কালের খেয়া

যুগের শিখা যাচ্ছে চলে, নতুন সূর্যের আগমনে
কথার ঝুলি বাড়ছে তবু কথার রশি কেউনা টানে!
বাটন ফোনের দিনগুলোতে, হিসাবী সেই বার্তালাপে
শব্দগুলো গুনে যেথায় ভাবনা রসের কলি ফোটে।
কালগঙ্গার গভীর স্রোতে হারিয়ে তারা দিবালোকে
জায়গা করে নিচ্ছে তারা নতুনদের এই রঙিন চোখে।
লোডশেডিংয়ের পূর্ণিমাতে নামতো মেলা উঠান জুড়ে
লুকোচুরির আসর জমতো রাত্রের ঐ বুক চিরে।
কেউবা বাঁশির করুণ সুরে বিছাতো মনের কল্পনা
বিদ্যুতের আগমনে ভেসে যেত তার আল্পনা।
বিজলিবাতির বানের তোড়ে হারিয়ে গেছে দিনগুলো
চাঁদের বুড়ির সেলাই কাঁথা হয়েছে আজ মনভুলো।
আমের পাতায় নতুন গুড়ের, স্বাদের গন্ধ আজ না পাই
দু-এক গাছে রসের কলস, অতীত স্মৃতি দেখিয়ে যায়।
নতুন ধানের আগমনে, নবান্নতে জমতো তাই
রসের পায়েস-ক্ষীরের পুলি, শীতের সকালে আর কী চাই!
শীতের সকাল আজও আসে, অতীত ছবি খুঁজে বেড়াই
দু একখানা চাদর ছাড়া, আজ আর কিছু দেখতে না পাই।
বাদল দিনের কদমফুলের গন্ধ আজও প্রচুর পাই
কাঁচা আমের ঘ্রাণের মাতম বাতাসে বড্ড অভাব তাই।
বৃষ্টি নামে আকাশ ছেয়ে, গ্লাসডোরেতে জলের ঝাঁজ
টিনের চালের শব্দ নেই তো, দ্বন্দ্ব কোথায় হয়েছে আজ?
মেঘের ঢাকে কৈয়ের ঝাঁকে শত বার দৌড়ে যাই
রক্তচক্ষু উপেক্ষাতে জলকাদায় ঘুরে বেড়াই।
কাদাপাকের গল্পগুলো হারিয়ে এখন রূপকথায়
বালির ঢিবি জমছে হেথা শৈশবের ঐ স্মৃতিকোঠায়।
মাল্টিপ্লেক্স হচ্ছে এখন, উঠছে সুদূর আকাশপানে
ছাদে দাঁড়িয়ে মন কি আর ফিরেছে ঐ মাটির টানে?

কমেন্ট করুন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট