পূর্নিমার নৌকাবিলাস

তোমায় নিয়ে ভাসবো সেদিন-
নিস্তব্ধতার ব্রতরত কোনো  অর্বাচীন পল্লীর পাশ দিয়ে ধাবমান এক নদীর বুকে।
পূর্নিমার যে তিথিতে সব বাতি যাবে নিভে
অন্ধকারের পর্দা মাড়িয়ে নামবে জ্যোৎস্নার সহস্রধারা
দিগন্ত জোড়া উদোম মাঠে ধানের চারাগুলো
চন্দ্রালোকের দ্রাক্ষা রসে মাতাল হবে যেদিন।
আকাশের পশলা বৃষ্টিতে বাতাস ভেদ করে  মাটি কে করবে শুদ্ধ
ভেজা মাটির ঐ সোঁদা গন্ধে মিশেল হবে কচি ধানের নিঃশ্বাস
তোমায় নিয়ে ভাসবো সেদিন-
ডিঙি খানা ঠিক বুকের মাঝে রেখে ভাসবো সেদিন-
চাঁদের আলোয় নদীর বুক উঠবে চিকমিকিয়ে
তোমার মুখশ্রী জুড়ে নামবে আলোছায়ার লুকোচুরি
মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়তে চেয়ে ছটফট করা কেশরাশি,
অকারণে ছুটে যেদিন থেমে যাবে
তোমায় নিয়ে ভাসবো সেদিন –
কান্ত তনু হেলবে তোমার কোলে
কুন্তল ঘিরে তোমার অঙ্গুলি পরশে জাগবে ওরা
দ্রাক্ষা ভেজা এক ডালি বাতাস ভিজিয়ে দিবে ওদের
আঁচল ডুবিয়ে সেই রস পান করবো আমরা
নদীর জলে তখনো ছলাৎ ছলাৎ শব্দের গুঞ্জন
ভাঙার খেলায় উন্মাদ জলরাশির ভ্রূক্ষেপহীন দৃষ্টিতে
আটকে রবে আমাদের মাতাল অনুভবের কালক্ষেপণ
সময়ের ঘূর্ণিতে আটকে পড়ে দিশা হারাবার পথে
এই স্মৃতিই মৃতসঞ্জীবনী পান করাবে আমাদের।

কমেন্ট করুন
প্রাক্তন শিক্ষার্থী | সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট