে এই পুলডার উপরে বইলে চাইর পাশের দুনিয়ার অনেক মজা বুঝন যায়। এই যে পুলের তলের পানির শব্দের মজা; চুপ কইরা পইড়া রইছে যে পুল হেও তো কথা শুনে – হেইডাও তো মজা। সোহাগীর ঘাটটা সারাটা দিন খিলখিল কইরা হাসে-হেইডাও এক মজা। ঘাটের পাশের হিজল গাছটা চুপ কইরা কি জানি কি ভাবে-তাও তো আর এক রকম মজা।

এতো সব মজা দেইখা র মনে হয় গেরামের দুনিয়ায় মজা নাই কেন? মৌলবী সাবের কথার মতো সবার ভালার জন্যে আল্লায় ক্ষেতের পানি শুকায় না কেন? মায়ের কথা শুইনা বাজান খালি মিজাজ করে কেন? পুষ্কুনীর কয়ডা মাছের জন্য মেম্বর পানি আটকায় রাখে কেন? পরী বইল্যা ডাকলেও নাসিমা বু চউথ মুছতে মুছতে বাড়িত যায় কেন? আবুল স্যারের মতো ভালা মাইনষের মাইয়ারে এমুন খারাপ চিঠি দেয় কেন? পুলডারে জিগায় এই কথা।পুলডা  কুনু কথা কয় না। পানির তোড়ে পুলডা যেন এট্টু কাইপা উঠে।   দুই ঠ্যাং দিয়া পুলের কাঠটা শক্ত কইরা চাইপা ধরে। জলঙ্গার মনে চায় বুকটা ভইরা  ঠান্ডা বাতাস নিয়া বিষ্টিতে পুলের পানিতে ভাইস্যা পরীর  দ্যাশে  চইল্যা য়াইতে।  বুকটা ভইরা একটা লম্বা দম নেয়।

কমেন্ট করুন
ব্যবস্থাপক |

সদস‍্য, সম্পাদনা পর্ষদ, প‍্যাপাইরাস

প্রাক্তন শিক্ষার্থী

পরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সেশন:১৯৯৯-২০০০

রোকনুজ্জামান

সদস‍্য, সম্পাদনা পর্ষদ, প‍্যাপাইরাসপ্রাক্তন শিক্ষার্থীপরিসংখ্যান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সেশন:১৯৯৯-২০০০